ল্যাম্ব হাসপাতালঃ সেবার আড়ালে খ্রিস্টান বানানোর কারখানা

ল্যাম্ব হাসপাতালঃ সেবার আড়ালে খ্রিস্টান বানানোর কারখানা

১৯৮৩ সনে এই গ্রামে স্থাপিত হয় খ্রিস্টান মিশনারীদের ধর্মপ্রচারের কেন্দ্র "ল্যাম্ব হাসপাতাল"। হাসপাতালটিতে ঢুকতেই সামনে পড়ে প্রধান ফটক। সেখানে ৪-৫ জন দারোয়ান দাঁড়ানো থাকে। প্রধান ফটকের উপরে স্টিলের পাত দিয়ে লেখা: ল্যাম্ব হাসপাতাল। সাথে একটি লোগো, লোগোটা হল বাংলাদেশের মানচিত্র,  উপর দিকে (উত্তর বঙ্গের অংশে) একটি ক্রুশ চিহ্ন দেওয়া।

হাসপাতালে ঢুকতেই মনোরম পরিবেশ। সারি সারি গাছ ও রকমারি ফুল শোভা পাচ্ছে হাসপাতালের আঙিনায়। হাসপাতালে ঢোকার পর  প্রথমেই নজরে পড়ে একটি ওয়েটিং রুম। ভেতরে সাজানো কাঠের চেয়ার । পেছনে দেয়ালে সাটা একটি বক্স। সেখানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে খ্রিস্ট ধর্মে দীক্ষিত করার  সহযোগী কিছু পুস্তিকা। উপরে ছাপার  অক্ষরে লেখা, ‍"এই বইগুলো বিনামূল্যে পড়ার ও নেয়ার জন্য।" কিছু মানুষ এখান থেকে বই পড়ে সময় কাটাচ্ছে। যারা বই পড়তে পারে না তাদের জন্য দেয়া আছে একটি বড় রঙিন টিভি। এই টিভিতে খ্রিস্টানদের ধর্মান্তর-করণে সহযোগী এমন নাটক ও ঈসা-নবীর জীবনীর উপর বিভিন্ন চলচ্চিত্র  প্রদর্শন করা হয়।

ওয়েটিং রুমের পাশেই একটি রিডিং রুম। এই রুমে খ্রিস্টধর্মের অনেক বই, বাইবেল,  কিতাবুল মোকাদ্দস, গুনাহগারদের জন্য জান্নাতের পথ ইত্যাদি রাখা আছে। এই রুমে সর্বদা দুই তিনজন খ্রিস্টধর্মপ্রচারক থাকে। তারা ওয়েটিং রুম থেকে দুইজন করে ডেকে নিয়ে আসে। এনে তাদেরকে কুরআনের আয়াত পড়িয়ে ও বাইবেলের বিভিন্ন কোটেশন পড়িয়ে খ্রিস্টধর্মের দাওয়াত দেয়। এভাবে অনেক মানুষ খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হচ্ছে।

কেউ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরপরই একজন সেবক চলে আসে।সে সুন্দর সুন্দর কথা বলে এবং খ্রিস্টানদের বিভিন্ন বই পড়ে পড়ে শোনায়। সপ্তাহ শেষে তাকে দাওয়াত দেয়, ‍আমাদের একটি অনুষ্ঠানে আপনি চাইলে যেতেও পারে। এভাবে এক সপ্তাহ সেবা পাওয়ার পর সে আর দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করতে পারে না।

ফলে চার্চে যায়,  ফাদাররা যা বয়ান দেয় তা শুনে অনেকে খ্রিস্টানও হয়ে যায়। অনেকে আবার নামে মুসলমান থাকলেও বিশ্বাসের দিক থেকে খ্রিস্টানে পরিণত হয়। চিকিৎসা শেষে একটি বিল হাতে ধরিয়ে দেয়, যাদের সামর্থ্য আছে তারা তো বিল পরিশোধ করেই রিলিজ নেয়। যারা বিল পরিশোধে অক্ষম তাদেরকে বলে, অমুক লোক সুপারিশ করলে তোমার বিল মাফ করে দেত্তয়া হবে।

সুপারিশের জন্য যার কাছে নেওয়া হয় সে একজন খ্রিস্টধর্ম প্রচারক। সে খ্রিস্টধর্মের দাওয়াত দেয় এবং একটি ফরম পূরণ করে সাইন নিয়ে  সুপারিশ করে দেয় এবং তার বিল মাফ করে দেত্তয়া হয়। এরপর ঐ রোগীর সাথে যোগাযোগ রাখা হয়। একপর্যায়ে  তাকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করা হয়। তারা প্রথমেই নিজেদেরকে খ্রিস্টান বলে পরিচয় দেয় না; বরং পরিচয় দেয় ঈসায়ী  মুসলমান বলে।

ডাঃ এড্রিক বেকারের মুল লক্ষ্য ছিল খৃস্টীয় মতবাদ প্রচার,সেবা নয়

ডাঃ এড্রিক বেকারের মুল লক্ষ্য ছিল খৃস্টীয় মতবাদ প্রচার,সেবা নয়

ডাঃ এড্রিক বেকারের টাঙ্গাইল মধুপুর বনে কাইলাকুড়ি স্বাস্থ্য পরিচর্চা কেন্দ্র নিয়ে মিডিয়া সরগরম। বাংলাদেশী ডাক্তারদের আবারো ভিলেন বানিয়ে সাদা চামড়ার বিদেশীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হচ্ছে সবাই।যার আড়ালে এই সত্য অপ্রকাশিত হচ্ছে যে ডাঃ এড্রিক বেকারের প্রতিষ্ঠিত হাসপাতাল ক্রিশ্চিয়ান মিশনারীর মাধ্যমে পরিচালিত হয় । যে মিশনারীর মুল লক্ষ্য হল ধর্মান্তরিত করে খৃস্টান বানানো এবং সেখানে এবং সেবার মাধ্যমে স্থানীয় উপজাতিদের মধ্যে খ্রিস্টান ধর্মের প্রচার লক্ষণীয়।  

ডাঃ এড্রিক বেকার যে এলাকায় কাজ করত তা ছিল উপজাতি অধ্যুষিত এলাকা। আর মিশনারী চার্চগুলো এসব এলাকাতেই বেশি দেখা যায়। যাদের কাজই হল ধর্মান্তকরন করা।
জানি ,অনেকেই বিশ্বাস করতে চাইবেননা। কিন্তু বাস্তবতা কারো বিশ্বাস-অবিশ্বাস ধার ধারেনা। সত্য, চিরকাল সত্যই।

খ্রিষ্টান মিশনারীদের অপতৎপরতা বিভিন্ন জেলায় জেলায় ছেয়ে গেছে। তারা গ্রাম্য লোকদের অসহায় ও অভাব অনটনের সূযোগ নিয়ে তাদের কুট কৌশলে খ্রিস্টান বানাচ্ছে। বিশেষ করে পার্বত্য,উত্তরাঞ্চল,পাহাড়ী এলাকা এবং উপকূলীয় অঞ্চল গুলোতে তাদের অত্যাধিক তৎপরতা চলছে।
আপনারা খেয়াল করে দেখবেন খৃস্টান মিশনারীগুলো জনবহুল এলাকায় থাকেনা। থাকে রিমোট এরিয়াতে, শহর থেকে দূরে। বিশেষ করে উপজাতি অধ্যুষিত এলাকা কিংবা দারিদ্রপ্রবন এলাকা। কারন বিভিন্নভাবে সাহায্যের নাম দিয়ে তাদের ক্রিস্টান বানানো সহজ।

যার কিছু প্রমান আপনাদের দিচ্ছি-

১. আজ থেকে পাঁচশ বা ছয়শ বছর আগে খৃষ্টান মিশনারিরা এই বাংলায় আসে। পর্তুগিজরা যখন বাংলায় বা ভারতে আসে তখন সাথে করে খৃষ্টান মিশনারিদেরও নিয়ে আসে। জেসুইস ও অগস্টেইনিয়া নামক ক্যাথলিক খৃষ্টানদের দুটো দল পর্তুগিজ ব্যবসায়ীদের ছত্রছায়ায় ২০০ বছর যাবত বাংলায় খৃষ্টধর্ম প্রচার করে আসছে।

২. ১৫৯৯ খৃস্টাব্দে তাদের প্রথম অনুপ্রবেশ ঘটেছিল এ দেশের মাটিতে। সে সময় জেসুইট সম্প্রদায়ভুক্ত পর্তুগীজ খৃস্টাব্দে মিশনারি দের একটি দল যশোর জেলায় আসে।১৬৭৯ খৃ, এর ৪ নভেম্বর গোয়ার অগাস্টিন সম্প্রদায়ের জনৈক সেন্ট(সন্যাসী) তার একটি পত্রে লিখে যে,”যশোরে ২ জন পর্তুগীজ সেন্টের হাতে ৪০০ জন দেশীয় খ্রিষ্টান হয়েছে!!”

৩. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২০ বছরে পাবর্ত্যাঞ্চলে ১২ হাজার উপজাতীয় পরিবার খ্রিস্টান হয়েছে।

পাহাড়ি যেসব জনগোষ্ঠীর লোকসংখ্যা কম, তাদের প্রায় শতভাগ খ্রিস্টান হয়ে গেছে অনেক আগেই। এমন একটি উপজাতি পাংখু। যাদের পুরো জনগোষ্ঠীই খ্রিস্টান হয়ে গেছে; বদলে গেছে তাদের ভাষা। এমনকি তাদের অক্ষরও ইংরেজি।

এনজিওর নাম ধারণ করে খ্রিষ্টানরা এই দুর্গম এলাকায় হাসপাতাল, বিনোদন কেন্দ্র, গির্জা ইত্যাদি গড়ে তুলেছে। এদের বাজেটের ৯০ শতাংশ অর্থ খ্রিস্টানদের বা খ্রিস্টান হওয়ার সম্ভাবনাময় ব্যক্তিদের স্বার্থে ব্যয় হয়।

এনজিও’র নাম ধারণ করে খ্রিস্টানরা দুর্গম পার্বত্য এলাকায় হাসপাতাল, বিনোদন কেন্দ্র, গির্জা ইত্যাদি গড়ে তুলেছে।

৪. উত্তরাঞ্চলের ১৫ লাখ উপজাতির মধ্যে ছয় লাখেরও বেশি এরই মধ্যে ধর্মান্তরিত হয়েছে। এ অঞ্চলের আড়াই লাখ সাঁওতালের মধ্যে দুই লাখই তাদের নিজ ধর্ম 'সর্বপ্রাণবাদ' ছেড়ে খ্রিস্টান হয়েছে।

৫. রোমের ভ্যাটিকান থেকে ১৯৯০ সালের ৯ জুন রাজশাহীকে ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের 'ষষ্ঠ ধর্মপ্রদেশ' হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে এ অঞ্চলে উপজাতিদের ধর্মান্তরের কাজ আরো জোরদার হয়। https://tinyurl.com/twqyru5
এবার আসুন হাসপাতালের আড়ালে তারা কি করে তা জেনে নেই-

১. পার্বতীপুরের ল্যাম্ব হাসপাতালের কথা প্রায় সবাই জানেন। কিন্তু সবাই জানেনা’ হাসপাতালের সেবার আড়ালে সেখানে ধর্মান্তকরনের নীরবে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। রোগীদের কুরআনের আয়াত পড়িয়ে ও বাইবেলের বিভিন্ন কোটেশন পড়িয়ে খ্রিস্টধর্মের দাওয়াত দেয়। এভাবে অনেক মানুষ খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হচ্ছে। বিস্তারিত জানতে পড়ুন- http://archive.is/fzFA4#selection-1513.0-1513.954, https://www.alkawsar.com/bn/article/1051/

২. চন্দ্রঘোনা, মালুমঘাট, ময়মনসিংহ, রংপুর ও রাজশাহী সহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে হাসপাতাল ও মাতৃসদন প্রতিষ্ঠা করে কুষ্ঠ রোগ সহ জটিল ব্যাধির চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার চালিয়ে আসছে একটি মাত্র লক্ষ্যকে সামনে রেখে, তা হলো এ দেশে খ্রিষ্ট ধর্ম, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রচার ও প্রসার। এই সব হাসপাতাল হলো মূলতঃ মানুষ ধরার ফাঁদ ও ষড়যন্ত্রের নীল কুঠি।

৩. যশোর জেলায় ফাতেমা হাসপাতাল নামে একটি মিশনারি হাসপাতাল আছে। নাম মুসলমানের হলেও হাসপাতাল কিন্তু খৃস্টান মিশনারীর। হাসপাতালের প্রবেশমুখে শ্বেতপাথরে খোদিত সুন্দর একটি সিনারী আঁকা, এতে মাদার তেরেসার সদলবলে একটি সাঁকো পার হওয়ার দৃশ্য। ছবির নিচে সুন্দর করে লেখা – যীশু পীড়িত মানুষকে সেবাদানের জন্য এভাবে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়াত। https://tinyurl.com/vd5lwvh
যে হাসপাতালের ফেজবুক পেজে সুন্দর করে তাদের লক্ষ্য ও উদ্ধেশ্য লেখা আছে এভাবে “ দিনে দিনে বড় হয়ে এখনও এই হাসপাতাল যশোরের বুকে লক্ষ লক্ষ মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে খ্রীষ্টের প্রেম মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিচ্ছে”। http://archive.is/3uAMS#selection-609.182-609.307
৪. চার্চ অব বাংলাদেশ নামে একটি খ্রিষ্টান মৌলবাদী এন,জি, ও সংস্থা ১৯৬৫ সালে কক্সবাজারের মালুমঘাটে খ্রিষ্টান মেমোরিয়াল হাসপাতাল স্থাপন করে। স্থানীয় জনসাধারণের দরিদ্রতা, অভাব ও নিরক্ষরতার সুযোগ নিয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. ভিগা বি অলসন বিগত ৩৮ বছর যাবত খ্রিষ্ট ধর্ম প্রচারে তৎপর রয়েছে। ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে অত্র এলাকায় যেখানে এক জন খ্রিষ্টানও ছিলনা সেখানে বর্তমানে দশ হাজার বয়স্ক নাগরিক খ্রিষ্টান হয়েছে এবং তাদের পরিবার সহ এই সংখ্যা বর্তমানে ৪০ হাজারে উন্নীত হয়েছে। মালুমঘাটের আশে পাশের জমি চড়া দামে উক্ত এনজিও কিনে নিচ্ছে ধর্মান্তরিতদের পুর্নবাসনের উদ্দেশ্যে। (দৈনিক সংগ্রাম, ২৪অক্টোবর, ১৯৯২)।

খ্রিষ্টান মিশনারীদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমাদের মধ্যে কোন রূপ দ্বিধা থাকা উচিৎ নয়।

মুসলিম রাষ্ট্র সমুহে মিশনারী প্রেরক সমিতির সভাপতি মি.কিস জুয়াইমর মিশনারীদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে যে মন্তব্য করে তা অত্যন্ত খোলামেলা এবং রীতিমত উদ্বেগজনক। সে বলে: ‘আমাদের খ্রিষ্টান মিশনারীদের বড় উদ্দেশ্য এই যে, যেসব ছাত্র আমাদের স্কুল- কলেজ হতে শিক্ষা সমাপন করে বের হচ্ছে তারা নিশ্চিত রূপে ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছে, যদিও বের হওয়াটা আনুষ্ঠানিক নয়। অর্থাৎ নাম ও পরিচিতিতে খ্রিষ্টান না হলেও মন-মেজায, ধ্যান-ধারনা ও চিন্তা-চেতনা ইত্যাদিতে সে ইসলাম বিমুখ হয়েছে। শুধু এতটুকু নয়, বরং সে সম্পূর্ণ অজ্ঞাতে আমাদের মিশনের এক জন বড় পৃষ্ঠপোষক। তার পক্ষ হতে আমাদের অনিষ্টের কোন প্রকার আশংকা নেই। সে আমাদের ও আমাদের মিশনের বিরুদ্ধে টু শব্দটিও করতে পারে না। এটা আমাদের সে সফলতা দুনিয়ায় যার নজীর নেই’ (মাসিক বাইয়েনাত, করাচী, শা’বান-১৩৮৬ হিজরী)।

অতএব যারা ডাঃ এড্রিক বেকার কথিত মানবসেবা নিয়ে গদগদ হয়ে বাংলাদেশী ডাক্তারদের প্রতি বিরুপ মন্তব্য করছেন তারা বোকার দুনিয়ায় বাস করছেন। স্বার্থ ব্যতিত কোন কোন মিশনারী বাংলার যমীনে কাজ করছেনা।

ডাঃ এড্রিক বেকার যা করেছে তা তার ধর্মের প্রতি আবেগ, ভালোবাসা আর টান থেকেই করেছে। সে তার খৃস্টীয় মতবাদকে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে, এই দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসার টানে নয়।
এবার বুঝলে বুঝপাতা,না বুঝলে তেজপাতা।শুধু আফসোস এতটুকুই যে ২০০ বছর বৃটিশ গুতা গেয়েও বাংগালীর হুশ হয়নি!!!

যে কথিত রামের জন্য মসজিদ দখল তা একটি কল্পিত চরিত্র মাত্র

যে কথিত রামের জন্য মসজিদ দখল তা একটি কল্পিত চরিত্র মাত্র

রামায়ণ একটি সাংস্কৃতিক মহাকাব্য, যার রচয়িতা বাল্মীকি। রামায়ণ নামক মহাকাব্যে যে রামচন্দ্রের কাহিনী, যাকে পুরাণে বিঞ্চুর অবতার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, সেই রাম কোনো বাস্তব মানুষ ছিল  না।

রামায়ণের রচয়িতা বাল্মীকির জন্মতারিখ ও মাতা সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা না গেলেও তার পিতা বিষয়ে জানা যায় সে ব্রাহ্মণ গোত্রের প্রচেতা নামক ব্যক্তি ছিল। ঐতিহাসিকদের তথ্য মতে খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে রামায়ণ গ্রন্থটি রচিত হয়।

হিন্দু পুরাণিক কাহিনী মতে, নারদ ব্রহ্মার মানসপুত্র। সে ত্রিকালজ্ঞ, বেদজ্ঞ ও তপস্বী। নার শব্দের অর্থ পানি। সে সব সময় তর্পণের জন্য পানিদান করত বলে তার নাম হয় নারদ। হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ ভগবত গীতা মতে, সে জনৈক ব্রাহ্মণের এক দাসীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করে।সে তার মায়ের আদেশে সব সময় যোগীদের সেবা করত এবং যোগীদের উচ্ছিষ্ট খাবার খেয়ে ধর্মপরায়ণ হয়ে ওঠে।

রাম-রাবণের যুদ্ধ শেষ হলে নারদ এ ইতিহাসটি রচনা করার জন্য বাল্মীকিকে অনুরোধ জানালে, বাল্মীকি বলেছিল- “আমি তো সবটা জানি না যদিও তার নাম এবং তার কীর্তি কাহিনী শুনেছি, কিন্তু সবটা না জেনে লিখে যদি সত্যভ্রষ্ট হই সে ভয় আমার আছে। তখন নারদ বাল্মীকিকে বলেছিল- ‘সেই সত্য যা রচিবে তুমি।’ এ উক্তিটির উল্লেখ মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদ বধ’ কাব্যে পাওয়া যায়।

রামায়ণ যে একটি কল্পকাহিনী সেটির প্রমাণ রামায়ণেই রয়েছে, যেমন- যুদ্ধকাণ্ডের ৪ নম্বর উপাখ্যানে বর্ণিত আছে ‘সমুদ্রের ওপর সীমান্ত রেখার ন্যায় শোভমান এই সেতু পথে সহস্র কোটি বানর লাফাতে লাফাতে সগর্জনে পার হতে লাগল।’ এ বানরেরা যে বানর ছিল না, ছিল মানুষ সেটি একটু পরই বোঝার উপক্রম ঘটবে। এখানে শুধু সংখ্যাটির প্রতি দৃষ্টি দেয়া হলে দেখা যায় সহস্র কোটি মানে হাজার কোটি, এখনো সমগ্র পৃথিবীর মানুষের সংখ্যা এক হাজার কোটি নয়, অথচ এ হাজার কোটি বানর সমুদ্র পার হয়ে লঙ্কার মতো একটি ছোট দ্বীপে অবস্থান নিয়েছিল।

শুধু তাই নয়, রাবণ যখন রামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আসে, তখন সে কী কী নিয়ে যুদ্ধ করতে এসেছিল তা বিবেচনায় নিলে হতবাক হতে হয়। যেমন- (ক) এক নিযুত (১০ লাখ) রথ; (খ) তিন নিযুত হস্তি; (গ) ৬০ কোটি অশ্ব এবং (ঘ) অসংখ্য পদাতিক সৈন্য- পৃষ্ঠা ৩৬৯। ১০ লাখ রথে কমপক্ষে ২০ লাখ মানুষ ছিল। কারণ একজন রথ চালায় এবং অন্যজন যুদ্ধ করে। অন্য দিকে ৩০ লাখ হস্তিতে কমপক্ষে ৬০ লাখ মানুষ ছিল। ৬০ কোটি ঘোড়ায় ৬০ কোটি মানুষ এভাবে রাবণের বাহিনীতে ছিল প্রায় ৬১ কোটি মানুষ এবং তদসহ উপরিউল্লিখিত সংখ্যক রথ, হস্তি ও ঘোড়া। রামায়ণের বর্ণনা মতে, রাম ও রাবণের এসব বাহিনী কিন্তু যুদ্ধ করেছে লঙ্কার মতো ছোট একটি দ্বীপে; যদিও বাস্তবতার নিরিখে এটির সম্ভাব্যতা নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। নিবন্ধের দীর্ঘসূত্রতা পরিহারে উপরোল্লিখিত একটি মাত্র উদাহরণ দেয়া হলো, যদিও এমন আরো অনেক উদাহরণ রয়েছে।



অপারেশনের চেয়ে স্বাভাবিক প্রসবে জন্ম নেওয়া শিশু অনেক বেশি ভালো থাকে

অপারেশনের চেয়ে স্বাভাবিক প্রসবে জন্ম নেওয়া শিশু অনেক বেশি ভালো থাকে

শিশু জন্মের সময় জটিলতা দেখা দিলে অপারেশনের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রসবের বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়। এটাই সিজারিয়ান বা সি-সেকশন। প্রসবের সময় কিছু জটিলতায় মা ও নবজাতকের জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে। তখন সিজারিয়ান অপরিহার্য। কিন্তু এতে মা ও শিশুর কিছু সমস্যাও হয়। তাই একেবারে অপরিহার্য না হলে যেন সিজার না করা হয়, সেদিকে সবারই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান বা অপারেশনের মাধ্যমে শিশু জন্মের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। এর ফলে মা ও শিশু দুজনেই ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। অপ্রয়োজনে অপারেশনের মাধ্যমে শিশু জন্মের হার কমিয়ে আনতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, এই হার মোট শিশুজন্মের ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে থাকা দরকার।

হাসপাতাল এবং ডাক্তারের পাশাপাশি রোগী এবং রোগীর অভিভাবক ও ব্যথা সহ্য করতে না পারার অজুহাত দেখিয়ে অপারেশন করতে চায়।

অনেকেই ভেবে দেখেন না অপারেশনের চেয়ে স্বাভাবিক প্রসবে জন্ম নেওয়া শিশু অনেক বেশি ভালো থাকে।

সম্প্রতি মেলবোর্নে এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাভাবিক প্রসবে জন্ম নেওয়া শিশুরা অনেক বেশি স্মার্ট এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তাদের অনেক বেশি। জন্মের পরপরই ওরা সহজে ও দ্রুত মায়ের বুকের দুধ পায় ও খেতে পারে। জন্মের পরপরই মায়ের ত্বকের স্পর্শে এসে নবজাতক প্রয়োজনীয় উষ্ণতা পায়। এসবই সম্ভব হয় স্বাভাবিক জন্মের কারণে। জন্মনালি অতিক্রমের সময় নবজাতকেরা কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়া পায়। এগুলো তাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়।

স্বাভাবিক জন্মের শিশুরা যে শুধু স্মার্ট হয়, তা-ই নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ওই শিশুরা পরবর্তী জীবনে অনেক বেশি মেধার পরিচয় দেয়। পড়াশোনায় ওরা ভালো করে।

অনেকে মনে করে, স্বাভাবিক প্রসবে মা ও নবজাতকের মৃত্যুর আশঙ্কা বেশি। সেটা কিছু জটিল ক্ষেত্রে খাটে। অনেক সময় সিজার অপরিহার্য হয়ে পড়ে। সেটা তো মানতেই হবে।

কিন্তু দেখা গেছে, অপ্রয়োজনীয় সিজারের সংখ্যাই বেশি এবং এতে হুমকি বাড়ে। অপারেশনের পর মায়ের অনেক ভোগান্তি হয়। শিশুরাও নানা অসুখ-বিসুখে ভোগে।

তবে এটা ঠিক যে প্রয়োজন হলে নিশ্চয়ই অপারেশনে যেতে হবে। শুধু অপ্রয়োজনীয় অপারেশন যেন কমিয়ে আনা যায়, সেটাই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য।

তাই অপ্রয়োজনীয় সিজারকে না বলুন।

আমেরিকাকে টিকে থাকলে হলে যুদ্ধ বাধিয়েই টিকে থাকতে হবে।

আমেরিকাকে টিকে থাকলে হলে যুদ্ধ বাধিয়েই টিকে থাকতে হবে।

বর্তমান বিশ্বের সামনে যেসব সঙ্কট তৈরি হয়েছে, তার একটি হলো অর্থব্যবস্থা তথা অর্থের সংস্থান নিয়ন্ত্রণ। এর শুরুটা হয়েছিল মূলত ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে। শুনে অনেকেই অবাক হতে পারে যে, বর্তমান বিশ্বের অর্থের উৎস নিয়ন্ত্রণ করছেন মাত্র পাঁচ-সাত জন লোক। কোনো দেশ বা কোনো সরকার নয়। আর এটাই মানবসভ্যতার জন্য সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

আমরা এখন আমেরিকান সভ্য সমাজ বলতে যাদেরকে বুঝি, তারা মূলত ইউরোপ থেকে যাওয়া লোকজন। তারা ছিল উদ্যমী মানুষ। বিশাল এই উপমহাদেশে সৌভাগ্যের হাতছানি দেখে তারা ঝাঁকে ঝাঁকে সেখানে গিয়ে হাজির হয়েছে। সপ্তদশ শতকের ঘটনা এটা। ইউরোপীয়রা সেখানে গিয়ে উপনিবেশ স্থাপন করেছিল। তারা সেখানে গিয়ে দেখে, ইচ্ছেমতো যা খুশি তাই করা যাচ্ছে।

ইউরোপ থেকে যারা আমেরিকায় পাড়ি জমায়, তারা হাজার হাজার একর ভূ-সম্পত্তির মালিক হয়ে বসে। কারণ তখন সেখানে জমির কোনো মালিক ছিল না। যে আগে গিয়ে যতখানি জায়গা মার্কিং দিয়ে নিজের বলে দাবি করত, সেটাই তার হয়ে যেত। সবাই এটা মেনেও নিত। কারণ জমির অভাব নেই। কিন্তু হাজার হাজার বিঘা জমি নিয়ে বসে থাকলে তো হবে না, জমি আবাদ করতে হবে। ইউরোপীয়রা এসে দেখে; জমি পড়ে আছে কাজ করার লোক নেই। জঙ্গলে বিশাল বিশাল আকারের টার্কি ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা সেগুলো মেরে খাওয়া শুরু করল। আর সে কারণেই ৪ জুলাই আমেরিকানরা যখন তাদের স্বাধীনতা দিবস পালন করে, সে দিন খাবারের মেন্যুতে টার্কি হচ্ছে প্রধান আইটেম।

কিন্তু টার্কি খেয়ে আর কত দিন চলা যায়? এরপর শুরু করা হলো দাসব্যবস্থা। ইউরোপীয়রা বিশেষ করে, আফ্রিকা থেকে আদিবাসীদের ধরে নিয়ে গিয়ে আমেরিকায় দাস হিসেবে কাজে লাগানো শুরু করেছিল। আমেরিকান সভ্যতার যাত্রা শুরু মূলত এখান থেকেই।

এই ইউরোপীয় ভূস্বামীরা আমেরিকায় চরম স্বাধীনতা ভোগ করতে থাকে। যে যার মতো চলতে থাকে। এদের অনেকে এমন প্রতিপত্তি লাভ করে যে, প্রাইভেট ব্যাংক নাম দিয়ে নিজেই টাকা ছাপানো শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রশাসনও তৈরি হলো। কিন্তু পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেল যে, প্রশাসনকে পর্যন্ত শাসনব্যবস্থা পরিচালনার জন্য ওই সব পুঁজিপতির কাছে হাত পাততে হয়েছে। পরবর্তীকালে আরো অনেক দেশেও এটা ঘটেছে।

এমন সম্পদশালী অনেক পরিবার তৈরি হয়, যারা সরকার চালানোর টাকা দিয়ে থাকে। সৌদি আরবের মতো দেশে আল রাজি পরিবার, আল নাসির পরিবার রয়েছে। বাদশাহ সউদ, বর্তমান সৌদি আরবের ক্ষমতাসীন পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা, তাদের বাড়িতে এসে থাকত। কারণ তখন রাজপ্রাসাদ তৈরি করার মতো অর্থ বাদশাহর ছিল না।

যা হোক, ভূস্বামীরা যখন টাকা ছাপানো শুরু করল, তখন আমেরিকার রাজনীতিবিদদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিলো। এর সুদূরপ্রসারী এবং ক্ষতিকর দিকগুলো চিন্তা করে আতঙ্কিতবোধ করল তারা। বেশির ভাগ আমেরিকান প্রেসিডেন্ট এটা প্রতিরোধ করতে চাইল। কিন্তু তারা তা পারেনি। এই চেষ্টা করতে গিয়ে আমেরিকার তৃতীয় প্রেসিডেন্ট টমাস জেফারসন বলেছিল : “If the American people ever allow private banks to control the issue of their currency, first by inflation, then by deflation, the banks and corporations that will grow up around them will deprive the people of all property until their children wake up homeless on the continent their Fathers conquered... The issuing power should be taken from the banks and restored to the people, to whom it properly belongs.”
(আমেরিকার জনগণ যদি তাদের মুদ্রা ইস্যু করার ক্ষমতা বেসরকারি ব্যাংকগুলোর হাতে ছেড়ে দেয়, তাহলে প্রথমে মুদ্রাস্ফীতি ও পরে মুদ্রাসঙ্কোচনের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো জনগণকে তাদের সম্পত্তি থেকে এমনভাবে বঞ্চিত করতে থাকবে যত দিন না তাদের সন্তানরা এই মহাদেশে গৃহহীন হয়ে পড়ে, যে মহাদেশটিকে তাদের পিতারা জয় করেছিল... মুদ্রা ইস্যু করার ক্ষমতা ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে নিয়ে জনগণের কাছে দিতে হবে, যারা সত্যিকারের অধিকারী)। জেফারসন এই কথা বললেও সে প্রাইভেট ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে মুদ্রা ইস্যু করার ক্ষমতা নিতে পারেনি।

জেফারসনের পর চতুর্থ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেমস ম্যাডিসনও একই কথা বলেছে: “History records that the money changers have used every form of abuse, intrigue, deceit, and violent means possible to maintain their control over governments by controlling money and it's issuance.”
(ইতিহাসে দেখা যায়, মুদ্রা ও এর ইস্যু করা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মুদ্রা ব্যবসায়ীরা সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের অপব্যবহার, চক্রান্ত, শঠতা, প্রতারণা ও হিংসাত্মক উপায় অবলম্বন করেছে)।

অ্যান্ড্রু জ্যাকসন, আমেরিকার সপ্তম প্রেসিডেন্ট, ক্ষমতায় এসে বলল : “If Congress has the right under the Constitution to issue paper money, it was given to be used by themselves, not to be delegated to individuals or corporations”
(সংবিধানের আওতায় কংগ্রেসের কাছে কাগজের টাকা ইস্যু করার যে ক্ষমতা রয়েছে তা শুধু তারই ব্যবহারের জন্য, সেটি কোনো ব্যক্তি বা করপোরেশনের হাতে অর্পণের জন্য নয়)।

আব্রাহাম লিঙ্কনেরও একই কথা ছিল : The Government should create, issue, and circulate all the currency and credits needed to satisfy the spending power of the Government and the buying power of the consumers. By the adoption of these principles, the taxpayers will be save from immense sums of interest. Money will cease to be master and become the servant of humanity”
(সরকারের ব্যয়ের ক্ষমতা ও ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা পরিতুষ্ট করার জন্য সরকার সব ধরনের মুদ্রা ও ক্রেডিট সৃষ্টি, ইস্যু ও বিতরণ করবে। এই নীতিমালা গ্রহণ করা হলে করদাতারা বিপুল অঙ্কের সুদ থেকে রক্ষা পাবেন। অর্থ তখন প্রভু না হয়ে মানবতার সেবকে পরিণত হবে)।

এই উদ্ধৃতিগুলো দিয়েছি মূলত ব্যক্তির হাতে অর্থ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা যে ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে, তা বুঝানোর জন্য। আমেরিকার সেরা প্রেসিডেন্টরা পর্যন্ত এটা জানত। আর আব্রাহাম লিঙ্কন যে কথা বলেছে, তাতে ইসলামের মূল্যবোধের কথাই চলে আসে। লিঙ্কন তো মুসলমান ছিল না। কিন্তু মানবিক বিষয়গুলো সব সভ্যতাতেই এক। ইসলাম মানবসভ্যতা ও মানবজ্ঞানেরই অংশ।

কিন্তু এতসব সতর্কবাণীর পরও ১৯১৩ সালে প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন ফেডারেল রিজার্ভ আইনে স্বাক্ষর করে আমেরিকার মুদ্রাব্যবস্থা কয়েকজন ব্যক্তির নিয়ন্ত্রিত একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেয়, যা আজকে ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ নামে পরিচিত। এটি কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক নয় যে, সরকার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এটা বলতে গেলে, একটি আর্থিক মাফিয়া চক্র পরিচালিত প্রতিষ্ঠান। আর সে কারণে পরে উইলসনই আক্ষেপ করে বলেছে, ‘আমি সবচেয়ে দুঃখী মানুষ। কারণ আমি অনিচ্ছায় আমার দেশকে ধ্বংস করেছি।’

উইলসনের ওই আইনে স্বাক্ষর করার হয়তো কারণ ছিল। হয়তো তাকেও অর্থের জন্য বেসরকারি খাতের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল। আজ এই ফেডারেল রিজার্ভ আমেরিকার সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা শুধু ডলার ছাপিয়ে বাজারে ছাড়ছে আর আমাদের মতো দেশগুলো তার পেছনে ছুটছে।

ডলারের বিপরীতে স্বর্ণ মজুদ করার কথা ছিল। কিন্তু এই নিয়মও বাতিল করা হলো। আমরা ডলার দেখলে পাগল হয়ে যাই। কিন্তু সূক্ষ্ম বিচারে এই ডলারের কোনো মূল্যই নেই। এটা ‘কাগুজে বাঘ’ মাত্র। এটাই বাস্তবতা। যে কেউ এই তথ্যগুলো যাচাই করে দেখতে পারেন। সারা দুনিয়ায় তারা এই কাগুজে বাঘ ছড়িয়ে দিয়েছে। সে কারণেই সৌদি আরবকে তারা কব্জায় রাখতে চায়।

আজ সৌদি আরব যদি বলে, তারা তেলের মূল্য হিসেবে কাগুজে ডলারের পরিবর্তে সমমূল্যের সোনা চান, তাহলে আমেরিকার পতন ঘটবে। যুক্তরাষ্ট্র এটা কোনোভাবেই সহ্য করবে না। কিন্তু আমেরিকানদের যুদ্ধশক্তির কাছে বিশ্ব হয়ে আছে অসহায়। চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যবিরোধের সূচনা এখানেই। চীন এখন উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি। কারণ বাণিজ্যক্ষেত্রে আমেরিকা তার প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছে।

একটি ক্ষেত্রে আমেরিকা সুবিধা ধরে রেখেছে- সেটি হলো উদ্ভাবন। সারা বিশ্ব থেকে নানাভাবে প্রলুব্ধ করে মেধাবী মানুষদের তারা নিয়ে গেছে। আমেরিকা খুবই কসমোপলিটন একটি সোসাইটি। সেখানে যদি ছয় মিলিয়ন মুসলমান থাকে, তাহলে দেখা যাবে দুই মিলিয়নই পিএইচডি ডিগ্রিধারী। ১০ হাজার ইহুদি থাকলে তাদের ১০ হাজারই ডক্টরেট। বিশ্বের আর কোনো দেশে এটা নেই। আমেরিকানরা এখনো উদ্ভাবন ও আবিষ্কারের ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে। এটা এ কারণে নয় যে, সাদা চামড়ার মানুষ মেধাবী, আর অন্যরা মেধাহীন। তারা মেধাপাচার করে নিয়ে যাওয়ার কারণেই এটা হয়েছে। এই উদ্ভাবনের কারণে তারা যুদ্ধশিল্পে সবাইকে ছাড়িয়ে যেতে পেরেছে। তাদের টিকে থাকলে হলে যুদ্ধ বাধিয়েই টিকে থাকতে হবে।