রাজা চেরামান পেরুমল (তাজউদ্দীন) রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু - ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম !

রাজা চেরামান পেরুমল (তাজউদ্দীন) রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু - ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম !

চেরামান পেরুমল (তাজউদ্দীন) রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বপ্রথম ব্যক্তি যিনি পবিত্র ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন এবং শেষ নবী হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র সাহচর্য লাভ করে সাহাবী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। চেরামান পেরুমল কথাটির অর্থ হল “the Great One of the Chera People” অর্থাৎ চেরাদের মধ্যে সেরা ব্যক্তি। কেরালায় একসময় চেরারাজবংশ রাজত্ব করত।

উনার নিবাস ছিল ভারতের বর্তমান কেরালা প্রদেশের মালাবার অঞ্চলের কোডুনগাল্লুর এলাকায়। উনি উক্ত অঞ্চলের সম্রাট ছিলেন। একাধারে ২৬টি বৎসর তিনি রাজা হিসেবে অধিষ্ঠিত ছিলেন। পুরো দক্ষিণ ভারতের ২৫০০ মাইলেরও বেশী এলাকা জুড়ে উপকুলীয় এ রাজ্যের সীমানা ছিল বিশাল। অনেক বিখ্যাত ঐতিহাসিক তাঁর ইসলাম ধর্ম গ্রহনের কাহিনী লিপিবদ্ধ করেছেন।

চেরামান পেরুমল (তাজউদ্দীন) রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু নিজ অঞ্চলে থেকে শেষ নবী হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চন্দ্র দ্বিখন্দিত করার মুজি'জা শরীফ স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণ করেন। পবিত্র কুরআন শরীফের সূরা-ক্বমার-এ এই চন্দ্রদ্বিখন্ডনের মুজি'জা শরীফের কথা উল্লেখ আছে।

তাফসিরে মাআরিফুল কুরআনে উক্ত সূরার ব্যাখ্যায় এই ভারতীয় সাহাবীর ইসলাম ধর্ম গ্রহনের কথা উল্লেখ আছে। ওখানে আরো বলা আছে যে, মালাবারের এই মহারাজা ডায়েরী লিখতেন। যেদিন এই চন্দ্রদ্বিখন্ডনের মুজেজা শরীফ সংগঠিত হয়, উনি সেইদিনের ঘটনা সবিস্তারে তারিখ সহ লিখে গেছেন। উনার রচিত সেই ডায়েরী এখনও সংরক্ষিত আছে।

সেদিন রাতে রাজা চেরামান পেরুমল (তাজউদ্দীন) রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু রাজপ্রসাদের ছাদে বসে ছিলেন অন্যান্যদের সাথে। হঠাৎ চাঁদকে দ্বিখন্ডিত হতে দেখে তিনি, রাণী সহ ও তাঁর সভাসদরা যারপরনাই বিস্মিত হন। মাত্র কিছুদিনের মধ্যেই মালাবার উপকুলে আগত আরব বনিকদের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে, মহান সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে আরবে একজন মহান নবী ও রসূল আত্বপ্রকাশ করেছেন, তিনি একত্ববাদ প্রচার করেন, তিনিই নিজ হাতের ইশারায় চাঁদকে দ্বিখন্ডিত করেছিলেন। এ কথা শুনে অভিভূত রাজা চেরামান পেরুমল আরবের সেই মহান রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে স্বাক্ষাতের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেন, শেষ পর্যন্ত তিনি পবিত্র মক্কা শরীফের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন একদল আরব বনিকদের সাথে।

হিজরতের পূর্বে সম্ভবত ৬১৯-৬২০ খৃষ্টাব্দে, ২৭ শে শাওয়াল সকাল ৯টার দিকে প্রিয় রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উনার সাক্ষাৎ হয়। সেখানেই তিনি স্বয়ং রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন।

প্রখ্যাত সাহাবী সিদ্দীকে আকবর হযরত আবু বক্কর সিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সহ আরও কয়েকজন সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার উপস্থিতিতে স্বয়ং আল্লাহর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম রাখেন তাজউদ্দীন। রাজা চেরামান পেরুমল, রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য উপঢৌকন হিসাবে দক্ষিণ ভারতের বিখ্যাত আচার নিয়ে গিয়েছিলেন। ভারতীয় এক বাদশাহ কর্তৃক আদার সংমিশ্রণে তৈরী সেই আচার সংক্রান্ত একটা হাদিস শরীফও আমরা দেখতে পাই, প্রখ্যাত সাহাবী আবু সাইদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে হাদিসটিতে!

হাদীস সঙ্কলনকারী হাকিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুস্তাদরাকনামক কিতাবে হাদীসটি সঙ্কলন করেছেন। হাদীস শরীফের বর্ণনাকারী সাহাবী হযরত আবু সাঈদ আল খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু, ভারতীয় সাহাবী তাজউদ্দীন রদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে মালিকুল হিন্দতথা ভারতীয় মহারাজবলে সম্বোধন করেন।

عن ابى سعيد الخدرى (رضى لله عنه) قال اهدى ملك الهند الى النبى (صلى الله عليه وسلم) جرة فيها زنجبيل فاطعم اصحابه قطعة قطعة واطعمنى منها قطعة
[رواه المستدرك حاكم]
হযরত আবু সাঈদ সাদ বিন মালিক বিন সিনান আল খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ ভারতীয় মহারাজ রসূলপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য এক বয়াম আচার নিয়ে আসলেন যার মধ্যে আদার টুকরা ছিল। রসূলপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেই টুকরাগুলা উনার সাহাবীদের ভাগ করে দিলেন। আমিও খাবার জন্য একটি টুকরা ভাগে পেয়েছিলাম।

প্রখ্যাত সাহাবী হযরত মালিক ইবনে দীনার রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার বোন হযরত রাজিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহা উনার সাথে রাজা পেরুমল তথা সাহাবী তাজউদ্দীন রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার বিয়ে হয়। তিনি সেখানে প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ বৎসর অবস্থান করে রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক নির্দেশ অনুযায়ী ভারতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। উনার সাথে হযরত মালিক ইবনে দীনার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সহ আরও কয়েকজন সাহাবী ছিলেন।

কিন্তু পথিমধ্যে দক্ষিণপূর্ব আরবের এক বন্দরে (বর্তমান ওমানের সালালা শহর) অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন। আজও উনার রওজা শরীফ ওমানের সালালা শহরে কালের স্বাক্ষী হয়ে আছে। মর্যাদাবান এক সাহাবী হিসেবে বিশ্বের মুসলমানদের কাছে সেটি এক অনবদ্য আকর্ষণ।

সাহাবী হযরত মালিক ইবনে দিনার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও উনার বোন রাজিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু দলবলসহ কেরালায় আসেন এবং এখানেই উনারা বসতি স্থাপন করেন। এর আগে থেকেই সেখানে এক বিরাট আরব বনিকদের বসতী গড়ে উঠেছিল। সাহাবী হযরত মালিক ইবনে দিনার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সেখানে ভারতের প্রথম মসজিদ স্থাপন করেন। সেখানেই এই মহান সাহাবী ও উনার বোন হযরত রাজিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহা ওনাদের রওজা শরীফ আজও বিদ্যমান রয়েছে।

এই মসজিদ পৃথিবীতে, মসজিদ-এ নববীর পর দ্বিতীয় জুমা মসজিদ হিসাবে আখ্যায়িত, যেখানে প্রায় সাড়ে ১৪০০ বছর ধরে জুমার নামাজ আদায় করা হচ্ছে।

রবীন্দ্র বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে ছিলনা।

রবীন্দ্র বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে ছিলনা।

রবীন্দ্র বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে ছিলনা। ১৯১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি গান্ধীর 'হিন্দি ভাষার ভবিষ্যৎ' সম্বন্ধে প্রশ্নের উত্তরে রবীন্দ্রনাথ লিখে “Hindi is the only possible national language for inter-provincial intercourse in India.” অর্থাৎ, ভারতের আন্ত-প্রাদেশিক রাষ্ট্রভাষা হিসেবে হিন্দিই সম্ভাব্য একমাত্র ভাষা।

শান্তিনিকেতনে হিন্দিকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য সে আন্দোলন করোর এই আন্দোলনে তাকে সাহায্য করে ভাষা বিজ্ঞানী সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় ও ক্ষিতিমোহন সেন। রবীন্দ নিজে হিন্দি জানত না কিন্তু হিন্দিকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষপাতী ছিলএমনকি শান্তি নিকেতনে হিন্দি ভাষার চর্চার জন্য রবীন্দ্র হিন্দি ভবনপ্রতিষ্ঠা করে

শুধু কি রবীন্দ্র? বাংলা সাহিত্যের সকল জায়ান্ট সাহিত্যিক ছিল হিন্দিকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে। রমেশচন্দ্র মজুমদার, যদুনাথ সরকার, মেঘনাদ সাহা, সুকুমার সেন, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, বালাইচাদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল) কেউই ভারতের রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে হিন্দির বাইরে বাংলাকে নিয়ে ভাবেনি। এমনকি বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছিএর কবি জীবনানন্দ দাসও চেয়েছিল হিন্দিই হোক ভারতের রাষ্ট্রভাষা।

রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে-বিপক্ষে অন্নদাশঙ্কর রায়ের ভূমিকা ছিলো ডাবল স্ট্যান্ডার্ড। ভারতের রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে সে ছিল হিন্দির পক্ষপাতী আর পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে সে ছিল বাংলার পক্ষপাতী। এমনকি তার লেখনীর মাধ্যমে সে ভাষা আন্দোলনকে প্রমোট করেছে
ভাষা আন্দোলনের মৃতদের উদ্দেশ্যে লিখে-
প্রাণ দিল যারা ভাষার জন্যে কি হবে না তাদের?
জয় তো তাদের হয়েই রয়েছে জনতা পক্ষে যাদের।
বাংলা ভাষার জন্য এরকমই ছিলো তার দরদ!

গান্ধীর মাতৃভাষা ছিলো গুজরাটি। কিন্তু সে তার প্রথম ও প্রধান বই হিন্দু স্বরাজলিখে হিন্দি ভাষায়। মাতৃভাষার জন্য তার দরদ থাকলেও ভারতের রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে সেও ছিল হিন্দির পক্ষে। হিন্দু স্বরাজে সে লিখে – “A universal language for India should be Hindi.” ভাষার প্রশ্নে মানুষ গান্ধীর চেয়ে রাজনীতিবিদ গান্ধীবড় হয়ে উঠে

গান্ধীর মতো কংগ্রেসের বড় বড় নেতা যেমন- বালগঙ্গাধর তিলক, জওহরলাল নেহরু, রাজেন্দ্রপ্রসাদ, সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল প্রমুখ সবাই ছিল হিন্দিকে রাষ্টভাষা করার পক্ষে। এমনকি বাঙ্গালি নেতা সুভাষ চন্দ্র বসুও ছিল হিন্দির পক্ষে।

বড় বড় সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ সবাই ছিল ভারতের রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে হিন্দির পক্ষে। এটা দেখে কেউ মনে করতে পারে যে, তখন মনে হয় হিন্দি ভাষা ছিলো ভারতের বেশিরভাগ মানুষের মুখের ভাষা। আদতে হিন্দি ছিলো ভারতের সংখ্যালঘু মানুষের মুখের ভাষা। অন্তত রবীন্দ্রর সময়ে।

ভারতে হিন্দির আধিপত্য কায়েমের প্রশ্ন উঠলে ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল চক্রবর্তী রাজা গোপালচারী ১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে লিখে-
“…it is well known by now the Hindi is not the language of the majority of our people…Hindi is, at best the language of a large minority.”

দুই.
ভারতকে রামরাজ্য হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তিনটি মূলস্তম্ভ ছিলো। হিন্দু ধর্ম, হিন্দি ভাষা এবং হিন্দুস্থান নামে একটি ভূখণ্ড।

ব্রিটিশরা ১৮৩৭ সালে ফারসিকে সরিয়ে ইংরেজিকে রাষ্ট্রভাষা করে এবং ১৮৫০ সালে প্রশাসনিক সুবিধার্থে উর্দুর গুরুত্ব বুঝতে পেরে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুকে সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। অন্যদিকে হিন্দুরা হিন্দিকে সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতির জন্য আন্দোলন শুরু করে। যার ফলশ্রুতিতে ব্রিটিশ সরকার ১৯০০ সালে উর্দু ও হিন্দি উভয় ভাষাকে সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

১৯১৮ সালের ২৯ মার্চ ইন্দোরে অনুষ্ঠিত অষ্টম হিন্দি সাহিত্য সম্মেলনে গান্ধী প্রস্তাব করে হিন্দিকে রাষ্ট্রভাষা করার। হিন্দি ভাষার প্রসারের জন্য সে হিন্দি ভাষার পাঁচজন এম্বাসেডরকে সেসব প্রদেশে পাঠায় যেখানে হিন্দি ভাষার প্রচলন ছিলোনা। সেই পাঁচজন এম্বাসেডরের মধ্যে একজন ছিল তার ছোট ছেলে দেবদাস গান্ধী।

১৯৩৭ সালের নির্বাচনের আগে কংগ্রেস তার নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে হিন্দিকে রাষ্ট্রভাষা করার কথা বলে।

হিন্দিভাষী না হয়েও এসকল সাহিত্যিক আর রাজনীতিবিদদের হিন্দিপ্রেমের মূলে ছিলো তাদের ধর্মীয় অনুপ্রেরণা এবং রাজনীতি। যার ফলে সাহিত্যিক রবীন্দ্রর চেয়ে ধার্মিক রবীন্দ্র, মানুষ গান্ধীর চেয়ে রাজনীতিবিদ গান্ধী বড় হয়ে উঠে। ভাষিক আবেগের চেয়ে ধর্মীয়-রাজনৈতিক আবেগকে তারা প্রাধান্য দিয়েছে বেশি।

এরই ফলশ্রুতিতে রবীন্দ্রর লিখা এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরেমূল গানটি ভারতের জাতীয় সঙ্গীত না হয়ে এর হিন্দি অনুবাদ 'জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা!' গানটি ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হয়।

সাংবিধানিকভাবে ভারতের কোনো রাষ্ট্রভাষা নেই। এই দেখে এটা ভাবার কোনো অবকাশ নাই যে, ভারত হিন্দি ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার কথা বললেও করা হয়নি; বরং কাগজে কলমে করতে পারেনি।

একসময় তারা চেয়েছিলো হিন্দিকে রাষ্ট্রভাষা বানাতে। কিন্তু দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষ এর বিরোধিতা করে, অনেক মানুষ মারাও যায়।

হিন্দিকে রাষ্ট্রভাষা বানানোর প্রতিক্রিয়ায় দাক্ষিণাত্য ও আসামে রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা হয় এবং বিপুল মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
- ১৯৬৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাদ্রাজে ১ পুলিশ জীবন্ত দগ্ধ এবং ১১ জন গুলিতে নিহত হয়। আহত ৬০ জন।
- ১৩ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ও জনতার সংঘর্ষে ১০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়। সেনা মোতায়েন করা হয়। কিন্তু মাতৃভাষার জন্য আন্দোলনকারী রাস্তায় থাকে।
- ১৪ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হয় ২৪ জন। আহত ৩০ জন।
- ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৫০ জন।

তিন.
বাংলা কোনো কালেই এই অঞ্চলের রাষ্ট্রভাষা ছিলোনা। বৌদ্ধ আমলে পালি, হিন্দু সেন আমলে সংস্কৃত, মুসলমান আমলে ফারসি এবং ইংরেজ আমলে ইংরেজি ছিলো রাষ্ট্রভাষা। প্রায় ৭০০ বছর ফারসি ছিলো বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা।

কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বাংলাদেশের মানুষের মাতৃভাষা কেউ কেড়ে নেয়নি এবং সেটা সম্ভবও ছিলোনা।

জিন্নাহ পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে ১৯ মার্চ ১৯৪৮ সালে পূর্ব বাংলায় আসে ১০ দিনের সফরে।
রেসকোর্স ময়দান এই অঞ্চলের প্রাদেশিক ভাষার প্রশ্নে তিনি বলেনঃ
Whether Bengali shall be the official language of this province is a matter for the elected representatives of the people of this province to decide. I have no doubt that this question shall be decided solely in accordance with the wishes of the inhabitants of this province at the appropriate time.
…. People of this province to decide what shall be the language of your province.

অর্থাৎ, এই অঞ্চলের জাতীয় ভাষা কী হবে তা এই অঞ্চলের জনগণ ভোটের মাধ্যমে নির্ধারণ করবে। একই কথা তিনি বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানেও।

এরই প্রেক্ষাপটে খাজা নাজিমউদ্দীন পরিষদে বাংলাকে পূর্ব বাংলার সরকারি ভাষা হিসেবে পাস করিয়ে আইনগত ভিত্তি দেন ৬ এপ্রিল ১৯৪৮ সালে। এই আইন যখন পাস হয় তখনও পশ্চিম বাংলায় বাংলা সরকারি ভাষা হিসেবে মর্যাদা পায়নি। অর্থাৎ, বাংলা ভাষা প্রথমবারের মতো এই অঞ্চলের প্রাদেশিক ভাষার মর্যাদা পায় পাকিস্তান আমলে!

কিন্তু, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে জিন্নাহর মত ছিলো উর্দুর পক্ষে। অনেকেই মনে করেন, জিন্নাহর মাতৃভাষা বুঝি উর্দু ছিলো। আদতে জিন্নাহর মাতৃভাষা ছিলো গান্ধীর মতো- গুজরাটি। এমনকি সে উর্দু ভাষা জানতও না। তার কাজকর্মের ভাষা ছিলো ইংরেজি। ‘Urdu and only Urdu shall be the state language of Pakistan’ বলে সে যেই বক্তৃতা দিয়েছিল সেটি পর্যন্ত ইংরেজিতে দিয়েছিল, উর্দুতে নয়।

জাতীয় স্বার্থে গুজরাটিভাষী হয়েও গান্ধী যেমন চেয়েছিল ভারতের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে হিন্দিকে, তেমনি জিন্নাহও চেয়েছিল উর্দুকে।

বাংলা ভাষা যে অবিভক্ত ভারত কিংবা পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হতে পারে, সেটা কেউ দুঃস্বপ্নেও হয়তো ভাবেনি। অভিবক্ত ভারতের রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে বিতর্ক ছিলো- উর্দু নাকি হিন্দি, কোনটি হবে ভারতের রাষ্ট্রভাষা?

বাংলার বাঘহিসেবে পরিচিত শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক মনে করতেন উর্দু হচ্ছে ভারতীয় মুসলমানদের স্বভাবজাত ভাষা। ১৯৩৮ সালের ১ অক্টোবর কলকাতায় অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনে বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সভাপতির ভাষণে তিনি হিন্দির পরিবর্তে উর্দুকে ভারতের সাধারণ ভাষা (লিংগুয়া ফ্রাঙ্কা) রূপে গ্রহণের প্রস্তাব করেন।

বাংলাদেশের খাঁটি বাঙ্গালি হয়েও ফজলুল হক বিয়ে করেছিলেন অভিজাত উর্দু পরিবারে, সেই হিসেবে তার ঘরের ভাষা ছিলো উর্দু। তিনি নিজেও স্বচ্ছন্দ্যে উর্দু বলতে পারতেন। মাওলানা ভাসানী এবং শেখ মুজিবুর রহমানও বেশ ভালো উর্দু বলতে পারতেন।

জিন্নাহকে বাঙ্গালী পারলে কবর থেকে তুলে এনে ফাঁসিতে ঝুলায়! বাঙ্গালীর কাছে জিন্নাহ অপরাধীহয়ে আছে কেবল ‘Urdu and only Urdu shall be the state language of Pakistan’ এই কথাটির জন্য।

অথচ রবীন্দ্রর প্রায় একই কথা (Hindi is the only possible national language for inter-provincial intercourse in India) বলা স্বত্তেও তারা বেখসুর খালাস পেয়ে যায়।

রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে আন্দোলন ছিলো ভাষা আন্দোলন, মুখের ভাষা কেড়ে নেবার নয়

রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে আন্দোলন ছিলো ভাষা আন্দোলন, মুখের ভাষা কেড়ে নেবার নয়

ভাষা আন্দোলনের পর কিছু ন্যারেটিভ তৈরি হয়। যার বেশিরভাগই ছিলো বানোয়াট এবং মিথ্যে ন্যারেটিভ। তারমধ্যে একটি হলো মুখের ভাষা কেড়ে নেওয়াশিল্পী আবদুল লতিফের গানের মধ্যে এরকম লাইন খুঁজে পাইঃ
ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়
ওরা কথায় কথায় শিকল পরায় আমার হাতে পায়।

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ লিখেন মাগো ওরা বলেকবিতা। যেই কবিতার মধ্যে পাইঃ
মাগো ওরা বলে
সবার কথা কেড়ে নেবে।
তোমার কোলে শুয়ে
গল্প শুনতে দেবে না।

অথচ ভাষা আন্দোলন আদতে মুখের ভাষা কেড়ে নেবার বিপক্ষে আন্দোলন ছিলোনা, বরং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে আন্দোলন ছিলো। যখন ভাষা আন্দোলন হয় ততদিনে এই অঞ্চলের প্রাদেশিক ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষা স্বীকৃতি পেয়ে যায়। তাহলে কেন ভাষা আন্দোলনকে মাতৃভাষা রক্ষার আন্দোলননামে ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে?

এইসব স্লোগানের মধ্যে মিথ্যে আবেগ থাকলেও সত্যের ছিটেফোঁটা নেই। ভারতে হিন্দি ভাষা 'অফিশিয়াল' ভাষা হবার ফলে কি আসাম সহ ভারতের বাংলাভাষীদের মুখের ভাষা কেড়ে নেওয়া হয়েছে? কিংবা তামিল, তেলেগু এসব ভাষা কি হারিয়ে গেছে?

আবার, এই অঞ্চলের রাষ্ট্রভাষা বাংলা হবার ফলে কি এই অঞ্চলের আদিবাসীদের ভাষা কেড়ে নেওয়া হয়েছে?

আবহমান কাল থেকে এদেশের রাষ্ট্রভাষা ছিলো পালি, সংস্কৃত, ফারসি, ইংরেজি। অন্য ভাষা রাষ্ট্র ভাষা হবার দরুন কখনো তো বাংলা ভাষা হারিয়ে যায়নি। উর্দু ভাষা রাষ্ট্রভাষা হবার দরুন মুখের ভাষা কেড়ে নেবার কথা যারা বলেন, সেটা প্রোপাগান্ডা ছাড়া আর কিছুনা।

আরেকটা মজার বিষয় হলো, ভাষা আন্দোলন যেখানে ছিলো মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার আন্দোলন (মাতৃভাষা রক্ষার আন্দোলন নয়) সেখানে ভাষা আন্দোলনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রভাষা দিবসনা হয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসহিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে!


ভাষা আন্দোলনের ফলে আমরা কী পেয়েছি? আর এই আন্দোলনের উদ্দেশ্যই বা কতটুকু সফল হয়েছে?

এতো বছর পর এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গেলে এখনো দেখতে পাই, বাংলা আজও এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার ভাষা হতে পারেনি। বিজ্ঞান, গবেষণার কাজগুলোর লেখার ভাষা আজও বাংলা হয়ে ওঠেনি। উচ্চতর প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন- বিচার বিভাগ, ব্যাংক, বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানের কাজে বাংলা ব্যবহারোপযোগী হয়ে উঠতে পারেনি। বাংলা কেবল কবিতা, উপন্যাস আর নাটক-সিনেমার ভাষা হয়ে আছে!

এমনকি যারা ভাষা আন্দোলনকে প্রমোট করেছিলেন তাদের ঘরের ভাষা পর্যন্ত এখন আর বাংলা নেই! আবদুর রহিম নামের একজন লেখক একবার ইংল্যান্ডে বেড়াতে গিয়ে তার বন্ধু আবদুল গাফফার চৌধুরীর সাথে দেখা করতে চাইলেন, যিনি ছিলেন আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো, একুশে ফেব্রুয়ারিগানটির রচয়িতা। আব্দুল গাফফার চৌধুরীর বাসায় টেলিফোন করলে এক মেয়ে ফোন ধরে বিশুদ্ধ ইংরেজি ভাষায় কথা বলা শুরু করলে তিনি একটু অবাক হয়ে ভাবলেন, ভুল জায়গায় ফোন করলাম কি-না। কিছুক্ষণ পর নিশ্চিত হলেন, ইংরেজি বলা মেয়েটি আবদুল গাফফার চৌধুরীর মেয়ে। পরে জানতে পারলেন, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো, একুশে ফেব্রুয়ারিগানটির রচয়িতা আব্দুল গাফফার চৌধুরীর ছেলেমেয়েরা বাসায় নিজেদের মধ্যে ইংরেজিতে কথা বলে!

বাংলা ৮ ই ফাল্গুন ভাষা আন্দোলন হলেও ভাষা আন্দোলনের গান-কবিতায় যে তারিখটি জড়িয়ে আছে সেটিও বাংলা তারিখ নয়, ইংরেজি ২১ শে ফেব্রুয়ারি।

ভাষা আন্দোলনের তাত্ত্বিক উদ্দেশ্য কতটুকু পূরণ হয়েছে সেটা প্রশ্ন সাপেক্ষ। কিন্তু, এই আন্দোলন আমাদেরকে বানিয়েছে ভাষিক মৌলবাদযার ফলে উর্দু-ফারসি ভাষার প্রতি আমাদের তৈরি হয়েছে বিদ্বেষ। বাঙালী জাতীয়তাবাদ যারা লালন করে তাদের প্রায় প্রত্যেকেই এই দুটি ভাষাকে ঘৃণা করে।

পৃথিবীর সর্বত্র বহুভাষিতা যেখানে সাধারণ ঘটনা সেখানে আমরা সেই বিরল জাতিগুলোর একটি যারা একভাষী। আমরা না পারি ভালো বাংলা, না পারি ভালো ইংরেজি, না পারি ভালো আরবি। অথচ এদেশে সুলতানি শাসনামলে সুলতানদের ঘরের ভাষা ছিলো তুর্কি, ধর্মীয় ভাষা ছিলো আরবি আর রাজ-দরবারের ভাষা ছিলো ফারসি।

অফুরন্ত খনিজ সম্পদ থাকার পরেও ব্যবহার করা হচ্ছেনা কেন?

অফুরন্ত খনিজ সম্পদ থাকার পরেও ব্যবহার করা হচ্ছেনা কেন?

খনিজ সম্পদ অদৃশ্য রহস্যজনক কারণে আজও দেশবাসীর দৃষ্টির অন্তরালেই রয়ে গেছে। এ নিয়ে জনমনে মাঝে-মধ্যেই প্রশ্নের সৃষ্টি হলেও এতোদিনেও কেন এই খনিগুলোর উত্তোলন প্রক্রিয়া শুরু হয়নি এর কোন সঠিক উত্তর পাওয়া যায়নি।

১) কয়লার খনিঃ
বাংলাদেশে বর্তমানে আবিষ্কৃত কয়লা খনি ৫ টি। সেগুলো হচ্ছে ১. জামালগঞ্জ ২. বড়পুকুরিয়া ৩. ফুলবাড়ি ৪. খালিসাপাড়া ৫. দীঘিপাড়া। এগুলোতে মজুদ প্রায় ২৫০ কোটি মেট্রিক টন। বাংলাদেশের কয়লা সারা বিশ্বে সর্বোৎকৃষ্ট অথচ ভিন্ন দেশ কয়লা আমদানী করা হয়।

২) গ্রানাইট পাথরের খনিঃ  
দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়ায় অবস্থিত বাংলাদেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ গ্রানাইট পাথরের খনি। প্রায় এক বর্গকিলোমিটার এলাকায় অতি অল্প গভীরতায় গ্রানাইট পাথরের মজুত ১৭ কোটি ৪০ লাখ টন বলে প্রমাণিত হয়, যার প্রায় ৪২ শতাংশ উত্তোলনযোগ্য। বছরে ১৬ লাখ টন করে উত্তোলনের মাত্রা ধরে নির্মিত এই খনি ৭০ বছর ধরে উত্তোলনে থাকতে পারে বলে হিসাব করা হয়।
সারা বিশ্বের সেরা মানের পাথর হিসেবে গন্য করা হয়।
তারপরেও অন্য দেশ থেকে পাথর আমদানী করা হচ্ছে কার স্বার্থে ?

৩) লোহার খনি:
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় দেশের প্রথম লোহার খনির সন্ধান মিলেছে। ভূগর্ভের ১ হাজার ৩০০ ফুট থেকে ১ হাজার ৬৫০ ফুটের মধ্যে লোহার একটি স্তর পাওয়া গেছে। খনিটির আয়তন প্রায় ১০ বর্গকিলোমিটার। খনিতে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন টন লোহাসহ মূল্যবান পদার্থ রয়েছেএটি বাংলাদেশের প্রথম লোহার খনি।
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় আবিষ্কৃত লৌহ খনি পাওয়া গেছে

৪) চুনাপাথরের খনি:
নওগাঁর বদলগাছি উপজেলার তাজপুর গ্রামে দেশের সর্ব বৃহৎ চুনা পাথরের খনির সন্ধান পাওয়া গেছে । ৫০ বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত এই খনির চুনা পাথর দিয়ে দেশের সকল সিমেন্ট ফ্যাক্টরীর চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি সম্ভব হবে।
জয়পুরহাটের চুনাপাথর খনি জয়পুরহাট জামালগঞ্জ এলাকার ভূপৃষ্ঠ হতে ৫১৮ মিঃ নীচে প্রায় ৩৮৪ বঃ মিঃ এলাকা জুড়ে অবস্থিতধারণা করা হয় খনিটিতে মোট ১২০০ মিলিয়ন টন চুনাপাথর মজুদ আছে ।

৫) মূল্যবান ইউরেনিয়াম:
মৌলভীবাজারের জুড়ি উপজেলার হারাগাছা ও সিলেটের জৈন্তাপুরে মাটির নিচে অব্যবহৃতভাবেই পড়ে আছে মূল্যবান খনিজ সম্পদ ইউরেনিয়াম।
হারাগাছা ও জৈন্তাপুর থেকে সংগৃহিত মাটি পরীক্ষা করে সংশ্লিষ্টরা দেখেছেন, এখানে ইউরেনিয়াম প্রাপ্তির হার ৫০০-১৩০০ পার্টস পার মিলিয়ন (পিপিএম)বিশ্বের যেসব খনি থেকে ইউরেনিয়াম সংগ্রহ করা হয়। সেগুলোতে ৩শ থেকে এক হাজার পিপিএম ইউরেনিয়াম রয়েছে।অর্থাৎ বাংলাদেশের ইউরোনিয়াম পৃথিবি সেরা।

৬ ) পিট
বাংলাদেশের উত্তরপূর্ব, মধ্য ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের পানিভূমিতে পিটের মজুত রয়েছে। মোট মজুতের পরিমাণ ১৭ কোটি টনের বেশি। পিটের তাপোৎপাদক মান পাউন্ড প্রতি ৬০০০ থেকে ৭০০০ বিটিইউ। বাংলাদেশে গার্হস্থ্য কাজে, ইটের ভাটায়, বয়লারের জ্বালানি হিসেবে পিট ব্যবহূত হয়।

) গ্যাসঃ
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত বিভিন্ন আকৃতির ২২টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। এদের মধ্যে ২০টি গ্যাসক্ষেত্রে পরিমাপকৃত গ্যাসমজুতের পরিমাণ প্রায় ২৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। নতুন নতুন আরো অনেক গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হচ্ছে । যার সাথে আসছে তেল ও ।

) তেল
প্রাকৃতিক গ্যাসের সাথে গ্যাস কুপ হতে খনিজ তেল আহরন করা হয়। তেল সম্পদের মধ্যে আছে- ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন।
বাংলাদেশ দুটি পুরোনো গ্যাসক্ষেত্র সিলেটের কৈলাসটিলা ও হরিপুরে তেলের মজুদের সন্ধ্যান পেয়েছে বলে জানাচ্ছেন বাংলাদেশ তেল গ্যাস ও খনিজ সম্পদ কর্পোরেশন বা পেট্রোবাংলা।
কৈলাসটিলায় ভূপৃষ্ঠের তিন হাজার ২০০ মিটার থেকে চার হাজার মিটার গভীরতার মধ্যে পাঁচটি স্তরে মোট ১০ কোটি ৯০ লাখ ব্যারেল তেল রয়েছে বলে জরিপে ধারণা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চার কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল (মজুদের ৪০ শতাংশ হিসেবে) উত্তোলনযোগ্য।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জ্বালানি তেলের খনির অবস্থান উত্তরাঞ্চলের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান নামক স্থানে
গ্যাসের সাথে যে কন্ডেন্সার পাওয়া যায় তা থেকে অকটেন ও পেট্রোল পাওয়া যায়

) বাংলাদেশের অফুরন্ত সম্পদ
ব্লু ইকোনমি বিনিয়োগের নতুন দিগন্তে বাংলাদেশ। বঙ্গোপসাগরের অফুরান সম্পদ কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে আহরণ সম্ভব হলে ১০ বছরের মাথায় বাংলাদেশের অর্থনীতি অভাবনীয় উচ্চতায় পৌঁছবে বলে ধারণা করা হয়
বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ সীমানার অন্তত ১৩টি স্থানে রয়েছে সোনার চেয়েও মূল্যবান বালু, ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম।যাতে মিশে আছে ইলমেনাইট, গার্নেট, সিলিমেনাইট, জিরকন, রুটাইল ও ম্যাগনেটাইট। অগভীরে জমে আছে ক্লে’, যা দিয়ে তৈরি হয় সিমেন্ট। ধারণা করা হচ্ছে, এর পরিমাণ হিমালয়কেও হার মানাবে। এই ক্লে উত্তোলন সম্ভব হলে বাংলাদেশের সিমেন্ট কারখানাগুলো আরও শক্তিশালী হবে।
মোট মৎস্য উৎপাদনের ১৬ ভাগের অবদান বঙ্গোপসাগরের।
সাগর থেকে পাওয়া বায়ু, তরঙ্গ-ঢেউ, জোয়ার-ভাটা, জৈব-তাপীয় পরিবর্তন এবং লবণাক্তের মাত্রা ইত্যাদির মাধ্যমে ব্যাপক পরিমাণে নবায়নযোগ্য শক্তির জোগান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 
ভারি খনিজের মধ্যে রয়েছে ইলমেনাইট, টাইটেনিয়াম অক্সাইড, রুটাইল, জিরকন, গার্নেট, কোবাল্টসহ অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ। এসব সম্পদ থেকে বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।
বঙ্গোপসাগরের তলদেশে তেল, গ্যাস বা খনিজসম্পদই শুধু নয়, বাংলাদেশ গভীর সমুদ্রের ন্যায্য অধিকার পাওয়ায় মৎস্য আহরণের বিপুল সম্ভাবনাও দেখছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে, এ অঞ্চলের টুনা মাছ সারাবিশ্বে খুবই জনপ্রিয়।
সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ মৎস্য আহরণের পাশাপাশি সমুদ্রের তীরবর্তী পর্যটনকেন্দ্রের মাধ্যমেও অর্থনৈতিক বিপ্লবের কথা ভাবছে বংলাদেশ।
সমুদ্র থেকে বছরে আড়াই লাখ কোটি টাকা আয় সম্ভব

) ধাতব খনিজ  খনিজঃ
মজুত অনুসন্ধান চালিয়ে জি.এস.বি বেশ কটি সম্ভাব্য ধাতব খনিজ বলয় চিহ্নিত করতে সমর্থ হয়েছে। দেশের উত্তরপশ্চিম অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ নমুনা থেকে  চ্যালকোপাইরাইট, বোর্নাইট, চ্যালকোসাইট, কোভেলাইন, গ্যালেনা, স্ফালারাইটের মতো ধাতব খনিজ পাওয়া গেছে।
নির্মাণ কাজের বালি  দেশের বিভিন্ন নদনদীর তলদেশে এ বালি পাওয়া যায়। প্রধাণত মাঝারী থেকে মোটা দানাদার কোয়ার্টজ সমন্বয়ে এ বালি গঠিত। দালান, সেতু, রাস্তা ইত্যাদি নির্মাণে এ বালি ব্যাপকভাবে ব্যবহূত হয়।

)নুড়িপাথরঃ 
দেশের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় হিমালয়ের পাদদেশ বরাবর নুড়িপাথর পাওয়া যায়। বর্ষাকালে উজান এলাকা থেকে এসব নুড়িপাথর নদী দ্বারা বাহিত হয়ে আসে। নুড়িপাথর মজুতের মোট পরিমাণ প্রায় ১ কোটি কিউবিক মিটার। এ মজুত উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যবহার করা হচ্ছে।

)গন্ডশিলাঃ 
বাংলাদেশের বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর জেলার গন্ডশিলাসমুহ মূলত পাললিক শিলাজাত। অপরদিকে বৃহত্তর সিলেট জেলার জৈন্তাপুর ও ভোলাগঞ্জ এলাকার গন্ডশিলাসমূহের উৎসশিলা হলো আগ্নেয় বা রূপান্তরশিলা। এ সব অঞ্চল ছাড়াও সংলগ্ন পর্বতমালা থেকে উৎসারিত অসংখ্য পাহাড়ি নদীর তলদেশে ও নদীর কাছাকাছি এলাকায়ও গন্ডশিলা মজুত হয়। সিলেট, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে এইসব পাহাড়ের অধিকাংশ অবস্থিত। টেকনাফের সমভূমি অঞ্চলের তিনটি স্থানে এবং উখিয়া উপজেলার ইনানীতে গন্ডশিলা সঞ্চিত আছে। টেকনাফ-কক্সবাজার সমুদ্রতীরের ৭টি স্থানে গন্ডশিলার আলাদা আলাদা মজুত রয়েছে।

) চীনামাটি:
বাংলাদেশে চীনামাটির উল্লেখযোগ্য মজুত রয়েছে। ভূ-পৃষ্ঠের উপরে বা ভূ-পৃষ্ঠের সামান্য নিচে নেত্রকোণা জেলার বিজয়পুর (২৫ লক্ষ ৭ হাজার টন), শেরপুর জেলার ভুরুংগা (১৩ হাজার টন) ও চট্টগ্রাম জেলার হাইটগাঁও, কাঞ্চপুর, এলাহাবাদ (১৮ হাজার টন) এবং ভূ-পৃষ্ঠের অভ্যন্তরে দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়ায় (১ কোটি ৫০ লক্ষ টন) চীনামাটির মজুত আবিষ্কৃত হয়েছে। চীনামাটি বলতে মূলত কেয়োলিন কাদা মণিক দিয়ে গঠিত সিরামিক শিল্পে ব্যবহার্য উন্নতমানের কাদাকে বোঝানো হয়ে থাকে।

) কাচবালি, কুমিল্লা
কাচবালি  বাংলাদেশে কাচবালির উল্লেখযোগ্য মজুত রয়েছে। ভূ-পৃষ্ঠের উপরে বা ভূ-পৃষ্ঠের সামান্য নিচে বালিজুরী (৬ লক্ষ ৪০ হাজার টন), শাহজিবাজার (১০ লক্ষ ৪০ হাজার টন) ও চৌদ্দগ্রামে (২ লক্ষ ৮৫ হাজার টন) এবং ভূ-পৃষ্ঠের অভ্যন্তরে মধ্যপাড়ায় (১ কোটি ৭২ লক্ষ টন) ও বড়পুকুরিয়ায় (৯ কোটি টন) কাচবালির মজুত আবিষ্কৃত হয়েছে। কাচবালি হলুদ থেকে ধুসর এবং সূক্ষ্ম থেকে মাঝারী আকারের কোয়ার্টজ দিয়ে গঠিত।

) সৈকত বালিঃ
বাংলাদেশের উপকূলীয় বলয় ও উপকূলীয় দ্বীপসমূহে সৈকত বালির মজুত চিহ্নিত করা হয়েছে। এ সৈকত বালিতে বিভিন্ন ধরনের ভারী মনিকের মজুত রয়েছে, যেমন: জিরকন (১,৫৮,১১৭ টন), রূটাইল (৭০,২৭৪ টন), ইলমেনাইট (১০,২৫,৫৫৮ টন), লিউকক্সিন (৯৬৭০৯ টন), কায়ানাইট (৯০,৭৪৫ টন), গারনেট (২,২২,৭৬১ টন), ম্যাগনেটাইট (৮০,৫৯৯ টন) ও মোনাজাইট (১৭,৩৫২ টন)। একটি অস্ট্রেলীয় কোম্পানি এ বালি উত্তোলনের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা জরিপ চালানোর অনুমতি চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেছে।

বাংলাদেশে ১৫টি খনিজ পদার্থের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বর্তমানে রুটাইল, ইলমেনাইট, গারনেট, মোনাজাইট, ম্যাগনেটাইট, জিরকন, কায়ানাইট ও লিউকক্সিন ৮ আহরণ করা সম্ভব। রুটাইল রঞ্জক পদার্থের কাঁচামাল। ওয়েল্ডিং রডের বহিরাবরণ ও টাইটেনিয়াম নিষ্কাশনের জন্য ব্যবহার হয় মোনাজাইট। এটি তেজস্ক্রিয় থোরিয়ামের একটা ফসফেট যৌগ, যার মধ্যে কিছু পরিমাণ সিরিয়াম, ল্যানথানাম ও ইত্রিয়াম থাকে। একই সঙ্গে এটি পারমাণবিক চুল্লির জ্বালানি। এছাড়া পরমাণু বোমার কাঁচামাল হিসেবেও ব্যবহার হয় এটি। 

ইলমেনাইট উড়োজাহাজ, গাড়ি ও কেমিক্যাল প্লান্টের যন্ত্রাংশ এবং সার্জিক্যাল ইনস্ট্রুমেন্ট তৈরিতে ব্যবহার হয়। মোনাজাইট রঙিন টেলিভিশন ও গ্যাস প্লান্টে ব্যবহার হয়। ম্যাগনেটাইট পরমাণু চুল্লি, এক্স-রে মেশিন থেকে বের হওয়া তেজস্ক্রিয় বিকিরণ রোধ করে। জিরকন ই¯পাত কারখানায় তাপ সহনীয় ইক (ব্রিক) হিসেবে ব্যবহার হয়। সিনথেটিক ডায়মন্ড তৈরিতেও ব্যবহার হয় এটি। গারনেটে রয়েছে লোহা, অ্যালুমিনিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ এবং সিলিকা।

)নদির বালিঃ

জিএসবি সূত্র জানায়, যমুনা নদীতে পরিচালিত বহিরাঙ্গন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রাপ্ত কয়েকটি বালুর নমুনা সংগ্রহ করে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় অতীব মূল্যবান খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। যথা- ইউরেনিয়াম, টাইটানিয়াম, রুবিডিয়াম, জিরকানিয়াম,  ম্যাগনেসিয়াম, নিকেল ও জিঙ্ক।

কনডেনসেট থেকে জ্বালানী তেল উৎপাদন হলে কেন আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে তেলের দাম বৃদ্ধি?

কনডেনসেট থেকে জ্বালানী তেল উৎপাদন হলে কেন আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে তেলের দাম বৃদ্ধি?

গ্যাসফিল্ড থেকে গ্যাস উত্তোলনের সময় গ্যাসের সঙ্গে উচ্চমাত্রার সিসাযুক্ত কনডেনসেট (গ্যাসের সহজাত ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেল) বেরিয়ে আসে। রিগ মেশিনে গ্যাস ও কনডেনসেট আলাদা হয়ে যায়। পরে উত্তোলিত কনডেনসেট রিফাইনারিতে রিফাইনের জন্য পাঠানো হয়। 
গ্যাসের এই উপজাত পরিশোধন করে অকটেন, পেট্রল, ডিজেল, জেট ফুয়েল ও কেরোসিন ইত্যাদি পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন করা হয়।
সরকারী-বেসরকারী মিলিয়ে ১৪টি প্রতিষ্ঠান কনডেনসেট পরিশোধন করে পেট্রোল ও অকটেন তৈরি করছে। এর মধ্যে সরকারের চারটি পরিশোধন কেন্দ্র এসজিএফএল, বিজিএফসিএল, আরপিজিসিএল ও ইআরএল মিলিয়ে ৩ লাখ ২৮ হাজার ৬৬৪ মেট্রিক টন কনডেনসেট পরিশোধনের ক্ষমতা রয়েছে। অন্যদিকে ১০টি বেসরকারী কোম্পানির ক্ষমতা রয়েছে সাত লাখ ২৪ হাজার ৬৬৪ মেট্রিক। দেশে দৈনিক গড়ে এক হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন কনডেনসেট উৎপাদিত হয়।
স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ বিশ্ববাজার থেকে চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে আসছে। গ্যাসক্ষেত্র থেকে যে কনডেনসেট পাওয়া যাচ্ছে, তা পরিশোধন করে পেট্রল ও অকটেন পাওয়া যায় তা দেশের চাহিদা মিটিয়েও বিদেশে রপ্তানি করা যায়।
গ্যাসক্ষেত্রের কনডেনসেট প্রক্রিয়া করে দেশের পেট্রল এবং অকটেনের চাহিদা মিটিয়ে অন্তত ২ লাখ মেট্রিক টন রফতানি করা যেতে পারে। দেশে সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ লাখ মেট্রিক টন পেট্রল এবং অকটেনের চাহিদা রয়েছে। 
গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কনডেনসেটের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। এতে পেট্রল এবং অকটেনের উৎপাদনও বাড়বে।
যার কারনে হবিগঞ্জ জেলার রশিদপুর এলাকায় এগিয়ে চলেছে দেশের সর্ববৃহৎ তেল শোধনাগার নির্মাণের কাজ। এর মাঝে অধিকাংশ তেলই হবে পেট্রোল। এই পেট্রোল থেকে যে পরিমাণ অকটেন পাওয়া যাবে তার পর বিদেশ থেকে আর কোন অকটেন আমদানী করতে হবে না। অন্যান্য জ্বালানি তেলও আমদানী কমে যাবে উল্লেখযোগ্য হারে।
নতুন এই প্লান্টে উৎপাদিত তেলের মাঝে ২ হাজার ব্যারেল হবে পেট্রোল। এটি আরও পরিশোধন করে অকটেন তৈরি করা হবে। এছাড়াও প্রতিদিন ১ হাজার ব্যারেল কোরোসিন ও ১ হাজার লিটার ডিজেল উৎপাদন করা হবে। প্রয়োজন অনুসারে এই প্লান্টে তারপিনও উৎপাদন করা হবে।
২০১২ সালের পর থেকে পেট্রোল আমদানি করতে হচ্ছে না। অকটেন আমদানি করতে হচ্ছে। তবে অকটেন আমদানির পরিমাণ বছরে প্রায় ২০ হাজার টন।যেটুকু ঘাটতি থাকে সেটুকুই আমদানি করা হচ্ছে। বাকিটা অভ্যন্তরীণ রিফাইনারি প্ল্যান্ট থেকেই উৎপন্ন হচ্ছে।
প্রশ্ন একটাই এরপরেও আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে কেন তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে? যেখানে আমাদের দেশেই আভ্যন্তরীণ উৎপাদন হচ্ছে?”