SIR:Slave I Remain

SIR:Slave I Remain

MADAM:Owner Of Brothel
===============
স্যারশব্দটি যতখানি কথিত সম্মানের, তার চেয়ে বেশি আত্মঘাতী। স্কুলজীবনে একমাত্র শিক্ষকদেরই স্যারবলতাম।
অফিস-আদালতে নো স্যারবলে কোনো শব্দ নেই। আমার কাছে যার এক পয়সাও মূল্য নেই, কাজ আদায়ে তাকেও বলতে হতো- ইয়েস স্যার

আমেরিকায় স্যারবলে কোনো শব্দ নেই; বরং ইয়েস স্যার বলাই বিপজ্জনক। প্রমাণ হলে জেল-জরিমানা পর্যন্ত গড়ায়।

SIR এবং MADAM শব্দ দুটো বেশ প্রচলিত। আমরাও বলে যাচ্ছি অবলীলায়। কিন্তু এই দুটি শব্দ কিভাবে এসেছে তা আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি ?

১) SIR:
স্যার শব্দটি ফ্রেঞ্চ sire থেকে এসেছে। যা কথিত সম্মানসুচক শব্দ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ১২৯৭ সালে নাইটহুডদের জন্য ব্যবহৃত হত।
মুলত স্যার বলতে বুঝায় “SLAVE I REMAIN ( SIR )"
S হল-SLAVE
I হল- I (Me)
R হল - REMAIN
যা বৃটিশ আমলে এই উপমহাদেশে প্রচলিত হয়। বৃটেনে এখনো এই শব্দ ব্যবহার হয় আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে।

২) MADAM:
Madam শব্দ এসেছে ফ্রেঞ্চ “ma dame” যার সরাসরি অর্থ my lady .
Latin Mea domina ( madonna) শব্দ থেকে Dame উৎপত্তি।যার অর্থ "female owner or manager of a brothel" যা ১৮৭১ সালে সত্যায়িত হয়।
অর্থাৎ যে মহিলা পতিতালয়ের মালিক তাকে শ্রদ্ধাভরে madam ঢাকা হত।

ইংল্যান্ডে "Madam" এমন মহিলাকে বুঝায় যে বয়স্ক,যে লাভের আশায় পতিতালয়, escort service অথবা অন্যান্য অশ্লীল কাজ চালায়।
অর্থাৎ পতিতালয়ের সর্দারনী হল madam .

Supreme Court of the United States, Supreme Court of Canada এবং superior courts of Australia, মহিলা বিচারকের ক্ষেত্রে Madam Justice শব্দ ব্যবহার করেনা। তারা কেবল Justice বলে থাকে .
মহিলা প্রেসিডেন্টকে তারা president বলে ঢেকে থাকে।
ইংল্যান্ডে বিচারককে Mrs justice বলে থাকে । তারা madam শব্দ ব্যবহার করেনা।

বাংলাদেশীরাই এখন পর্যন্ত ব্রিটিশের পয়দা করা কলোনিয়াল মানসিকতাকে জোঁকের মতো আঁকড়ে ধরে আছে।

আমেরিকায় কাউকে স্যার বা ম্যাডাম বলা হয়না । তারা নাম ধরে ঢাকতে পছন্দ করে। কারণ তারা জানে এই শব্দের কি অর্থ। তাই তারা সমগোত্রীয় ধর্মবিশ্বাসের হবার পরেও এই শব্দ ব্যবহার করেনা।

তাই SIR এবং MADAM বলা বাদ দেওয়া শুরু করুন।

SIR এর পরিবর্তে 'সাহেব' , 'জনাব' , 'মুহতারাম' 'মুয়াল্লিম' , 'ওস্তাদ ' ব্যবহার করা যেতে পারে।
MADAM এর পরিবর্তে 'সাহেবা' , 'জনাবা' , সাইয়্যিদাতি, 'মুহতারামা' বলা যেতে পারে।

বৃটিশ অপসংস্কৃতিকে বর্জন করে নিজস্ব ঐতিহ্য বজায় রাখুন ।

দেবী শেঠীর হাসপাতালে স্ত্রীকে চিকিৎসা করানোর তিরিশ দিনের তিক্ত অভিজ্ঞতা

দেবী শেঠীর হাসপাতালে স্ত্রীকে চিকিৎসা করানোর তিরিশ দিনের তিক্ত অভিজ্ঞতা

আজিজুল হক :
 
যারা ব্যাঙ্গালোরের নারায়ানা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যারা যাচ্ছেন বা যাবেন তাদের উদ্দেশ্যে আমার তিরিশ দিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে এই লেখা।

অপেক্ষা

প্রতিদিন ব্যাক প্যাক ভরে অপেক্ষা নিয়ে হোটেল থেকে বের হই আবার ব্যাগ ভরা অপেক্ষা নিয়ে ফিরে আসি। গন্তব্য একটাই দেবী শেঠীর নারায়ানা হৃদয়ালয়।

স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য এখানে এলাম গত মাসের ত্রিশ তারিখ। তার ভিএসডি ক্লোজারঅপারেশন হবে। ওপেন হার্ট সার্জারি। শুনতে অনেক ভয়ানক কিছু। আসলেও তাই।

এই ভয়ানক কিছুএকটা নিয়েই আজ অষ্টম দিন যাবৎ ডাক্তার, টেষ্ট, রিপোর্ট নিয়ে দৌড়ের উপর আছি। বলা বাহুল্য স্ত্রীও আমার সাথে সাথে দৌড়াচ্ছে। অপেক্ষা আমাদের কে ছাড়েনা। এখানে যারা আসে কাউকেই না। সকাল নটায় ডাক্তারের চেম্বারে বসে থাকি কখনো তাঁর দেখা মিলে বিকাল চারটায়, কখনো বা বেল দুটায়।

ব্যাগ ভরা অপেক্ষা আর মনভরা উৎকণ্ঠা নিয়ে বসে থাকি। আর মনে মনে বলি আমাদের দেশেতো এমনটা এতো বেশী হয় না। হলে কত চিৎকার চেঁচামেচিই না হত। অথচ এখানে আমরা সবাই একেবারে চুপচাপ। যদিও এখানকার আশি ভাগ রোগী বাংলাদেশী।

যদিও আমরা সবাই শ্রদ্ধেয় ডাক্তার দেবী শেঠীর আশায় এখানে আসি, জেনে রাখা ভাল তিনি কিন্তু এখন আর বেশীরভাগ অপারেশনে হাত দেন না। তার প্রশিক্ষিত সার্জনগনই ওই কর্ম করেন।
এত্তো রোগী তাছাড়া বয়স হয়েছে। আর কত?
খুব ক্রিটিক্যাল কেস অবশ্য দেখেন। বেশি ব্যস্ত থাকেন সেমিনার সিম্পোজিয়াম নিয়ে।

আরও জেনে রাখা ভাল ভিজিট দিলেই এখন আর তাঁর সাক্ষাত মিলেনা। এতো লোককে দেখা দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভবও না। এনজিওগ্রামের সিডি থাকলে ও অপারেশনের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতরাই কেবল চাইলে তাঁর সাক্ষাৎ পেতে পারেন।

দেখা হলে তিনি খুব নরম ভাষায় পরম আত্মিয়ের মত করে বললেব, “বাবা/মা আমিই তোমার অপারেশন করবোবাস্তবতার আলোকে তা প্রায়শই সম্ভব হয় না।
প্রেসকিপশনে কয়েকটা দাগ টেনে দিয়ে বলবেন, দূর থেকে এসেছো তোমাকে কিছু কনসেশন করিয়ে দিলাম।
বাস্তব ক্ষেত্রে সবাই তা পায় না। নিরুপায় লোকজন অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে কিছু আদায় করে নেন।

আজ মিলে নবম দিন জুতর সুখতালুর অসুখ বাধিয়ে, পকেটের ডলার, রুপি খালি করে ভর্তির যাবতীয় কাগজপত্র জয়জগাড় করে স্ত্রীকে ভর্তি করাতে এসে শুনি সিট খালি নেই। ফোন নাম্বার রেখে দিয়ে বললো, সিট খালি হলেই কল করব।
আবার অপেক্ষা….! এখানে অপেক্ষায় বড়ই নির্দয়। সবসময় পায়ে পায়ে থাকে।

রেস্টুরেন্টে বসে আছি। দুপরের খাওয়া হয়নি এখনো। চুলায় বড় পাতিলে বলক দিয়ে ভাত ফুটছে। বয় বেয়ারা রা খাবার আয়োজনে ব্যস্ত। আমরা মুখোমুখি বসে আছি পরম ধৈর্যের সাথে অপেক্ষা নিয়ে।
কারোও মুখে কথা নেই।
মুখ শুকিয়ে আছে আরোও আগে থেকেই।

একজন বুড়ো করে সাহার্য প্রার্থী (মহিলা) ভিক্ষার থালা বাড়িয়ে কিছু একটা চাইছে। থালায় মাঝে ফুল দেখা যাচ্ছে, সংগে কিছু টাকাও নিশ্চয় আছে। তার মাথায় ও হাতে ফুল। সত্তুরের কাছাকাছি মহিলাটিকে খুব আপন মনে হল। তার ভাঁজ পড়া মুখের মাঝেও অফুরন্ত প্রাণ। কোন দীনতা চোখে পড়ে না। আমি ওয়ালেট খুলে দেখি সব বড় টাকার নোট। স্ত্রীকে বলি, ছোট টাকাতো দেখছি না।
স্ত্রী বললো, বড় একটাই দাও। মহিলাটি টাকা পেয়ে মুখে চমতকার হাসি দিয়ে থালাসহ দুহাত তুলে আশীর্বাদ করে চলে গেল। আমার কাছে মনে হল, এই মুহূর্তে এই মহিলা আমাদের থেকে অনেক বেশী সুখী।

০৮/০৯/১৭
আজিজুল হক
ব্যাংগালোর।

খুব ইচ্ছে ছিল বেঙ্গালুরুতে নারায়ানা হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে আমার অভিজ্ঞতার (প্রায় তিরিশ দিনের) আলোকে একটা দীর্ঘ লেখা লিখবো। নানা ব্যস্ততায় তা আর সম্ভব হয়নি। আজ প্রায় দুবছর পর লিখতে বসে ছোটখাটো অনেককিছুই স্মৃতি থেকে হারিয়ে গেছে।
যতটুকু মনে পড়ে দু/একদিন অপেক্ষার পর আমার স্ত্রী হাসপাতালে সিট পেল।

রোগীকে সৌভাগ্যবানই বলতে হবে কারণ কদিন আগেই কোরবানির ঈদ ছিল বিধায় হাসপাতালে রোগীর চাপ একটু কম ছিল তখন ।
শুনেছি সিট পেতেই কারো কারো সপ্তাহ দশ দিন পার হয়ে যায়। এই সময় আপনি হোটেলে বসে কেবল রোগ, রোগী, দেশে ফেলা আসা সন্তান আর নিজ কপালের কথাই ভাববেন আর হোটেলের বিল গুনবেন।

শত শত হোটেল আপনার জন্যই এখানে গড়ে উঠেছে। আপনাকে ধরে রাখার নানা আয়োজনও তাদের আছে। তবে হোটেলের মানের তুলনায় বিল তুলনামূলক ভাবে কম এটাই আপনার জন্য একটা ভাল খবর।

যাইহোক হাসপাতালে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পর শুরু হল নতুন অপেক্ষা, অপারেশন কখন হবে তার অপেক্ষা। ভর্তি হবার পর অনেক পেশেন্ট কে দেখেছি দশ, পনের এমনকি তারও বেশি দিন অপেক্ষা করতে সিরিয়ালের জন্য। এর কারণ প্রথমত লম্বা কিউ। দ্বিতীয়ত সামান্যতম জ্বর, সর্দি বা অন্য কোন শারিরীক সমস্যা থাকলে অপারেশন হবেনা। তৃতীয় কারণ অপারেটিং সার্জনের সময়ের স্বল্পত৷

চিকিৎসার মাঝপথেই চাকুরী থেকে নেওয়া আমার ছুটি প্রায় শেষের দিকে, তার উপর ছোট ছেলেমেয়ে কে দেশে রেখে এসেছি। চিন্তায় কূলকিনারা পাচ্ছিলাম না।
আমাদের দেশে সাধারণত এডমিশনের দুএকদিন পরেই অপারেশন করে ফেলা হয়। একটু দেরি কেউই সহ্য করেনা, না ডাক্তার না রোগী।
তবে এ হসপিটালের একটা ভাল দিক হল, আপনি দেনদরবার করে যে টাকা দিয়ে ভর্তি হয়েছেন ভর্তি অবস্থায় একমাস থাকলেও আপনার বিল আর এক টাকাও বাড়বে না।

তাই ভর্তির সময় দেনদরবার টা একটু বেশীই হয়, যা আমাদের মত নিরীহ মানুষের জন্য ছিল অস্বস্তিকর। দেন দরবারের কোন আগা মাথা নেই, ছল চাতুরী করে যে যত কমাতে পারে।

একই ধরনের অপারেশনের জন্য একেক জনের টাকা একেক রকম।
চিপে চিপে সর্বোচ্চ পরিমাণ টাকা তারা হাতিয়ে নেয়।

প্যাকেজের বিষয়ে আমার বিব্রতকর অবস্থা একটু শেয়ার করি, অপারেশনর জন্য ফিট হলে প্যাকেজের অগ্রিম টাকা আগে ডলারে জমা দিয়েই তবে আপনাকে ভর্তি হতে হবে।
শ্রদ্ধেয় শেঠি বাবু আমার ফাইলে অনেক গুলো সংকেতিক চিহ্ন এঁকে দিয়ে বলেছিলেন, আপনার জন্য কিছু কমিয়ে দিলাম (বাংলাদেশে থেকে আসা সকলের জন্যই তিনি একাজটি করে থাকেন)।

সেই আঁকিবুঁকি ফাইল সহ গেলাম দেনদরবার সেকশনে। দুজন লোক পাশাপাশি দুই কক্ষে বসে দক্ষতার সহিত এ একাজটি করে থাকে।

একজন শুনেছি শেঠি বাবুর নিকট আত্মীয়। আমি তার কাছেই গেলাম। ভদ্রলোক কঠিন মুখখানা আরও কঠিন করে কাগজ, ক্যালকুলেটরে এটা সেটা লিখে বিশাল এক অংক ধরিয়ে দিলেন। এতোদিন ধরে খরচের যে তথ্য পাচ্ছিলাম এটা তার থেকে অনেক বেশি। আমাকে বিজ্ঞ জনেরা আগেই পরামর্শ দিয়েছিলেন, দুতিন দিন এমনকি এক সপ্তাহ অপেক্ষা করে যতটা সম্ভব বিল কমিয়ে নিবেন।

খুব বেশি দরাদরি আমি কখনওই করতে জানিনা, তাছাড়া আমার হাতে সময়ও বেশি নেই। যত তাড়াতাড়ি দেশে যেতে পারি ততোই মঙ্গল। আমি কঠিন চেহারার লোকটির দিকে নরম চোখে তাকিয়ে শেঠি বাবুর দাগ গুলোর দিকে ঈঙ্গিত করে বললাম, স্যার তো বিল কমিয়ে দিয়েছিলেন।
ভদ্রলোক আরও কঠিন ভাবে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, সেই জন্যই তো কম, তা নাহলে আরও বেশি হত।
বলেই আমার দিকে আরেকবার তাকিয়ে কাগজে কাটাকাটি করে আরও কিছু কমিয়ে দিয়ে বললেন, এর চেয়ে কম হবেনা। এটাই ফাইনাল।

আমি আর কথা না বাড়িয়ে বিল নিয়ে কাউন্টারের দিকে ছুটলাম। নষ্ট করার মত সময় আমার হাতে নাই। কাউন্টারে গিয়ে আবার ধাক্কা খেলাম। গোপন পকেট থেকে ডলারের বান্ডিল বের করে ভদ্রমহিলার হাতে দেবার পর ভদ্রমহিলা নরম সুরে বললেন, আপনার ব্যাংক ডকুমেন্টস দিন।
হায়, কোথায় পাব ব্যাংক ডকুমেন্টস। সবটাকা তো পাসপোর্ট এ এন্ড্রোস করা নাই। পাসপোর্টে আমার ডলার এন্ড্রোসমেন্ট ছিল সম্ভবত তিন হাজার ডলার। এর বেশি করাতে গেলেও নাকি নানা ঝামেলা হয়।

সরকারি চাকুরীজীবী বলে সমস্যা আরও বেশি। সরকারি চাকুরেদের এধরনের কাজে মিথ্যা বলাই নাকি নিয়ম। আমার সরকারি ছাড়পত্রেও ভ্রমনের উদ্দেশ্য ছিল মাজার ও পবিত্র স্থান জিয়ারত। সবাই বাকি তাই-ই করে।
চিকিৎসার জন্য নাকি সরকারি অনুমোদন দেওয়া হয়না।

হাসপাতালে ডলারের অংকে আমার বিল ছিল পাঁচ হাজার ডলারের সামান্য উপরে। কাউন্টারের মহিলা জানাল পাঁচ হাজার ডলারের বেশি বিল জমা দিতে গেলে আইনগত ভাবে প্রোপার ডকুমেন্টস লাগে।
এখন উপায়?
ভদ্র মহিলার সাফ জবাব, ডকুমেন্টস লাগবে নতুবা বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ার বাইরের অন্য কোন দেশ থেকে ডলার তাদের একাউন্টে পাঠাতে হবে।
বাংলাদেশ থেকে পাঠালে সমস্যা কি?
এর কোন জবাব তার কাছে নেই।

সারাদিনের নানা ঝক্কি-ঝামেলার পর মাথায় হাজার চিন্তার ভেতর এমন কথা শুনে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। দেশ থেকে কোনভাবে নাহয় টাকাটা ম্যানেজ করা যেত, কিন্তু বিদেশে কে আমার জন্য পাঁচ হাজার ডলার নিয়ে বসে আছে?
হতাশা উৎকন্ঠা নিয়ে আবার ছুটলাম দেনদরবার অফিসে।
এবার অন্য জনের কাছে গিয়ে অতি বিনয়ের সাথে সমস্যার কথা জানিয়ে বললাম, আপনি হয় কিছু টাকা কমিয়ে দিন অথবা কিছু ডলার রুপিতে ক্যাশ নিয়ে পাঁচ হাজার ডলারের নীচে বিল করে দিন।
ভদ্রলোকের দিলে দয়া হল, তিনি বেশি কথা না বলে বিল কমিয়ে পাঁচ হাজার ডলারের নীচে নামিয়ে দিলেন। বিলের এমন ফ্লেক্সিবিলিটি দেখে আমি অবাক হলাম।
বলাবাহুল্য এর আগে নানা পরীক্ষা, নীরিক্ষায় প্রায় এক হাজার ডলার চলে গেছে।

বিল পাঁচ হাজার ডলার জমা দেয়ার পরও রোগীর জায়গা হল সাধারণ ওয়ার্ডে। ওয়ার্ডটি পরিচ্ছন্ন হলেও ছেড়া বিচানা চাদর দেখে আমার মন খারাপ হল। আরও বেশি মন খারাপ হল একই ধরনের কএক রোগী প্রায় সপ্তাহ, পনের এমনকি বিশদিন অপেক্ষা করছে তার ডাক্তারের সিরিয়ালের জন্য।
এরমধ্যে আমার বিশ দিনের ছুটি প্রায় শেষ। তাড়াতাড়ি ছুটি বাড়ানোর জন্য নানা কায়দায় আবেদন করলাম। সাথে ডাক্তারকে আমার সমস্যার কথা জানিয়ে তাড়াতাড়ি অপারেশনের জন্য অনুরোধঃ জানালাম।
ভর্তির দুদিন পর অপারেশন জন্য ডাক পড়লো। রোগী ও আমি সারারাত করাতের নীচে শুয়ে নির্ঘুম থেকে সকালের জন্য অপেক্ষা করলাম। দেশে সবার সাথে কথা বললাম।
রোগীর রাত থেকে খালিপেটে অপেক্ষার পর বেলা একটায় জানা গেল আজ অপারেশন হবেনা। টাইম ইজ ওভার।
মেজাজটা খুব খারাপ হল। দুশ্চিন্তা আরও একদিন বাড়লো। অবশেষে পরেরদিন অপারেশন হল।
সন্ধ্যায় আইসিইউ তে আমাকে রোগী দেখাতে ডেকে নিল। আলহামদুলিল্লাহ, কোন রকম সমস্যা ছাড়া সবকিছু ঠিকঠাক মতই হয়েছে। তারপর দুদিন আইসিইউ, চার/পাঁচদিন কেবিনে থেকে তারপর হোটেলে গেলাম।

হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিতে গিয়ে আবার ধাক্কা খেলাম। বিলে দেখা গেল আমি প্রায় বার হাজার রুপি তাদের কাছে পাই।
টাকা পাওয়ার জন্য কিঞ্চিৎ আনন্দিত হলেও মন খারাপ হল দেনদরবার কক্ষের লোকের আচরণ ও শেঠি বাবুর সাংকেতিক বিল কমানোর চিহ্নের কথা মনে পড়ায়।
বুঝলাম আমার থেকে বাড়তি টাকায় নেওয়া হয়েছিল।
এমন ভাওতাবাজি, হয়রানী, রূঢ় আচরণ আমার সাথে না করলেও পারতো। বছরে শত শত কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে এই হাসপাতালে আসে। কিন্তু বাংলাদশীদের জন্য কোন সুযোগ সুবিধা এখানে নেই।

যারা নারায়ানা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন বা যাবেন তাদের উদ্দেশ্যে আমার অভিজ্ঞতা হলঃ

১) যারা শুনেছেন এখানে সিস্টাররা পরম যত্নে রোগীকে খাইয়ে দেয়, শুইয়ে দেয়, বাথরুমে নিয়ে যায় তাদের জন্য বলছি, কথা গুলো ডাহা মিথ্যা।
ঔষধ খাওয়ানো ছাড়া অন্যা কিছই তারা করেনা। অনেক সময় ঔষধ টেবিলে রেখেই চলে যায়। ডাকলেও পাওয়া যায়না। আমাদের দেশের মত রোগীর এটেনডেন্সই ভরসা।
আইসিইউ থেকে ফেরার পর আমার রোগীর দুই বেডের কেবিনে জায়গা হলেও সেবার মান দেখে সত্যিই হতাশ হয়েছি। সবকিছু আমাকে একাই সামলাতে হয়েছে।

২) যারা শুনেছেন এখানে ওষুধপত্র টাইমলি আদর যত্ন করে খাওয়ানো হয় এটাও পুরোপুরি ঠিক না। আমি আমার এক কেইসেই মারাত্মক দুটো ভুল দেখেছি।
আইসিইউ থেকে কেবিনে আসার প্রথম দিন রাতে সিস্টার এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন (সম্ভবত) দিতে ভায়ালে মিশ্রণ দিতেই দেখা গেল ঔষধের রঙ বিদঘুটে হয়ে গেল। আমি ও সিস্টার একে অন্যের মুখ চাওয়াচাওয়ি করলাম। সিস্টার কিছু একটা লুকাতে গিয়েও লুকালোনা। বললো ভায়ালের ঔষধে সমস্যা আছে। আমি মেয়াদ দেখলাম ঠিক আছে। সিস্টারও দেখল। কিন্তু ভায়ালের ভেতরে সমস্যা। যদিও এই ঔষধ গুলো রোগীর সাথে ট্রেতে করে আইসিইউ থেকে এসেছে। পরে সিস্টার অন্যা ভায়াল এনে ইনজেক্ট করেছিল।
ভাগ্যিস আমার ও সিস্টারের নজর ছিল বলে সে যাত্রায় বেঁচে গেল। কিন্তু আমি অবাক হলাম এমন ভুল কি করে হয়??

এর পরের দিন রাত এগারোটা হয়ে গেলেও কেউ ইনজেকশন দিল না, যদিও ট্রিটমেন্ট সীটে লিখা ছিল। আমার সন্দেহ হল। এতো তাড়াতাড়ি এন্টিবায়োটিক শেষ হবার কথা না। আমি হোটেলে ফিরে যাবার আগে সিস্টারের কাছে গেলাম। আগের সিস্টার নাই। সিফট শেষ। নতুন সিস্টার সীট দেখে বললো, ও দেয় নি?
আমি বললাম, না।
রাত দশটার ঔষধ বারটায় দেওয়া হল, আমি না বললে দেওয়াই হতনা।

৩) অর্ধেকেরও বেশি রোগী বাংলাদেশ ও কোলকাতার হলেও ওখানকার সিস্টাররা প্রায় সবাই কেরালা বা আশেপাশের। ওরা হিন্দি বোঝেনা, ইংরেজি জানেনা বাংলার তো প্রশ্নই উঠেনা। আমাদের দেশ থেকে আসা কম শিক্ষিত লোকদের জন্য এটা মারাত্মক সমস্যা। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে আমিই দোভাষীর কাজ করেছি।
ওদের সাথে কমিউনিকেট করা বড়ই জটিল।
তাছাড়া অধিকাংশ সিস্টার নতুন ও অদক্ষ। কম বেতনে কাজ শুরু করে দুতিন বছর এ হাসপাতালে থেকে অভিজ্ঞ হলে তারা বেশি বেতনে অন্যত্র চলে যায়।

৪) অধিকাংশ রোগী বাংলাদেশ ও কোলকাতার হলেও রোগীর জন্য খাওয়ার মেনু স্থানীয়। যা কোন রোগীই মুখে দিতে পারেনা। ইগলিমত জঘন্য খাদ্য আমি পূর্বে কখনো খাইনি।
রোগীর খাবার জন্য আপনাকে ছুটতে অনেক দূরে অবস্থিত মাত্র দুটো বাঙালি হোটেলে অথবা নিজে রান্না করতে হবে। আমার মত একজন এটেনডেন্ট এর জন্য হোটেলই ছিল ভরসা। যদিও রেস্তোরাঁর খাবার রোগীর জন্য মোটেও স্বাস্থ্যকর ছিল না।

৫) সবার ধারণা এখানে ডাক্তার ভুল করেননা। এটাও ভুল ধারণা। মানুষ যত বড়ই হোক ভুল করবেই। আর ভাগ্য বলে একটা কথাতো আছেই। আমার একমাস কালীন সময়ে অনেক রোগী ও রোগীর এটেনডেন্টের সাথে প্রায় প্রতিদিনই একবার করে দেখা হত। সব খবর পাওয়া যেত সহজেই। ওই সময়ের মধ্যে আমার রোগীর মত একই সমস্যায় নিয়ে আসা অন্তত তিনজন রোগীর অপারেশন ব্যর্থ হয়েছে ডাক্তার অথবা ভাগ্যের কারণে।

একটা ঘটনা বলেই শেষ করবো।
একজন পুলিশ অফিসার আমার হোটেলেই থাকেন। রোগী তার ৭/৮ বছরের মেয়ে। আমার মিসেসের মতই ভিএসডিপেশান্ট। তবে গুরতর কিছু না। অপারেশন না করালেও তেমন কোন সমস্যা হতনা। এমনকি দেশেও সহজভাবে এ অপারেশন করা সম্ভব ছিল।

ভদ্রলোক ইউএন মিশন শেষ করে দেশে এসে মনের শান্তনার জন্য মেয়েকে নিয়ে নারায়না হাসপাতালে আসেন। আমার মিসেসের একদিন পর মেয়েটির অপারেশন হয়। খুব সহজ অপারেশন ডিভাইস ক্লোজারলাগানো। ওপেন হার্ট সার্জারী ছাড়াই ডিভাইস ক্লোজার দিয়ে ছিদ্র বন্ধের এই সহজ প্রক্রিয়াটি জটিলতা, ভুল চিকিৎসা অথবা ভাগ্যের কারণে মেয়েটার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়। মেয়েটির হার্টের ভালব নষ্ট হয়ে যায়। লাইফ সাপোর্টের মাধ্যমে মেয়েটিকে বাঁচিয়ে রেখে প্রথমে পেস মেকার লাগানো হয় অত:পর ওপেন হার্ট সার্জারী করে ছিদ্র বন্ধ করা হয়। আমাদের দেশে যাবার আগেই ভদ্রলোকের দেশে যাবার কথা ছিল, টিকেটও করা ছিল।
ভাগ্য তার সাথে ছিলনা। আমরা চলে আসার সময়েও মেয়েটি আইসিইউ তে ছিল। কবে ছাড়া পাবে নিশ্চিতভাবে কেউ বলতে পারছেনা। মেয়েটি যতদিন বেঁচে থাকবে তাকে পেস মেকার নিয়েই বাঁচতে হবে। হসপিটাল কতৃপক্ষ পুলিশ অফিসারটির কাছ থেকে বাড়তি অনেক টাকাও নিয়েছে পেস মেকার ও ওপেন হার্ট সার্জারীর জন্য।
সিড়িতে বা লিফটে মেয়েটির বাবার সাথে যতবার দেখা হত আমার চোখ ততোবারই আদ্র হত।
দেশে ফিরে আসতে আসতে ভাবি, যদি বাংলাদেশের একটি ক্লিনিকে একজন পুলিশ অফিসারের মেয়ের এমন অবস্থা হত তাহলে কি কান্ডই না জানি ঘটতো।
কিন্তু ওখানে ভদ্রলোক একেবারেই নিশ্চুপ। কেবল বললো মেয়েটি যে বেঁচে আছে এটায় আল্লাহর রহমত।

শেষ কথা, ব্রিগ্রেডিয়ার ডা. নূর নাহার ফাতেমা (ল্যাব এইডএ বসে) এএসডি ও ভিএসডি এর জন্য এশিয়ার একজন বিখ্যাত ডক্তার। শত হাজার রোগীকে ডিভাইস ক্লোজার দিয়ে হার্টের ছিদ্র বন্ধ করেছেন। এখনো করছেন। খরচ বিদেশ থেকে অর্ধেকেরও কম। আমার মিসেসকে মাত্র তিন হাজার টাকার বিনিময়ে মাত্র পাঁচ মিনিট পরীক্ষা করে যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন ব্যাঙ্গালোরের নারায়ানা হাসপাতালে দশদিন ধরে ৬০/৭০ হাজার টাকা খরচ করে নানা পরীক্ষার পর অনেক ডাক্তার মিলে সেই একই সিদ্ধান্ত দিয়েছে।

আমার অভিজ্ঞতায় যা দেখেছি দেশ আর বিদেশের চিকিৎসার পার্থক্যের সার কথা হল, আস্থা ও বিশ্বাস।
আমাদের দেশের দক্ষ সার্জনের অভাব নাই। অভাব শুধু একটা, তা হল, বিশ্বাস আর আস্থা।
দেশের ডাক্তার ও চিকিৎসা ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকেই এ বিষয়ে আবার আগে এগিয়ে আসতে হবে।

(আমার মিসেসের কেসটা একটু জটিল বিধায় ফাতেমা ম্যামই ওখানে রেফার করেছিলেন)।

১৩/০৬/১৯
কুয়েত

কাল হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাব। স্ত্রী হাসপাতালের বিছানায় আমি ছয় তলার বারান্দায় বসে দেখছি বাইরে চমৎকার নানা রকমের ফুল ফুটে আছে। টেনশনের কারনে এতোদিন এমন চমৎকার ফুল চোখে পড়েনি। এর ভেতর কৃষ্ণচূড়াও আছে।
মোবাইলে বসে বসে লিখলাম…..

এখানেও যে কৃষ্ণচূড়া ফোটে
কৃষ্ণ কি আর রাধার জন্য অপেক্ষাতে থাকে?
বৃষ্টি শেষে এখানেও রঙধনুটা উঠে
বিরহী সুর কৃষ্ণ বাঁশী বুকের ভেতর বাজে।
রাধা নেই কৃষ্ণও নেই বাঁশী তবু বাজে
বুকের জ্বলায় আকাশ জ্বলে ছাই হয়েছে কবে!

দিনাজপুরের ভূগর্ভস্থ গ্রানাইট পাথরের খনি বন্ধ রেখে পাথর আমদানী কার স্বার্থে ?

দিনাজপুরের ভূগর্ভস্থ গ্রানাইট পাথরের খনি বন্ধ রেখে পাথর আমদানী কার স্বার্থে ?

দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়ায় অবস্থিত বাংলাদেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ গ্রানাইট পাথরের খনি। ২০০৭ সাল থেকে এ পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। অতি উন্নত মানের এবং দেশে চলমান ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়নকাজে, যেমন বৃহৎ সেতু, সড়ক ও মহাসড়ক, নদীশাসন, নদীভাঙন রোধ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে এই কঠিন শিলার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মধ্যপাড়া খনিটির দায়িত্বে নিয়োজিত পেট্রোবাংলার অঙ্গসংগঠন মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানির সঙ্গে জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) নামধারী এক কোম্পানি একটি চুক্তির মাধ্যমে বর্তমানে খনি পরিচালনা ও পাথর উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত রয়েছে।

কিন্তু খনি পরিচালনা ও উত্তোলন কর্মকাণ্ডে এই কোম্পানির অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে গত পাঁচ বছরে কঠিন শিলা উত্তোলনে ধস নামে। ছয় বছর মেয়াদি চুক্তি অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি ২০১৪ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২০ সাল পর্যন্ত কোম্পানিটির মোট ৯২ লাখ টন পাথর উত্তোলন করে দেওয়ার কথা। কিন্তু চুক্তিবদ্ধ সময়ের শেষ বছরে এসেও আজ অবধি কোম্পানিটি মাত্র ৩০ লাখ টন পাথর উত্তোলন করেছে। উত্তোলনের কাজের নিম্ন ধারা চুক্তিবদ্ধ সময়ের দ্বিতীয় বছরেই ফুটে ওঠে, চুক্তি অনুযায়ী ১৪ লাখ টন পাথর উত্তোলনের কথা থাকলেও উত্তোলিত হয় ৫ লাখ টন। 

তৃতীয় বছর ১৬ লাখ টন পাথর উত্তোলনের স্থলে উত্তোলন করা হয় মাত্র ১ লাখ টন এবং চতুর্থ বছরে ১৭ লাখ টনের স্থলে উত্তোলন করা হয় মাত্র ৪ লাখ টন। অধিকন্তু চুক্তিবদ্ধ সময়ের মধ্যে প্রায় এক বছরের বেশি সময় পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকে। বর্তমানে এপ্রিল থেকে এক মাসের অধিক সময়ব্যাপী কারিগরি অব্যবস্থাপনার কারণে পুনরায় পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। মধ্যপাড়া খনি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, চুক্তিবদ্ধ সময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ পাথর উত্তোলন করে না দেওয়ার ফলে রাষ্ট্রীয় ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৬০০ কোটি টাকা। প্রশ্ন উঠেছে, এ ক্ষতির দায় কে নেবে।


মধ্যপাড়া গ্রানাইট পাথরের মজুতটি ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ আবিষ্কার করে। এখানে প্রায় এক বর্গকিলোমিটার এলাকায় অতি অল্প গভীরতায় গ্রানাইট পাথরের মজুত ১৭ কোটি ৪০ লাখ টন বলে প্রমাণিত হয়, যার প্রায় ৪২ শতাংশ উত্তোলনযোগ্য। বছরে ১৬ লাখ টন করে উত্তোলনের মাত্রা ধরে নির্মিত এই খনি ৭০ বছর ধরে উত্তোলনে থাকতে পারে বলে হিসাব করা হয়। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একটি চুক্তির অধীনে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নামনাম ২০০৭ সালে খনিটি নির্মাণ শেষ করে এবং উৎপাদনে নিয়ে আসে। 

২০১৪ সাল থেকে খনিটি পরিচালনা ও পাথর উত্তোলনের দায়িত্ব একটি চুক্তির মাধ্যমে জিটিসিকে দেওয়া হয়। কোম্পানিটি জার্মানিয়া করপোরেশন নামে বাংলাদেশি এক পরামর্শক সংস্থা এবং ট্রেস্ট শাখতস নামে বেলারুশের একটি সংস্থার সমন্বয়ে গঠন করা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশি সংস্থাটির অন্য কোথাও কোনো কার্যক্রম আছে বলে জানা যায়নি এবং কেবল মধ্যপাড়া খনির কাজ পেতেই এটি গঠিত হয়। এটির কর্ণধার একজন বাংলাদেশি, যিনি রাশিয়ায় উচ্চতর শিক্ষা শেষ করে জার্মানিতে বসবাসের সূত্রে জার্মানির নাগরিকত্ব লাভ করেন বলে জানা যায়।

কোম্পানিটির সঙ্গে সম্পাদিত ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার চুক্তি অনুযায়ী খনিটিতে ছয় বছরে ১২টি স্টোপ নির্মাণ করে, তা থেকে মোট ৯২ লাখ টন পাথর উত্তোলন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, খনি উন্নয়নে কারিগরি ডিজাইন ড্রয়িং প্রণয়ন এবং নানাবিধ ভূগর্ভস্থ নির্মাণ কর্মকাণ্ড সম্পাদনের মাধ্যমে খনিটিকে আধুনিক ধাঁচে পরিবর্ধন করা এবং তার পরিকল্পনা আগে থেকে মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইন কোম্পানিকে জানানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু জিটিসি কোম্পানি প্রথম থেকেই কর্তব্যে অবহেলা ও চুক্তির ধারা তোয়াক্কা না করে সময়ক্ষেপণ করে।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদনে (২০১৫-১৬) বিষয়টি সুস্পষ্ট করে লিপিবদ্ধ করা হয়। তাতে বলা হয়, চুক্তির ৪২.১ এবং ৪২.২ ধারা অনুযায়ী, জিটিসি কর্তৃক ছয় বছর সময়ের টাইম বাউন্ড অ্যাকটিভিটি শিডিউলডপেশ করার কথা থাকলেও জিটিসি তা পেশ করেনি। কেবল তাই নয়, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, চুক্তিবদ্ধ ১ হাজার ৪০০ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন খাতের পাওনা ইতিমধ্যেই জিটিসি কোম্পানি কখনো চাটুকারের আশ্রয় নিয়ে, কখনোবা বিশেষ মহলের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করে হাতিয়ে নেয়। 

অথচ তার বিপরীতে যে ৯২ লাখ টন পাথর উত্তোলন করে দেওয়ার কথা, তার মধ্যে কেবল ৩০ লাখ টন পাথর উত্তোলন করে। চুক্তিবদ্ধ সময়ের বাকি মাত্র আট মাস সময়ে চুক্তিবদ্ধ পরিমাণ পাথর তোলা সম্ভব নয়, তা নিশ্চিত। আর এর ফলে ৬০০ কোটি টাকার যে ক্ষতি হবে, তার ভার এসে পড়বে বাংলাদেশের ওপর।

কঠিন শিলা ব্যবহারকারী সংস্থাসমূহে বাংলাদেশের নিজস্ব পাথর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবহৃত হবে, এটিই সবার কাম্য। এতে একদিকে যেমন সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পাওয়ার সুবিধা রয়েছে, তেমনি নিজ দেশের খনিশিল্পের প্রসার লাভ এবং স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। 

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের নিজ পায়ে দাঁড়ানোর প্রকৃষ্ট উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। কিন্তু এ সেতু নির্মাণে নদীশাসনের কাজে এবং অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণে যে বিপুল পরিমাণ পাথর ব্যবহৃত হচ্ছে, তা মধ্যপাড়া খনি থেকে নেওয়া হচ্ছে না, বরং ভারত ও অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করে আনা হচ্ছে।

গুণগত মানের দিক থেকে মধ্যপাড়া খনির পাথর বিদেশ থেকে আমদানি করা পাথরের তুলনায় উন্নত মানের অথবা সমমানের। দামের দিক থেকেও মধ্যপাড়া গ্রানাইট পাথর (টনপ্রতি ৩৫ ডলার) ভারত থেকে আমদানি করা পাথরের ((টনপ্রতি ৪০ ডলার) তুলনায় সাশ্রয়ী। মধ্যপাড়া পাথরের টুকরোর সাইজ চাহিদা অনুযায়ী তৈরি করা সম্ভব এবং তা না করে বিদেশি পাথর আমদানি করা মোটেই যুক্তিসংগত নয়। 

এর পেছনে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের চতুর চাল জড়িত, তা বলাই বাহুল্য। এমনকি অতীতে খনি কর্তৃপক্ষের কোনো কোনো সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্তাব্যক্তিও এসব সিন্ডিকেটের অদৃশ্য সহযোগী হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর ফলে লাভবান হন কর্মকর্তা, ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাষ্ট্র।

কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান কর্তৃক মধ্যপাড়া পাথর না কেনার অন্য একটি কারণ হতাশাজনক এবং এর জন্য সরকারি নীতির অসম প্রয়োগই দায়ী। সম্প্রতি সরকার পাথর পরিবহনকারী যানবাহনে পাথরের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। সে অনুযায়ী দেশের যেকোনো স্থানে ১০ চাকার একটি ট্রাক সর্বোচ্চ ২৪ টন পাথর বহন করতে পারবে, যেটি আগে ৪০ টন বা তার বেশি পাথর বহন করত। 

নিয়মটি আদর্শিকভাবে ন্যায্য হতে পারে, কিন্তু তার প্রয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপক বৈষম্য রয়েছে। যেমন মধ্যপাড়া খনি কর্তৃপক্ষের জন্য এ নিয়ম মানার বাধ্যবাধকতা রয়েছে এবং তাই খনি কোম্পানি তার কোনো ব্যত্যয় ঘটায় না। কিন্তু সীমান্তের ওপার থেকে বা বিদেশের যেকোনো স্থান থেকে আমদানি করা পাথর যখন বাংলাদেশে সড়কে ট্রাক দ্বারা পরিবহন করা হয়, তখন এ নিয়ম প্রয়োগ হয় না। সুতরাং একজন ব্যবসায়ী পাথর ক্রেতা মধ্যপাড়া থেকে পাথর কিনে দুটি ট্রাক ভাড়া করে

তা ঢাকা পর্যন্ত আনতে যে খরচ করবেন, তিনি আমদানি করা পাথর কিনে একটি ট্রাকে করেই ওই পরিমাণ পাথর অপেক্ষাকৃত কম পরিবহন খরচে ঢাকায় নিয়ে আসতে পারবেন। তাই তিনি মধ্যপাড়ার পাথর না কিনে আমদানি করা পাথর কিনতে অধিকতর আগ্রহী হন।

দেশীয় খনিজ সম্পদ উত্তোলন ও ব্যবহার জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার ÿক্ষমতা রাখে। দেশের প্রাকৃতিক গ্যাস অর্থনীতির চাকাকে এগিয়ে নিতে বহু বছর ধরে অবদান রেখে এসেছে, যদিও কখনো কখনো এর ব্যবস্থাপনা দুর্নীতি ও দুর্বলতার দূষণে দুষ্ট হয়েছে। সম্প্রতি বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে বড় আকারে কয়লা উধাও হওয়ার অভিযোগ ও কেলেঙ্কারি বাংলাদেশের খনিশিল্প উন্নয়নকে বড় রকমের ধাক্কা দিয়েছে। 

বর্তমানে মধ্যপাড়া গ্রানাইট পাথরের এই অব্যবস্থাপনা দেশের খনি উন্নয়ন ও সম্পদ আহরণের ক্ষেত্রে আরও একটি ধাক্কা। প্রশ্ন হলো, কেন বাংলাদেশকে বারবার নিজের সম্পদ আহরণে হোঁচট খেতে হয়। কেন বিদেশি অসৎ বণিকের দল বাংলাদেশে সম্পদ লুণ্ঠনে দেশীয় দোসরদের সঙ্গে নিয়ে তাদের স্বার্থ হাসিলের পথ খুঁজে পায়।

এসব কর্মকাণ্ড নজরদারি বা তদারক করার দায়িত্বে নিয়োজিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, সেটি পেট্রোবাংলা হোক বা মন্ত্রণালয় হোক, তাদের দায়িত্বে অবহেলা কি অস্বীকার করতে পারে?

পথও শিশুদের শেল্টার হোমসের নামে চলে বানিজ্য

পথও শিশুদের শেল্টার হোমসের নামে চলে বানিজ্য

একটা বিষয় নোটিশ করলাম--- আজকাল ক্লাশ সেভেন এইটের মেয়েরা frequently প্রেগন্যান্ট হচ্ছে ! ব্যাপারটা খুব আজব এবং অবশ্যই দুঃখজনক। বলার অপেক্ষাই রাখে না যে এগুলো সব বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে ঘটছে। অবশ্য এই বয়সে বিয়েই বা হবে কেন ?

হুমম কিশোরী বেলায় প্রেম জীবনে আসতেই পারে। সেটা স্বাভাবিকও। কিন্তু তাই বলে এই বয়সে প্রেগন্যান্ট !!! এটা একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যায় না ? কিশোরী বেলার প্রেমে শরীর কিভাবে আসে ?

এসব কেসে আমাদের সমাজে সাধারণত ছেলেদেরকে দায়ী করা হয়। মেয়েগুলোকে ভিক্টিম বানানো হয় । কিন্তু সব সময় যে ছেলেরাই মেয়েগুলোকে use করছে ঘটনা কিন্তু তা না। বহুত পাকনার হাড্ডি ঝুনা নারকেল টাইপ মেয়ে দেখতে পাই ডাক্তার হবার সুবাদে। যাদের কাছে psysical relation করতে পারাটাই যেন একটা যোগ্যতা ! নিজেরে বিশেষ কিছু প্রমাণ করা !!
Yeah I lost my virginity at 13 ! বলাটাই যেন ক্রেডিট ।

ব্যক্তিগত কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করি আপনাদের সাথে-------
আমি একটা আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবাসিক চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেছিলাম বছরখানেক। তো সেখানে adolescent child health care নিয়ে হেলথ সেশন করতে হতো আমাকে। মজার কথা হলো আমি তাদেরকে কি সেশন/ ওয়ার্কশপ করাব তারা সব জেনে বসে আছে দেখতাম। গ্রেড থ্রি/ ফোরের বাচ্চা মেয়েগুলো পিরিয়ড, প্যাড এমনকি intercourse নিয়ে পর্যন্ত ঝরঝরে ডিসকাশ করতো ডক্টর মিসের সাথে। 

ছেলেরা তো আরো ভয়ংকর। মাস্টারবেশন, ড্রাগস, ইয়াবা, স্মোকিং এ ইরেকটাইল ডিসফাংশন হয় কিনা তাদের ডিসকাশনে চলে আসতো এসব টপিক। কি বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে? ঘটনা কিন্তু পুরোই সত্যিই। এমনকি আইসিটি ক্লাশের জন্য ব্যবহৃত পিসিতে তারা নিজেদের প্রাইভেট পার্টসের ন্যুড পর্যন্ত শেয়ার করতো ! ধরাও খেত। কারন পুরো ক্যাম্পাসের আইটি ডিপার্টমেন্ট 24/7 এক্টিভ থাকতো। কিন্তু কোন রকম ভয় বা পাপবোধ দেখতাম না ওদের চোখে মুখে।

কি বলব ? বাচ্চাগুলোর শরীরে কিছুই নাই আই মীন মাত্রই development period চলছে তবুও শরীরকে ঘিরেই তাদের সব ভাবনা চিন্তা হতাশ করতো আমাকে।

আমি হয়তো খানিকটা সেকেলে বলে এসব হজম করতে বেগ পেতাম। আমার কষ্ট হতো। ওদের এই বয়সে আমরা তিন গোয়েন্দাতে বুঁদ হয়ে থাকতাম। গান, আবৃত্তি, ডিবেট ক্লাশে দৌঁড়াতাম। নামাজ না পড়লে আম্মুর হাতে মাইর খেতাম । আর ওরা প্ল্যান করে কিভাবে মা বাবাকে চাপ দিয়ে নতুন মডেলের গ্যাজেট/ মেকাপ বক্স আদায় করবে। এমনকি নতুন মডেলের গাড়ির আবদার করতে দেখেছি গ্রেড নাইনের বাচ্চাকে!!!

আপনারা হয়তো ভাবছেন বড়লোকের পোলাপাইন এমনই তো হবে। বাপের মায়ের অবৈধ পয়সার খেসারত এসব।
না, ঘটনা কিন্তু তা না।

2013তে দেশের প্রথম সারির একটা এনজিওর শেল্টার হোমসের মেডিকেল অফিসার হিসেবে কাজ করেছি। মূলতঃ পথ শিশুদেরকে আশ্রয়, একাডেমিক এবং কারিগরী শিক্ষার ব্যবস্থা করতো এনজিওটা। ওখানে হোমসে থাকা চৌদ্দ বছরের কিশোরীকে প্রেগন্যান্ট হতে দেখেছি আমি। ছুটির মধ্যে হেড অফিস থেকে আমার উপর অর্ডার এবং চাপ এসেছিল যেভাবেই হোক abortion এর ব্যবস্থা করে সেইফ রিপোর্ট সাবমিট করার জন্য ! 

হিস্ট্রি নিতে যেয়ে জানতে পারি মেয়েটি স্কুল শেষে যে পার্লারে যেত কাজ শিখতে(কারিগরি শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত ছিল এটা) ওখান থেকেই ওর কয়েকজনের সাথে পরিচয় ঘটেছিল। ঐ বয়সেই মেয়েটির কয়েকজন সেক্স পার্টনার ছিল ! এবং মেয়েটি নিজে আমাকে হিস্ট্রি দিয়েছিল সে মোটেও অখুশি বা অনুতপ্ত না এইসব নিয়ে। She loudly told me that she was enjoying those times !

এই হচ্ছে সমাজের চিত্র।

অবশ্যই এসব অধঃপতনের জন্য বাবা মা এবং সমাজকে দায়ী করব আমি। খালি সন্তান জন্ম দিলেই তো হবে না। তাকে পারিবারিক শিক্ষা, নৈতিকতা , মূল্যবোধ তো শেখাতে হবে। আর সমাজ তো পুরোই মুখোশধারী আমাদের। শেল্টার হোমসের নামে চলে বানিজ্য ! কাঁড়ি কাঁড়ি ফান্ড ঠিকই আসে । কিন্তু তা এ সমাজের উঁচুতলার সুশীলদের, টকশো ওম্যানদের ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স ভারী করে। Dis advanced children রা তার খুব সামান্যই ভোগ করে।

সকালবেলা এই ধরনের টপিক নিয়ে লেখার কোন ইচ্ছে ছিল না আমার। লিখলাম কারন আমার বাসায় কয়েক বছর আগে কাজ করত যে খালা সে ভোরে ফোন করে কাঁদতে কাঁদতে জানাল---- তার তের বছরের মাইয়ার পেটে বাচ্চা। পেরেম করছিল মাষ্টরের লগে। লতাপাতা দিয়ে বাইর করার চেষ্টা করছে বাড়ীতে। এখন প্রচুর ব্লিডিং হচ্ছে । কি করবে ?

দ্রুত হাসপাতালে নেবার পরামর্শ দিলাম। চোখে ভেসে উঠলো খালার মেয়েটার মুখটা। হাফ প্যান্ট পরা মেয়েটা খালার সাথে আসতো আমার কোয়ার্টারে। আল্লাহ যেন ওকে বাঁচিয়ে দেন।

আচ্ছা, যত্রতত্র যখন তখন শুয়ে পড়া ছাড়া এবং বাচ্চা পয়দা করা ছাড়া ( sorry for using these words) আর কোন ক্রিয়েটিভিটি কি নেই এই জাতির ?
http://archive.is/9cBpc

বেশী করে সন্তান জন্ম দিন, দেশের উন্নয়নে অংশ নিন

বেশী করে সন্তান জন্ম দিন,  দেশের উন্নয়নে অংশ নিন

দেশী-বিদেষি মিডিয়া,নাস্তিক, ইসলামবিদ্বেষি এবং ষড়যন্ত্রকারীরা বলে থাকে " বাংলাদেশে নাকি জনসংখ্যা বৃদ্ধি একটি বড় সমস্যা। এর প্রভাব নাকি দেশের জন্য কুফল বয়ে আনবে!" নাউযুবিল্লাহ
যার কারনে তারা মুসলিম এই দেশে জন্মনিয়ন্ত্রনের ব্যবস্থা করেছে, পরিণত বয়সে বিয়ে বন্ধ করেছে ইত্যাদি।
অথচ সন্তান জন্মদানের সঙ্গে অর্থনীতিও জড়িত ওতপ্রোতভাবে। জন্মহার কমা সক্রিয় অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক।

জন্মহার কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমতে থাকে। এর অর্থ দেশ পরিচালনায় পাওয়া যায় তুলনামূলক কম শ্রমিক এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে সহায়তার জন্য সংগৃহীত কর রাজস্বের হারও কমে আসে। বলাই বাহুল্য, জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় প্রভূত প্রভাব পড়ে ভোক্তা ব্যয়ে।

রাশিয়া, চীন, জার্মানি, ব্রিটেন, আমেরিকাসহ বেশ কয়েকটি দেশ আছে যেখানে জন্মহার খুবই কম। এতই কম যে, দিনে দিনে সেখানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বাড়ার বদলে কমে যাচ্ছে। অর্থাৎ সেসব দেশে জনসংখ্যা কমছে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে শহর, স্কুল।

অনেক দেশের পরিস্থিতি এমন যে, অর্থনৈতিক কর্মকান্ড- পরিচালনার মতো পর্যাপ্ত লোকবলের জন্য বিদেশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে সেসব দেশকে। বেশ কিছু দেশ এই পরিস্থিতিতে তাদের নাগরিকত্ব নীতিমালাও পাল্টে ফেলছে।

একই প্রভাবের ছায়া বাংলাদেশেও পরিলক্ষিত হচ্ছে।
যার অন্যতম প্রমাণ পাওয়া গেছে এ বছর ধান কাটার ক্ষেত্রে।
ধান কাটার জন্য শ্রমিক পাওয়া যায়নি। যার কারনে শ্রমিকের খরছ গেছে বেড়ে। যার ফলে কৃষকের ধান সংগ্রহে ব্যয় এবং বিক্রি মুল্য সামঞ্জস্য হচ্ছেনা।
শ্রমিকের অভাবে মাঠের ধান মাঠেই পড়ে ছিল।
তার মানে দেশে পর্যাপ্ত জনসংখ্যা নেই।

পুর্বে প্রতিটি পরিবারে ৫-৭ জন করে সন্তান থাকত। প্রত্যেক সন্তান কাজে পরিবারকে সাহায্য করত। ৫-৭ জন সন্তানের ১ জন হলেও কৃষি কাজে যুক্ত থাকত।
কিন্তু এখন জন্ম নিয়ন্ত্রনের কারনে পরিবারে ১-২ করে সন্তান থাকে। যারা পরিবারের কাজে আসেনা। নিজেদের ক্যারিয়ার নিয়েই ব্যস্থ থাকে।

আবার দেশে কল কারখানা বাড়ার কারনে লোকজন সেখানে যাচ্ছে, বিদেশে যাচ্ছে।
অর্থনৈতিক অঞ্চল বাড়ার সাথে সাথে সেখানেও কর্মক্ষম লোকের চাহিদা বাড়ছে।
তার মানে বাংলাদেশে এখন প্রচুর কর্মক্ষম লোকের দরকার।

মূলত জনসংখ্যাই জনসম্পদ।
যে দেশের জনসংখ্যা যত বেশী, সে দেশের উন্নয়নের সম্ভাবনাও তত বেশী।
তাই বাংলাদেশে জন্মনিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা এবং বাল্য বিয়ে নিরোধ আইন উভয়ই প্রত্যাহার করা উচিত।

শত্রুরা চায় মুসলমানদের সংখ্যা না বাড়ুক। কারণ মুসলমানদের সংখ্যা বাড়লে শত্রুরা সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে এবং মুসলমানেরা নিজেরা স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে যেতে পারে: নিজেরা চাষাবাদ করবে, ব্যবসা বাণিজ্য করবে- এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটবে ও আরও নানামুখি কল্যাণ অর্জিত হবে। আর যদি তারা সংখ্যায় অল্প হয়ে থাকে তাহলে লাঞ্ছিত হয়ে থাকবে এবং সবকিছুতে অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকবে।

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের জন্য চরম ক্ষতিকর হবে। তখন উলটো বেশি করে সন্তান গ্রহণ করার জন্য পুরষ্কার ঘোষণা করা লাগবে যেমন করছে অমুসলিম দেশসমূহ। জনসংখ্যা মহান আল্লাহ পাক উনার দান, খাছ রহমত। তাই জন্মনিয়ন্ত্রন নয় ,বেশি করে যাতে সবাই সন্তান গ্রহণ করেন সে বিষয়ে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা সরকারের দায়িত্ব এবং কর্তব্য।

পরিশেষে, আমাদের প্রয়োজন জনসংখ্যা বৃদ্ধি করা এবং এর সাথে সাথে উন্নয়ন পরিকল্পনাকে ইসলামীকরণ করা, বিধি-বিধানকে ইসলামীকরণ করা, আইন-কানুনকে ইসলামীকরণ এবং এর সাথে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানকে কাজে লাগানো।