বাংলাদেশের পার্বত্য এলাকায় ভিন দেশী সংস্কৃতি প্রবর্তনের ষড়যন্ত্র!

বাংলাদেশের পার্বত্য এলাকায় ভিন দেশী সংস্কৃতি প্রবর্তনের ষড়যন্ত্র!


বাংলাদেশের পার্বত্য এলাকাকে ঘিরে এন জি ও এবং আন্তর্জাতিক খ্রিষ্টান লবি ভিন দেশী সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ধর্ম প্রচারের লক্ষ্যে সুদীর্ঘ কাল ব্যাপী নানা মুখী চক্রান্ত চালিয়ে আসছে। চিকিৎসা, সমাজ ও মানবতার সেবার অভিনয়ে তারা মূলতঃ পার্বত্য এলাকার দারিদ্র্যপীড়িত জনগোষ্ঠীকে ইউরোপীয় জীবনাচার ও দর্শনের দিকে আকৃষ্ট করার প্রয়াস চালাচ্ছে।

মুঘল আমলেই এদেশের প্রতি এন জি ও এবং খ্রিষ্টান মিশনারীদের শ্যেন দৃষ্টি পতিত হয়। ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর শাসনামলে মিশনারীগণ ভিন দেশী সংস্কৃতির বিকাশ ও ধর্মান্তরের যে প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিক ভাবে চালু করে, পর্যায়ক্রমে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আমলে তার ক্রমবিকাশ সাফল্যের সাথে অব্যাহত থাকে। স্কুল প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, হাসপাতাল স্থাপন, ঋণ প্রদান, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ, দারিদ্র্য বিমোচন, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ও নারীর ক্ষমতায়ন প্রভৃতি মুখরোচক কর্মসূচীর আড়ালে রয়েছে এ দেশে ইউরোপীয় সংস্কৃতি ও খ্রিষ্টান ধর্ম প্রচার করার নীল নকশার বাস্তবায়ন।

'সাধারণভাবে এসব ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী এবং বিশেষভাবে পাহাড়িরা অত্যন্ত কষ্টে আছে', ‘মানুষকরার জন্য নানামুখী সহযোগিতা প্রয়োজন, তাদের পৃথক সত্তা ও নিজস্ব সংস্কৃতি রক্ষা নিশ্চিত করতে হবে' ইত্যাদি বক্তব্য দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও প্রচুর শোনা যায়। এর সূত্র ধরে বিদেশি ফান্ড দ্বারা পরিপুষ্ট ঝাঁকে ঝাঁকে এনজিও এখন তিন পার্বত্য জেলায় সক্রিয় আছে। কিন্তু এতদিনে পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, আর্ত-মানবতার সেবার নামে এসব এনজিওর বেশিরভাগই আসলে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে ধর্মান্তরিত করার কাজে কোমর বেঁধে নেমেছে।

এ কাজে তাদের সাফল্য রীতিমত চোখ ধাঁধানো। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আমার দেশ-এ প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে,

সাজেক ইউনিয়নটি সীমান্তবর্তী দূর্গম পাহাড়ী অঞ্চলে অবস্থিত যা আয়তনে বাংলাদেশের একটি জেলার সমান। নৈসর্গিক সৌন্দর্য লালিত এই উপত্যকায় পৌঁছতে খাগড়াছড়ি বা রাঙ্গামাটি শহর থেকে দুদিন সময় লাগে। এই ইউনিয়নের বিশটি গ্রামে খেয়াং, রম, পাংখু, লুসাই উপজাতির বাস। সাজেক উপত্যকাটি ভারতীয় সীমান্ত রাজ্য মিজোরাম সংলগ্ন। বিশ বছর আগেও এখানে খ্রিষ্ট ধর্মের কোন নাম গন্ধ ছিল না। উপজাতীয়দের ভাষা, সংস্কৃতি সবই ছিল, আজ কিছুই নেই। শুধু ইংরেজীতে কথা বলাই নয়; সেখানকার অধিবাসীরা গীটার বাজিয়ে ইংরাজী গান গায়; মেয়েরা পরে প্যান্ট-শার্ট-স্কার্ট; এদের দেখে মনে হয় যেন বাংলার বুকে এক খন্ড ইউরোপ। জাতিতে তারা প্রায় সবাই খ্রিস্টান। দীর্ঘ দিন ধরে এই দুর্গম পার্বত্য এলাকায় খ্রিষ্টান মিশনারীরা অনেক কৌশল ও টাকা ব্যয়ের মাধ্যমে উপজাতীয়দের ধর্মান্তরিত করে চলেছে। ইতোমধ্যে পাংখু উপজাতি পুরোপুরি খ্রিষ্টান হয়ে গেছে; বদলে গেছে তাদের ভাষা; এমন কি তাদের ভাষার হরফও ইংরাজী বর্ণমালায় রূপান্তর করা হয়েছে। এন জিও নাম ধারন করে কয়েকটি খ্রিষ্টান মিশনারী এই দুর্গম এলাকায় হাসপাতাল, বিনোদন কেন্দ্র, চার্চ ইত্যাদি গড়ে তুলেছে। নিজস্ব উপজাতীয় আদি ভাষা ও সংস্কৃতি এরা হারিয়ে ফেলেছে (ইনকিলাব, ২০ মে ২০০৩)।

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল, পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় গড়ে উঠেছে ক্রশ চিহ্নিত সুদৃশ্য গীর্জা। প্রাথমিক ভাবে মিশনারীদের টার্গেট ছিল হিন্দু ও পাহাড়ী আদিবাসী জনগোষ্ঠী এবং পরবর্তীতে মুসলমান। বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও ময়মনসিংহের গহীন অরন্যে বসবাসরত আধুনিক সভ্যতার আলোকধারা থেকে বঞ্চিত মানুষ বিশেষত: চাকমা, মারমা, তনছইঙ্গা, চাক, খ্যাং, খূমি, বোম, মো, মুরুং, টিপরা, খাসিয়া, মনিপুরী, খেয়াং, পাংখু, লুসাই, মগ, গারো উপজাতির মধ্যে খ্রিষ্ট সংস্কৃতি ও ধর্মের বিকাশ এবং অনুশীলন তাদের জীবন ধারায় এনেছে ব্যাপকতর বৈচিত্র্য ও আমুল পরিবর্তন। প্রতিটি মানুষের জন্য একটি বাইবেল এবং প্রত্যেক জনগোষ্ঠীর জন্য একটি গীর্জা (Every man a Bible and every People a Church) এ কর্মসূচীকে সামনে রেখে মিশনারীরা যে তৎপরতা বাংলাদেশে শুরু করেছিল তার লক্ষ্য পানে ছুটে চলেছে নিরন্তরভাবে। ১৯৩৯ সালে যেখানে বাংলাদেশে খ্রিষ্টানের সংখ্যা ছিল ৫০ হাজার, সেখানে ১৯৯২ সালে খ্রিষ্টান জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০ লাখে; ২০১২ সালে এই সংখ্যা দাঁড়াবে এক কোটিতে। কট্টর মৌলবাদী এনজিও ওয়ার্ল্ড ভিশনের অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলে ১৯৯১ সালে একমাত্র গারো পাহাড় এলাকায় ১৬ হাজার ভোটার তালিকাভূক্ত হয় এবং খ্রিষ্টান জন শক্তি দাড়াঁয় ৫০ হাজারে।

বর্তমানে হবিগঞ্জ, মৌলভিবাজার, সুনামগঞ্জ ও সিলেটে ৩০ হাজার খাসিয়া জনগণ বাস করে। পার্বত্য খাসিয়াদের বাসভূমি পশ্চিমে গারো পাহাড় পর্যন্ত বিস্তৃত। দেড় শতাধিক বছর পূর্বে খ্রিষ্টান মিশনারীরা খাসিয়াদের মধ্যে ধর্মপ্রচার শুরু করেছিল। বর্তমানে ৮০%-৯০% খাসিয়া খ্রিষ্টান, প্রায় প্রতিটি পুঞ্জিতে (গ্রাম) গির্জা আছে। প্রতি রোববারে খ্রিষ্টান খাসিয়ারা গির্জায় প্রার্থনা এবং পুঞ্জির বিষয়াদি নিয়ে কিছুক্ষণ আলোচনা করে। খ্রিষ্টান যাজকগণ অনেক সময় পুঞ্জির বিচার- আচারেরও দায়িত্ব পালন করেন। খ্রিষ্টান কৃষ্টি ও ধর্মে দীক্ষার ফলে খাসিয়াদের আর্থ-সামাজিক কাঠামোই বদলে গেছে। খ্রিষ্টান খাসিয়ারা প্রোটেস্ট্যান্ট এদের মধ্যে ক্যাথলিক আদপেই নেই। খাসিয়া ভাষা অস্ট্রো-এশিয়াটিক ভাষার অন্তর্ভূক্ত। বর্তমানে খাসিয়া ভাষা সীমান্তের ওপারে রোমান হরফে লেখা হচ্ছে। ইদানিং কালে খ্রিষ্টান মিশনারীদের প্রচেষ্টায় সাঁওতাল লিপির বর্ণমালাও রোমান হরফে পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে (বাংলাপিডিয়া,-২খন্ড, পৃ.১০,১২; ৩খন্ড, ৭৯-৮৯)।

উত্তরাঞ্চলের ধর্মান্তরের ঘটনা আশংকাজনক হারে বেড়ে গেছে। মুসলমান, হিন্দু আর সাওঁতালদের মধ্যে ধর্ম ত্যাগ করে খ্রিষ্টান হওয়ার ঘটনা ঘটছে অহরহ। বৃহত্তর রংপুর ও বৃহত্তর দিনাজপুরের আটটি জেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে খ্রিষ্টান মিশনারী। ওই সব চার্চে গত পাঁচ বছরে ১০ থেকে ১২ হাজার ধর্মান্তরিত হয়ে খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করেছে।

বেকারত্ব আর দারিদ্র্যকে পুঁজি করে মিশনারীর লোকজন ধর্মান্তরের টোপ দিচ্ছে মানুষকে। শুধু যুবক-যুবতী আর অভাবী মানুষকে নয়, কোমলমতি শিশুদেরও খ্রিষ্টান করার অপতৎপরতা চালাচ্ছেন পাদ্রীরা। তাঁরা আটটি জেলায় কমপক্ষে ৩০/৪০চি নার্সারী স্কুল খুলেছে। এসব স্কুলের ক্লাসরুমে যিশুর প্রতিকৃতি সহ খ্রিষ্টিয় সংস্কৃতির বিভিন্ন ছবি ও অনুষঙ্গ টাঙ্গিয়ে রাখা হয়। পাঠ্য বই পড়ার পাশাপাশি ওই সব ছবি দেখিয়ে কোমলমতি শিশুদের খ্রিষ্টান ধর্ম ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান দেয়া হয়। পাদ্রীদের ধর্মান্তরের এই মিশন চলতে থাকলে আগামী ১০/১২ বছরে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে লক্ষাধিক দরিদ্র ও বেকার যুবক খ্রিষ্টান ধর্মে দীক্ষিত হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে (পূর্ণিমা,১৬ জুন,২০০৪/১৭বর্ষ ৪০ সংখ্যা, পৃ.৩৯)।

আমাদের সীমান্তের ওপারে সেভেন সিস্টার নামে খ্যাত মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, হিমাচল, অরুনাচল প্রভৃতি পাহাড়ী অঞ্চলের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী এখন র্ধমান্তরিত খ্রিষ্টান। ঐ সব পাহাড়ী অঞ্চল সংলগ্ন বাংলাদেশের র্পাবত্য এলাকায়ও ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে খ্রীষ্টানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। গড়ে উঠেছে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে সুদৃশ্য গীর্জা ও মিশনারী স্কুল।

সাম্প্রতিক আঞ্চলিক, জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক ঘটনাপ্রবাহ এ কথার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, একদিন চট্টগ্রামের র্পাবত্য অঞ্চল দক্ষিণ সুদান ও ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব তিমূরের মত জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে স্বাধীনতা লাভ করবে। গড়ে উঠবে বাংলাদেশের বুকে আরেকটি স্বাধীনদেশ। খ্রিষ্টান অধ্যুষিত ইউরোপীয় দাতাগোষ্ঠী ও এনজিও চক্র পার্বত্য চট্টগ্রামকে টার্গেট করে সামনে এগুচ্ছে। প্রায় দুবছর স্থগিত থাকার পর জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী (UNDP) এই বছর রাঙামাটি, বিলাইছড়ি, বান্দরবান ও থানচিতে ২০ লাখ মার্কিন ডলারের কমিউনিটি উন্নয়ন কর্মসূচীনামক প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। ২০০১ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে তিন বিদেশী নাগরিককে (ব্রিটিশ ও ডেনিশ) অপহরণের পর বিদেশী সংস্থাগুলো তাদের তৎপরতা সাময়িক ভাবে স্থগিত রাখে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা উন্নয়নের নামে দেদার বৈদেশিক অর্থের দ্বারা নব দীক্ষিত খ্রিষ্টান জনগোষ্ঠীকে পুনর্বাসনের কাজে লিপ্ত রয়েছে। কমিউনিটি ডেভেলপমেন্টের প্ল্যানের অধীনে তারা ধর্মান্তরিত খ্রিষ্টান যুবকদের উচ্চ শিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্য, যুক্তরাস্ট্র, অষ্ট্রেলিয়া, কানাডা প্রভৃতি দেশে প্রেরণ করে।

পরিস্থিতি এই ভাবে অব্যাহত থাকলে গোটা পার্বত্য অঞ্চলে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সচ্ছল এবং রাজনৈতিক দিয়ে বিপজ্জনক খ্রিষ্টান জনগোষ্ঠী গড়ে উঠবে। এই পাড়ের পাহাড়ীয় খ্রিষ্টানগণ সীমান্তবর্তী ওই পাড়ের পার্বত্যাঞ্চলে বসবাসরত নব দীক্ষিত খ্রিষ্টানদের সাথে মিলে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন পরিচালনা করতে পারে। এই আশংকা অমূলক নয়। NGO তথা বেসরকারী সংস্থা গুলো কোন দেশের কোন সরকারের বন্ধু নয়।

খ্রিষ্টান মিশনারীদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমাদের মধ্যে কোন রূপ দ্বিধা থাকা উচিৎ নয়। ১৮৫৭ খিষ্টাব্দে East India Company এর Board of Directors এর সভায় গৃহীত প্রস্তাবে যে বক্তব্য রাখা হয়েছে তা মিশনারীদের উদ্দেশ্য বুঝতে একান্ত সহায়ক প্রকৃতি ভারতীয় উপমহাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলটি এই জন্য ব্রিটেনের কাছে সোপর্দ করে, যাতে এতদঞ্চলের এক প্রান্ত হতে অপর প্রান্ত পর্যন্ত মিশনারীদের বিজয় পতাকা উড্ডীন হয়। এতদঞ্চলকে খ্রিষ্টান রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য প্রত্যেকের আপ্রাণ চেষ্টা করা উচিৎ’ (তারীখে পাকিস্তান ও সিন্ধু সেকেন্ডারী স্কুল পরীক্ষা-১৯৬২ ইং, পৃঃ ৫০৪; দৈনিক আজাদ, ঢাকা, উর্দু পত্রিকার মতামত শীর্ষক নিবন্ধ,৩০ জৈষ্ঠ, ১৩৭৪ বাংলা)।

মুসলিম রাষ্ট্র সমুহে মিশনারী প্রেরক সমিতির সভাপতি মি.কিস জুয়াইমর মিশনারীদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে যে মন্তব্য করে তা অত্যন্ত খোলামেলা এবং রীতিমত উদ্বেগজনক। বলে: আমাদের খ্রিষ্টান মিশনারীদের বড় উদ্দেশ্য এই যে, যেসব ছাত্র আমাদের স্কুল-কলেজ হতে শিক্ষা সমাপন করে বের হচ্ছে তারা নিশ্চিত রূপে ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছে, যদিও বের হওয়াটা আনুষ্ঠানিক নয়। অর্থাৎ নাম ও পরিচিতিতে খ্রিষ্টান না হলেও মন-মেজায, ধ্যান-ধারনা ও চিন্তা-চেতনা ইত্যাদিতে সে ইসলাম বিমুখ হয়েছে। শুধু এতটুকু নয়, বরং সে সম্পূর্ণ অজ্ঞাতে আমাদের মিশনের এক জন বড় পৃষ্ঠপোষক। তার পক্ষ হতে আমাদের অনিষ্টের কোন প্রকার আশংকা নেই। সে আমাদের ও আমাদের মিশনের বিরুদ্ধে টু শব্দটিও করতে পারে না। এটা আমাদের সে সফলতা দুনিয়ায় যার নজীর নেই’ (মাসিক বাইয়েনাত, করাচী, শাবান-১৩৮৬ হিজরী)।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন ঐতিহ্যগত ভাবে খ্রিষ্টান মিশনারীদের বড় পৃষ্ঠপোষক। এই দুরাষ্ট্র ষড়যন্ত্র ও আগ্রাসন চালিয়ে পৃথিবীর যে দেশ দখল করে সেখানেই রাষ্ট্রীয় ছত্রছায়ায় যাজকগণকে খ্রিষ্টধর্ম ও সংস্কৃতি প্রচারের ব্যাপক সুযোগ অবারিত করে দেয়। যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইরাকের আর্থ-রাজনৈতিক পুনর্গঠনের আড়ালে খ্রিষ্টান ধর্ম বিকাশে বাইবেল প্রচারকদের অগ্রণী ভূমিকা সেই একই চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ।

সম্প্রতি কানাডার বৃহত্তম সংবাদপত্র Toronto Star ‘মার্কিন বাইবেল প্রচারকরা ইরাকের জন্য সুবৃহৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছএই শিরোনামে এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয় সাদার্ন ব্যাপটিষ্ট কনভেনশনের প্রেসিডেন্ট মি. চার্লস স্ট্যানলি যুদ্ধ বিধ্বস্ত ও স্বজন হারা ইরাকী জনগণকে তাদের অসহায়ত্বের সুযোগে রিলিফ সরবরাহের পাশাপাশি খ্রিষ্ট-ধর্মে দীক্ষিত করার এক মহা পরিকল্পনায় হাত দিয়েছে।

মি. চার্লস স্ট্যানলি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জুনিয়র বুশের ইরাক আক্রমণের অন্যতম দোসর। চার্লস স্ট্যানলি আটলান্টার First Baptist Church এর প্রধান পুরোহিত। বিশ্বের বৃহত্তম টি ভি চ্যানেল ক্যাবল নিউজ নেটওয়ার্ক (CNN) যা মার্কিন প্রশাসনের বশংবদ বলে কুখ্যাত, সেই চ্যানেলটির প্রধান দফতর ও আটলান্টায় অবস্থিত।

গীর্জার প্রধান পুরোহিতের দায়িত্ব পালন ছাড়াও চার্লস স্টানলি ইনটাচ মিনিস্ট্রি নামে একটি ধর্ম প্রচারণা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে সেখান থেকে ১৪টি ভাষায় স্ট্যানলির ধর্মীয় ভাষণ বিশ্বব্যাপী প্রচারিত হয়ে থাকে। বুশ ইরাক আক্রমণের পূর্বে ফেব্রুয়ারী হতে চার্লস স্টানলি তার বিশ্বব্যাপী প্রচারণায় এই বক্তব্যটি প্রচার করতে থাকে ঈশ্বর মার্কিন সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে ভালকে সম্প্রসারণ ও মন্দকে প্রতিহত করার জন্য। অতএব এই সরকার বাইবেল প্রদত্ত নৈতিক ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে মার্কিন জাতিকে রক্ষা এবং বিশ্বে যারা দাসত্বে আবদ্ধ রয়েছে তাদের মুক্ত করতে যুদ্ধে যাচ্ছে।
তার এই ভাষণ আরবীতে অনুবাদ করে উপগ্রহ টিভি ও রেডিওর মাধ্যমে সারা আরব জাহান বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যে বারংবার প্রচার করা হয়। স্ট্যানলির প্রতিষ্ঠান ছাড়া মার্কিনী ডানপন্থী খ্রিষ্টানদের আরো বহু মিশনারী সংগঠন ইরাকে খ্রিষ্টধর্ম প্রচার কর্মকান্ড বিস্তার করতে প্রয়াসী হয়েছে। (মাঈনুল আলম, পূর্বকোন, ২৭ মে ২০০৩ পৃ.০৪)

এমনিতে গোটা ইরাক জুড়ে আগে থেকে খ্রিষ্টান জনগোষ্ঠী আছে প্রায় ১০ লাখ। মার্কিনীদের ছত্রছায়ায় এনজিও ও মিশিনারীদের অব্যাহত প্রয়াসের ফলে খ্রিষ্টানের সংখ্যা বাড়তে থাকবে ক্রমশ তারাই পাবে যুদ্ধোত্তর ইরাকে রাষ্টীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থানুকুল্য। ফলশ্রুতিতে এক সময় লেবাননের মতো ইরাকে ও দেখা দিতে পারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি।

এন জি ও এবং খ্রিষ্টান মিশনারীগণ ৯০ ভাগ মুসলমানদের এ দেশে সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল পরিবর্তনের মতো সংঘাতমুখী যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে যাচ্ছে তাতে নীরব বসে থাকা যায় না। একটি স্বাধীন দেশের জন্য এমন পরিস্থিতি সন্দেহাতীতভাবে ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক। বাংলাদেশের অর্ধশতাধিক অনিবন্ধিত এন জি ও ২০০১ সালে অবৈধভাবে বিদেশ থেকে ৫৫ কোটি টাকা এনেছে এবং আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে যে, দেশী-বিদেশী ব্যাংকের মাধ্যমে পুরো অর্থ তারা ছাড় করে নিয়ে গেছে। আমরা এন জি ও দের দেশীয় সংস্কৃতি ও আদর্শ বহির্ভূত সকল কর্মকান্ড ও ধৃষ্টতাপূর্ণ দৌরাত্ম নিষিদ্ধ করার দাবী জানাই। নব্য ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী এন জি ও এবং মিশনারীদের কর্মকান্ড ঘনিষ্টভাবে মনিটরিং করা সময়ের অপরিহার্য দাবী।

ভয়াবহ পরিস্থিতির এই প্রেক্ষাপটে বাস্তব কর্মসূচী হাতে নিতে হবে যাতে খ্রিষ্টান মিশনারীদের কবল থেকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, উত্তরাধিকার ঐতিহ্য ও লালিত কৃষ্টি রক্ষা করা যায়। রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবিসহ সর্বস্তরের মুসলমানদের এই বিষয়ে সুচিন্তিত কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে হবে।

এন জি ও এবং খ্রিষ্টান মিশনারীগণ ৯০ ভাগ মুসলমানদের এ দেশে সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল পরিবর্তনের মতো সংঘাতমুখী যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে যাচ্ছে তাতে নীরব বসে থাকা যায় না। একটি স্বাধীন দেশের জন্য এমন পরিস্থিতি সন্দেহাতীতভাবে ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক। বাংলাদেশের অর্ধশতাধিক অনিবন্ধিত এন জি ও ২০০১ সালে অবৈধভাবে বিদেশ থেকে ৫৫ কোটি টাকা এনেছে এবং আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে যে, দেশী-বিদেশী ব্যাংকের মাধ্যমে পুরো অর্থ তারা ছাড় করে নিয়ে গেছে। আমরা এন জি ও দের দেশীয় সংস্কৃতি ও আদর্শ বহির্ভূত সকল কর্মকান্ড ও ধৃষ্টতাপূর্ণ দৌরাতœ্য নিষিদ্ধ করার দাবী জানাই। নব্য ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী এন জি ও এবং মিশনারীদের কর্মকান্ড ঘনিষ্টভাবে মনিটরিং করা জাতীয় স্বার্থে অত্যন্ত জরুরী।

ভয়াবহ পরিস্থিতির এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মুসলমানদের দাওয়াতী ও সেবার ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে বাস্তব কর্মসূচী হাতে নিতে হবে যাতে খ্রিষ্টান মিশনারীদের কবল থেকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, উত্তরাধিকার ঐতিহ্য ও লালিত কৃষ্টি রক্ষা করা যায়। রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবি, আলিমসহ সর্বস্তরের মুসলমানদের এই বিষয়ে সুচিন্তিত কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে হবে। 

উপজাতিদের খৃষ্টান বানাচ্ছে যে সকল সংস্থা

উপজাতিদের খৃষ্টান বানাচ্ছে যে সকল সংস্থা

গত ২০ বছরে সেখানে ১২ হাজার উপজাতীয় পরিবারকে ধর্মান্তরিত করে খ্রিস্টান বানানো হয়েছে। ওই রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, তিন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটিতে বর্তমানে ১৯৪টি গির্জা উপজাতীয়দের ধর্মান্তরিত করে খ্রিস্টান বানানোর ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে।

খাগড়াছড়ি জেলায় আছে ৭৩টি গির্জা। ১৯৯২ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত এ জেলায় ৪ হাজার ৩১টি পরিবার খ্রিস্টান হয়েছে। বান্দরবান জেলায় গির্জা আছে ১১৭টি। এখানে একই সময়কালে খ্রিস্টান হয়েছে ৬ হাজার ৪৮০টি উপজাতীয় পরিবার। রাঙামাটিতে ৪টি চার্চ খ্রিস্টান বানিয়েছে ১ হাজার ৬৯০টি উপজাতীয় পরিবারকে। এগুলো তুলনামূলকভাবে হাল আমলের হিসাব। পাহাড়ি যেসব জনগোষ্ঠীর লোকসংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম, তাদের প্রায় শতভাগ খ্রিস্টান হয়ে গেছে অনেক আগেই (এম. এ নোমান, আমার দেশ, ১২.০৮.২০১১)।

পাহাড়িদের নিজস্ব সংস্কৃতি অটুট রাখার জন্য কুম্ভীরাশ্রু বিসর্জনকারী পশ্চিমা গোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ মদদে চলা ধর্মান্তকরণ সেখানে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে যে, উপজাতীয়দের নিজস্ব সংস্কৃতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ আজ আক্ষরিক অর্থেই বিপন্ন। তাদের সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন শিথিল হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। পার্বত্য চট্টগ্রামে খ্রিস্টান হয়ে যাওয়া পাহাড়িদের দ্রুত সংখ্যা বৃদ্ধি যারা ঘটাচ্ছে তারা যদি পাহাড়িদের রাষ্ট্রীয় আনুগত্যের শিকড় কেটে দিতে সক্ষম হয় তবে তা বাংলাদেশের অখন্ডতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠবে।

এভাবে দেশের একটি স্পর্শকাতর এলাকায় ডেমোগ্রাফির নাটকীয় পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবে মেনে নেয়া যায় না। ত্রাণ ও সেবার নামে আসলে ওই অঞ্চলের দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া লোকজনকে ধর্মান্তরিত হতে প্রলুব্ধ করা হচ্ছে।

ড. ঊইলিয়াম কেরি, ড.টমাস, রিচার্ড হলওয়ে, ফাদার ক্লাউজ বার্লার, টরবেন ভি পিটারসন, আলফ্রেড রবিন মন্ডল ও ড.অলসন এর মতো লোকেরা বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে বাইবেলের শিক্ষা, কৃষ্টি ও আদর্শ প্রচারের জন্য বাংলা ভাষা রপ্ত করে। ১৭৯৩ সালে মিশনারীদের একটি শক্তিশালী দল বাংলাদেশে আসে। মি.কেরি ও মি. পাওয়েল মিলে দিনাজপুরে একটি ক্ষুদ্র চার্চ প্রতিষ্ঠা করে যা বাংলাদেশে প্রথম ব্যাপ্টিস্ট ও প্রটেষ্ট্যান্ট চার্চ। মি.কেরি নতুন আঙ্গিকে বাংলা ব্যাকরণ সংশোধন করে এবং ১৮০০ সালে ইংল্যান্ড থেকে বাংলা বর্ণ মালার ছক এনে কলকাতার শ্রীরামপূর মিশন থেকে বাংলায় বাইবেল মুদ্রন ও প্রচারের ব্যবস্থা করে।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত অবস্থায় ড. কেরি কথোপকথনইতিহাসমালানামক বাংলায় দুটি গ্রন্থ রচনা করে। ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিপ্লবের সময় ভারতীয় উপমহাদেশে ৯০টি প্রটেস্ট্যান্ট খ্রিষ্টান মিশনারী সংস্থা কর্মরত ছিল। রোমান ক্যাথলিক চার্চের সংখ্যা এর বাইরে (মাসিক তরজমানুল কুরআন, লাহোর, মার্চ, ১৯৬১)। এদেশে প্রতিকুল পরিবেশে খ্রিষ্ট ধর্ম-সংস্কৃতির প্রচার ও বিকাশে তাঁরা যে ত্যাগ ও সাধনা করেন তা রীতিমত বিস্ময়ের উদ্রেক করে।

চন্দ্রঘোনা, মালুমঘাট, ময়মনসিংহ, রংপুর ও রাজশাহী সহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে হাসপাতাল ও মাতৃসদন প্রতিষ্ঠা করে কুষ্ঠ রোগ সহ জটিল ব্যাধির চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার চালিয়ে আসছে একটি মাত্র লক্ষ্যকে সামনে রেখে, তা হলো এ দেশে খ্রিষ্ট ধর্ম, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রচার ও প্রসার। এই সব হাসপাতাল হলো মূলতঃ মানুষ ধরার ফাঁদ ও ষড়যন্ত্রের নীল কুঠি। মিশনারীদের এই নিরন্তর সাধনা ব্যর্থ হয়নি। উপজাতীয় জন গোষ্ঠীর দরিদ্রতার সুযোগ নিয়ে তাদের শিক্ষা ও চিকিৎসার অভাবকে পুঁজি করে খ্রিষ্টান এনজিও কর্মি ও মিশনারী পাদ্রীরা দূর্গম পার্বত্য এলাকায় নীরবে-নিভৃতে ধর্মান্তরের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে কর্মতৎপর এনজিওর সংখ্যা ৩০ হাজার। এই দেশে বহুজাতিক কোম্পানির আর্থ-রাজনৈতিক স্বার্থে এবং অসহায়, নিঃস্ব, নিরক্ষর ও প্রপীড়িত মানুষকে সেবা করার নামে ইউরোপীয় সংস্কৃতির বিকাশ ও খ্রিষ্ট-ধর্মে দীক্ষিত করার অমানবিক তৎপরতায় যেসব এনজিও জড়িত রয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছে:
১.কারিতাস

২.এমসিসি (মেনোনাইট সেন্ট্রাল কমিটি)

৩.বাংলাদেশ লুতারান মিশন

৪.দীপ শিখা

৫.স্যালভেশন আর্মি

৬.ওয়ার্ল্ড ভিশন

৭.সিডিএস (সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস)

৮.আরডিআরএস (রংপুর-দিনাজপুর রুরাল সার্ভিস):

লুথারান ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব বাংলাদেশের কর্তৃত্বাধীনে পরিচালিত একটি শক্তিশালী এনজিও সংস্থার নাম রংপুর-দিনাজপুর রুরাল সার্ভিস (RDRS)বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ৬ লাখ লুথারেন বিশ্বাসী এই সংস্থার সাথে জড়িত। নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডের লুথারেন চার্চ এই সংস্থাকে অর্থের যোগান দেয়। মি. টরবেন ভি পিটারসনের নেতৃত্বে ১৯৮৬ সাল হতে এই সংস্থা নিরব-কৌশলে প্রায় ২১৮ কোটি ৬৯ লাখ ৯৮ হাজার ৪৭৬ টাকা ব্যয়ে বৃহত্তর দিনাজপুর ও রংপুর জেলার সীমান্ত অঞ্চলের আদিবাসী ও সাঁওতাল অধ্যুষিত এলাকায় ধর্ম প্রচারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সীমান্ত এলাকার বদলে দেশের অভ্যন্তরে প্রকল্প এলাকা সম্প্রসারণে সংস্থা অনাগ্রহী। ১৯৮১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী একমাত্র দিনাজপুরেই ৩৫ হাজার সাঁওতাল খ্রিষ্টান হয়ে গেছে। (মুহাম্মদ নূরুজ্জামান, বাংলাদেশ-এনজিও উপনিবেশবাদের দূর্ভেদ্য জালে, ঢাকা, ১৯৯৬, পৃ.৬১-৭৩; দৈনিক ইত্তেফাক, ৬ ডিসেম্বর, ১৯৮১)
৯.সিসিডিবি (খ্রিষ্টান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট):

খ্রিষ্টান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (CCDB) জেনেভা ভিত্তিক একটি খ্রিষ্টান মিশনারী প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের পরিবার প্রথা, সামাজিক ব্যবস্থা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ভেঙ্গে ইউরোপীয় আদলে নতুন সমাজ গড়ার কর্মসূচী বাস্তবায়নে লিপ্ত। সিসিডিবির বার্ষিক ৩.৫ মিলিয়ন মার্র্কিন ডলার বাজেট খেকে খ্রিষ্টান জনগণ এবং ভবিষ্যতে যারা খ্রিষ্টান হবে তারাই উপকৃত হয়। সিসিডিবর বর্তমান মূল লক্ষ্য হচ্ছে উপজাতিদের সকল জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন স্থিতিশীল ও অংশীদারিত্ব ভিত্তিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে নারীদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চত করার জন্য তাদের ছোট ছোট উদ্যোগকে সমর্থন দান, সকল পর্যায়ে লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ ইত্যাদি।

১০.হিড বাংলাদেশ

১১.সেভেনথ ডে এ্যডভেঞ্চারিষ্ট

১২.চার্চ অব বাংলাদেশঃ

চার্চ অব বাংলাদেশ নামে একটি খ্রিষ্টান মৌলবাদী এন, জি, ও সংস্থা ১৯৬৫ সালে কক্সবাজারের মালুমঘাটে খ্রিষ্টান মেমোরিয়াল হাসপাতাল স্থাপন করে। স্থানীয় জনসাধারণের দরিদ্রতা, অভাব ও নিরক্ষরতার সুযোগ নিয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. ভিগা বি অলসন বিগত ৩৮ বছর যাবত খ্রিষ্ট ধর্ম প্রচারে তৎপর রয়েছে।

১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে অত্র এলাকায় যেখানে এক জন খ্রিষ্টানও ছিলনা সেখানে বর্তমানে দশ হাজার বয়স্ক নাগরিক খ্রিষ্টান হয়েছে এবং তাদের পরিবার সহ এই সংখ্যা বর্তমানে ৪০ হাজারে উন্নীত হয়েছে। মালুমঘাটের আশে পাশের জমি চড়া দামে উক্ত এনজিও কিনে নিচ্ছে ধর্মান্তরিতদের পুর্নবাসনের উদ্দেশ্যে। ইতোমধ্যে হায়দারের নাসি গ্রামের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে বিশাল গীর্জা গড়ে উঠেছে এবং অত্র এলাকায় ভিন দেশী সংস্কৃতির বিকাশ চোখে পড়ার মতো।

কয়েক বছর আগে মালুমঘাট হাসপাতালের ডা. অলসন ১৩টি মুসলিম পরিবারের ২৫ জন গরীব মুসলমানকে ফুসলিয়ে খ্রিষ্ট ধর্মে দীক্ষিত করার অভিযোগে সংক্ষুব্ধ শত শত স্থানীয় মানুষ হাসপাতাল আক্রমন করে এবং যেসব ঘরে ধর্মান্তর করা হতো তা জালিয়ে দেয়। বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে ২০ জন পুলিশ সহ ১০০ ব্যক্তি আহত হয় (দৈনিক সংগ্রাম, ২৪অক্টোবর, ১৯৯২)।

১৩.প্লান ইন্টারন্যাশনাল

১৪. সুইডিস ফ্রি মিশন

১৫.কনসার্ণ

১৬.এডরা

১৭.অষ্ট্রেলিয়ান ব্যাপটিষ্ট সোসাইটি

১৮. ফ্যামেলিজ ফর চিলড্রেন

১৯. ফুড ফর হাংরী ইন্টারন্যাশনাল।

এই সব সংস্থার বাজেটের শতকরা ৯০ ভাগ অর্থ খ্রিষ্টানদের বা খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হবার সম্ভাবনাময় ব্যক্তিদের স্বার্থে, নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদেশী কনসালটেন্টের পেছনে ব্যয়িত হয়।

২০. ফস্টার প্যারেন্টস ইন্টারন্যাশনালঃ
এনজিও সংস্থা বাংলাদেশের ৯৬ হাজার পরিবারের একটি শিশুকে পোষ্য সন্তান হিসেবে গ্রহণ করে খ্রিষ্টান বানানোর এক জঘন্য পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ইতঃপূর্বে ধর্মান্তরিতকরণের অভিযোগে উক্ত সংস্থাকে জাকার্তা, বালি ও সুদান থেকে বহিষ্কার করা হয়। সেভেনথ ডে এডভানচারিষ্ট চার্চ নামক একটি খ্রিষ্টান এনজিও ৮৫টি স্কুল পরিচালনা করে এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল বা এতিমখানায় কোন মুসলমান ছেলেকে ভর্তি করা হয় না।

ভারতেও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এই সংস্থাটির প্রতিষ্ঠান রয়েছে। উচ্চ শিক্ষা ও প্রশিক্ষনের জন্য খ্রিষ্টান কর্মচারী ও খ্রিষ্টান ছাত্রদেরকে সেখানে পাঠিয়ে থাকে। এই সংস্থাটি সেবার নামে বাংলাদেশের মানুষকে খ্রিষ্টান বানানোর জন্য ১৯৯০-৯১ এবং ১৯৯১-৯২ আর্থিক বছরে ২৩০ মিলিয়ন টাকা খরচ করেছে। হিড বাংলাদেশ নামের এনজিও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে, ঢাকাস্থ বিহারী রিফিউজি ক্যাম্পে এবং সুন্দরবনে সেবার আড়ালে খ্রিষ্ট সংস্কৃতির প্রচার ও খ্রিষ্টান জনগনের উন্নয়নের জন্য বছরে ৬ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয় করে।

ইউরোপের কয়েকটি দেশ,অস্ট্রেলিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের দাতা সংস্থা ও খ্রিষ্টান মিশনারী সংগঠন বিশেষতঃ জেনেভার ওয়ার্ল্ড কাউন্সিল অব চার্চেস, ব্রাড ফর দি ওয়ার্ল্ড, ইংল্যান্ডের খ্রিষ্টান এইড, নিউজিল্যান্ডের চার্চ ওয়ার্ল্ড সার্ভিস এবং হল্যান্ডের ইন্টারন্যাশনাল চার্চ এইড ঢাকা সিসিডিবিকে অর্থ যোগান দেয়। ওয়ার্ল্ড কাউন্সিল অব চার্চেস বছরে একবার সিসিডিবির একটি গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। (বাংলাপিডিয়া,১০ খন্ড,পৃ.১৯৮-৯)।

বসনিয়ার যুদ্ধে যোগ দিয়ে যেভাবে বাংলাদেশ ‘অভিযুক্ত’ এবং অবরুদ্ধ হয়েছিলো

বসনিয়ার যুদ্ধে যোগ দিয়ে যেভাবে বাংলাদেশ ‘অভিযুক্ত’ এবং অবরুদ্ধ হয়েছিলো


বসনিয়ার যুদ্ধের কথা আমরা অনেকেই জানি। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর এটিই ছিলো বিশ্বের প্রথম বড় সামরিক সংঘাত। এই সংঘাতের প্রায় পুরোটা জুড়েই বসনিয়াক মুসলিমদের গণহত্যা ঠাঁসা থাকলেও এর মূলে ছিলো একটি নোংরা ভূরাজনৈতিক খেলা। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর পশ্চিমা অক্ষ কতৃক সাবেক সোভিয়েত সাম্রাজ্যের আঙ্গিনা বলকান উপদ্বীপে প্রবেশের চেষ্টার বিভিন্নমুখী তৎপরতার বহিঃপ্রকাশ ছিলো বলকান যুদ্ধ। সেই খেলায়ও যেমন মুসলিমরা ঢালে পরিণত হয়েছিলো, তার দুই দশক পর আরাকানেও হুবহু একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কাকতালীয়ভাবে দুটিতেই বাংলাদেশ জড়িত হয়েছে।
.
এরমধ্যে বসনিয়ায় জড়িত হওয়াটা বিস্ময়ের উদ্রেককারী হলেও সত্যি হচ্ছে, বাংলাদেশ কেবল জড়িতই হয়নি, একটা সময় পর্যন্ত হানাদার সার্ব মিলিটারী, এমনকি পশ্চিমা মিডিয়া পর্যন্তও সন্দেহ করেছে যে, জাতিসংঘের পতাকা নিয়ে গেলেও বাংলাদেশ ধর্মীয় নৈকট্যের কারণে সার্বদের বিরুদ্ধে বসনিয়ার বাহিনীকে সাহায্য করে একটি শহরে তিন বছর ধরে চলা সার্ব অবরোধ ব্যহত করেছে! এর জন্য ১২০০ সৈন্যের বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টকে তীব্র গোলাগুলিতে প্রায় দশ সপ্তাহের অবরোধে আটকে থাকতে হয়, এবং মারাত্মক রসদ ও সরঞ্জাম সংকটে ভুগতে হয়!
.
বস্তুত, বসনিয়ার যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ন্যাটো দেশগুলো সীমিত মাত্রায় শান্তিরক্ষী হিসেবে কাজ করছিলো। তবে ১৯৯৩ নাগাদ যুদ্ধের তীব্রতা বাড়লে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো বসনিয়া থেকে সরে পড়তে থাকে। তখন আমেরিকা ধর্মীয় অনুভূতির সুবিধা কাজে লাগাতে মুসলিম দেশগুলো থেকে জাতিসংঘের আওতায় শান্তিরক্ষী বসনিয়ায় পাঠানোর চেষ্টা শুরু করে। ১৯৯৩ সালে এমনই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ একটি কন্টিনজেন্ট বসনিয়ায় পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। বাংলাদেশ আর্মির কয়েকজন অফিসার রেকোনাইসেন্স মিশনে তখন বসনিয়ার আশেপাশে ঘুরেও আসেন।
.
কিন্তু বসনিয়ায় তৃতীয় কোন মুসলিম দেশ থেকে সেনা পাঠানোর বিষয়টি এতো সরল ছিলোনা। খোদ ইউরোপীয় দেশগুলোই বলকানের মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোতে অন্য কোন মুসলিম দেশের সেনাবাহিনীর উপস্থিতি দেখতে রাজী ছিলোনা। ঐতিহাসিক ভীতি ছাড়া এর পেছনে কোন বাস্তব কারণ ছিলো বলে মনে হয়না।

প্রাথমিক বাঁধায় বাংলাদেশ থেকে সেনা বসনিয়ায় পাঠানো যায়নি। যে ব্যাটালিয়নটিকে বসনিয়ার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিলো, তাকে পরে কুয়েতে পাঠানো হয়।
.
১৯৯৪ সালের মাঝামাঝি বসনিয়ার পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে পড়লে এবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কোন প্রস্তাব উত্থাপন না করেই বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়া থেকে সৈন্য পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। বাংলাদেশকে মাত্র ৪৫ দিনের নোটিশে একটি মেকানাইজড ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়ন প্রস্তুত করতে বলা হয়।

মেকানাইজড ইনফ্যান্ট্রির প্রধান উপাদান এপিসি। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ আজকের মতো ভুরিভুরি এপিসির মালিক ছিলোনা। এছাড়াও বলকানের তীব্র ও আদ্রতায় পূর্ণ শীতে যুদ্ধ দূরে থাক, থাকার অভিজ্ঞতাও বাংলাদেশী সৈন্যদের ছিলোনা।
.
এই সমস্যা নিরসনে সোভিয়েত আমলে স্লোভাকিয়ায় চালু হওয়া সাবেক পূর্ব জার্মান সেনাবাহিনীর একটি ওয়ারহাউস থেকে রসদ, শীতের কাপড় এবং অস্ত্রের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়।

১৯৯৪ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে বাংলাদেশী কন্টিনজেন্ট প্রথম বসনিয়ায় প্রবেশ করে। এই কন্টিনজেন্টে ছিলো একটি পদাতিক ব্যাটালিয়ন, এবং একটি করে ওয়ার্কশপ, লজিস্টিকস সাপোর্ট, মেডিকেল ও সিগনাল ডিটাচমেন্ট। কর্নেল সেলিম আখতারের নেতৃত্বাধীন ১২০০ লোকবলের এই কন্টিনজেন্টের উপর দেয়া হয়
.
১৯৯২ সাল থেকে সার্বিয়ার অবরোধের সম্মুখীন হওয়া বিহাচ শহরের নিরাপত্তার দায়িত্ব। বিহাচ মূলত চারিদিকে খ্রীষ্টান অধ্যুষিত একটি ছোট্ট মুসলিম ছিটমহল। এখানে বসনিয়ানরা স্বভাবতই চাপে ছিলো এবং সার্বরা অবরোধ কষছিলো। বিহাচে কিছুদিন আগেও একটি ফরাসী ব্যাটালিয়ন ছিলো, যারা আর এখানে থাকতে চাচ্ছিলো না। তারা উইথড্র করার পর যুদ্ধ আর অবরোধে পস্ত বিহাচে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

💣 বাংলাদেশী ফোর্স গমনে হঠাৎ পরিস্থিতি বদলে গেলো 💣
তিন বছর অবরুদ্ধ থাকার পর বসনিয়ান বাহিনী সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে সার্বদের উপর তীব্র আক্রমণ হানে। এই হামলায় সার্বরা পরাজিত হয়। বিহাচের আশেপাশে বেশ কিছু সার্ব জমি বসনিয়ানরা কেবল দখলই করেনি, তাদের তীব্র হামলার মুখে পলায়নপর সার্বদের ফেলে যাওয়া হাতিয়ারসম্ভারও তারা দখলে নিয়ে নেয়।
.
এই ঘটনার পর সার্ব বাহিনী ধরে নেয় তাদের এহেন বিপর্যয়ের পেছনে বাংলাদেশ থেকে সদ্য আগত বাহিনীর ভূমিকা আছে, যাদের সকলেই মুসলিম। এমনকি এই সময়ে জাতিসংঘের নিয়োগকৃত পশ্চিমা পর্যবেক্ষকরাও সন্দেহ করতে শুরু করে, বাংলাদেশ আর্মির উপস্থিতিই বসনিয়ান বাহিনীকে সার্বদের উপর হামলা করে তাদের খেদিয়ে দিতে সহায়তা করেছে। পশ্চিমা মিডিয়াও সেসময় বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের বিরুদ্ধে নেতিবাচক খবর প্রচার শুরু করেছিলো বলে ফোর্স কমান্ডার বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার সেলিম আখতার জানান।
.
যাহোক, বিপর্যয়ের শিকার হবার পর সার্ব বাহিনীর নতুন লক্ষ্যবস্তু হয় বাংলাদেশী কন্টিনজেন্ট। সার্বরা প্রথমে বাংলাদেশীদের উপর তীব্র অবরোধ আরোপ করে। এমনকি হেলিকপ্টারেও খাদ্য ও রসদ সরবরাহের পথও রূদ্ধ হয়ে যায়।

এরইমধ্যে ডিসেম্বরে সার্বরা এন্টি ট্যাংক মিসাইল সহ বাংলাদেশী সেনাদের উপর হামলা করলে ইসমাইল নামে একজন সৈনিক শহীদ হন এবং আরো তিন সৈনিক আহত হয়।
.
এদিকে বাংলাদেশী সৈন্যদের বিহাচে অবরুদ্ধ ও হামলার সম্মুখীন হবার ঘটনায় বাংলাদেশে ব্যাপক উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়। ঢাকায় সেনা সদর থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা এবং অবরুদ্ধ বাংলাদেশী ফোর্স কমান্ডারকে প্রয়োজনীয় নসিহত দেয়ার কাজ চলতে থাকে। এমনকি বাংলাদেশী বাহিনীকে দ্রুত উদ্ধারের দাবী জানিয়ে রাস্তায় বিক্ষোভের আয়োজনও করা হয়।
.
তখন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের অভিযান ও পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক ছিলেন ব্রিগেডিয়ার ফজলুর রহমান। তিনি কর্নেল সেলিম আখতারের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি ঢাকাস্থ মার্কিন ও সৌদি মিলিটারী অ্যাটাশের সাথে যুক্ত থাকেন। আমেরিকা ও সৌদি আরবের মাধ্যমে ন্যাটো ও ওআইসির মাধ্যমে বাংলাদেশী সৈন্যদের অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্ত করার প্রচেষ্টা চালাতে থাকে বাংলাদেশ। এই প্রক্রিয়ার উপর এপি একটি প্রতিবেদন করে, যার ভিডিও ফুটেজ এখানে দিলাম- https://youtu.be/c80r5IoJRa8
..
প্রায় দশ সপ্তাহ অবরোধে বাংলাদেশী সৈন্যরা উচ্চতর সাহস ও দৃঢ়তার নজির স্থাপন করে। তারা খাদ্য ও রসদ সংকটে কাবু হয়ে পড়লেও সার্বদের তাদের উপর চেপে বসতে দিচ্ছিলো না। একবার এক তরুণ ক্যাপ্টেন তার এপিসির টিম নিয়ে বসনিয়ান পজিশনের কাছে অবস্থান নিতে গেলে সার্বরা তীব্র আক্রমণ চালায়। তবে তারপরও ওই বাংলাদেশী ক্যাপ্টেন স্বীয় অবস্থান ত্যাগ করেননি। সাধারণত কোন ভাড়াটে মিশনে এমন দৃঢ়তা দেখা যায়না।
.
অবরোধ শেষ হয় ন্যাটো বিমান হামলার ঘনঘটার মাধ্যমে। ন্যাটো প্রথমে ব্যাপক বিমান হামলার প্রস্তাব করলেও বাংলাদেশের প্রস্তাবে বিহাচে নির্বিচার বোমা হামলার বদলে কেবল সার্ব অবস্থান লক্ষ্য করে এয়ার স্ট্রাইক করে ন্যাটো। এতে করে বিহাচের মুসলিম অধিবাসী এবং বসনিয়ান সৈন্যরা অপ্রয়োজনীয় রক্তক্ষরণ থেকে রক্ষা পায়। একই সাথে হানাদার সার্বদের মনোবলে চিড় ধরায় ওই বিমান হামলা। যা কয়েকমাস পর বিহাচ থেকে চার বছর ধরে চলা সার্ব অবরোধের সমাপ্তি নিশ্চিত করে।

অতঃপর এমন অনেক গর্ব করার মতো বিষয়ের মতো বিহাচ অবরোধের শেষ দিনগুলোতে বাংলাদেশের ভূমিকাও লোকান্তরে হারিয়ে গেছে

পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদ্রোহে ভারতের RAW এর ভূমিকা

পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদ্রোহে ভারতের RAW এর ভূমিকা

পার্বত্য চট্টগ্রাম,এখন অব্ধি স্বাধীন বাংলাদেশের একটি অংশ। অথচ এই চট্টগ্রামকে ঘিরেই র এর রয়েছে ভয়ংকর ষড়যন্ত্র। এত বছর ধরে শান্তিবাহিনী ভয়ংকর তান্ডব চালাল, এসকল অস্ত্র তারা কোথায় পেল? কে দিল এ অস্ত্র।? উত্তর হচ্ছে ভারত। ভারতই শান্তিবাহিনীকে অস্ত্র দিয়ে,ট্রেনিং দিয়ে আশ্রয় দিয়ে লেলিয়ে দেয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। তাদের ফলেই শান্তিবাহিনী হয়ে উঠে এক মূর্তিমান আতঙ্ক এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিনত হয় এক দোযখে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সময়ই পাহাড়িরা এধরনের সংগঠিত হয়ে নাশকতার প্ল্যান আটলেও তখন ভারত তাদের সহযোগীতা করেনি। ফলে বঙ্গবন্ধুর আমলে শান্তিবাহিনী কিছু করে উঠতে পারে নি। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শহীদ হওয়ার পরেই ভারত শুরু করে শান্তিবাহিনীকে ট্রেনিং দেওয়া,যার ফলে তারা ভয়ংকর হয়ে উঠে। এমএন লারমা তখন গভীর জঙ্গলে। ১৯৭৫ সালের কিছুদিন পর জিয়ার সাথে যোগাযোগ করে, তবে কিছুদিন পরই ভারত তাকে ডাকে এবং সাহায্য করতে চায়- (হুমায়ুন আজাদ)।

হাজার-হাজার বাঙালি,সেনাবাহিনী,বিডিআর, আনসার,ভিডিপি,বনরক্ষী সহ বহু সরকারি ও বেসরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী খুন ও অপহৃত হয় এই শান্তি বাহিনীর হাতে। পার্বত্যঞ্চলকে বিদ্রোহ উপদ্রুত অঞ্চলহিসেবে ঘোষনা দেয় সরকার।

১৯৮০ সালের ২৫ মার্চ এক নৃশংস হামলায় কমপক্ষে ১০০ জন নীরিহ গ্রামবাসীকে হত্যা করা হয়। যে ঘটনা সরেজমিনে দেখে এসে জাতীয় প্রেসক্লাবে সবিস্তারে বর্ণনা করে তিন সংসদ সদস্য, যথাক্রমে শাজাহান সিরাজ, রাশেদ খান মেনন ও উপেন্দ্র লাল চাকমা- (The Daily Obserber : 23 April 1980)
এ সময় উল্লেখযোগ্য সহিংসতার মধ্যে ছিল ৯৬ সালে ২৯ কাঠুরিয়াকে হত্যা, ভূবনছড়া গনহত্যা, ইত্যাদি।
১৯৮০ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত শান্তিবাহিনী ৯৫২ জন বাঙালি ও ১৮৮ জন পাহাড়িকে হত্যা, ৬২৬ জন বাঙালি ও ১৫২ জন পাহাড়িকে জখম এবং ৪১১ জন বাঙালি ও ২০৫ জন পাহাড়িকে অপহরণ করে। এই তথ্য জানিয়েছেন, M R Shelly ১৯৯১ সালে প্রকাশিত তাঁর ‘The Chittagong Hill Tracts of Bangladesh : An Untold Story’ বইতে।
অর্থাৎ বাংলাদেশ এর চরম ক্ষতি করা হয় এই শান্তিবাহিনীর মাধ্যমে। রক্ত ঝরে হাজার হাজার বাঙ্গালির।

বাংলাদেশের সংহতি ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি সৃষ্টিকারী এই বিচ্ছিন্নতাবাদী বাহিনীকে আশ্রয়, প্রশ্রয়, প্রশিক্ষণ, রেশন, অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ দিয়ে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করেছে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ’-সহ অন্যান্য সরকারী সংস্থা । এই সংবাদে শান্তিবাহিনীর মুখপাত্র বিমল চাকমা স্বীকার করে নিয়েছে, ভারত তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও সহযোগীতা দিচ্ছে।

এছাড়াও,প্রত্যক্ষ সহযোগিতার জের ধরেই একবার এক শান্তিবাহিনীর ক্যাম্প হতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হাতে আটক হয় কিছু ভারতীয় সেনা। ইতিহাসে সেই প্রথমবারের মতো দুই দেশের সেনাবাহিনী মুখোমুখি হয়।

শান্তিবাহিনীর পিছনে ভারতের হাত ছিল ও তাদের মদদেই চট্টগ্রামে এ সহিংসা চালিয়েছে তারা। ১৯৯৭ সালে শান্তি চুক্তি সম্পাদনের আগ পর্যন্ত ’-এর প্রত্যক্ষ সহায়তা ও প্ররোচনায় শান্তি বাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র, রক্তাক্ত সংঘাত চালিয়েছে, এখনও 'র' এর সহযোগীতায় শান্তিবাহিনীর প্রেতাত্বা জে এস এস,  ইউপিডিএফ ও অন্যান্য সংগঠন সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

পাহাড়ে ধর্ম প্রচারের নামে চলছে অস্ত্রের ব্যবসা

পাহাড়ে ধর্ম প্রচারের নামে চলছে অস্ত্রের ব্যবসা


আঞ্চলিক রাজনীতির এবং ধর্মের প্রচারের নামে অস্ত্র পাচার ও মজুদের নিরাপদ ট্রানজিট হয়ে উঠেছে গভীর অরন্য ও লেক নির্ভর পার্বত্য চট্টগ্রাম। পাশ্ববর্তী দুইটি দেশের সীমান্ত এলাকারগুলোর সাথে অভিন্ন সংস্কৃতি ও প্রায় একই ধরনের স্বজাতীয় জাতিগোষ্ঠির বসবাসের কারনে সৃষ্ট আন্তঃগোত্রিয় সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের এক দশমাংশ এলাকা নিয়ে গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রামকে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা তাদের নিরাপদ আবাসস্থল বানিয়ে ফেলেছে।

একদিকে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীরা অপরদিকে মায়ানমারের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নানাবিধ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অন্যতম প্রধান সহযোগি হয়ে কাজ করছে পার্বত্য চট্টগ্রামের তথাকথিত অধিকার আদায়ের নামে গঠিত সশস্ত্র আঞ্চলিক সংগঠনগুলো। মূলত পাশ্ববর্তী দুইটি দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীদের সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে তাদেরই মাধ্যমে নিজেদের অস্ত্রের ভান্ডার শক্তিশালী করছে পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র আঞ্চলিক দলগুলো।

অত্রাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে গহীন অরন্যে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের কি ধরনের বিচরন রয়েছে। এসব সশস্ত্র সন্ত্রাসী ও তাদের নেতাদের ছত্রছায়ায় পার্বত্য চট্টগ্রামে ঘাটি গেড়ে বসে পাশ্ববর্তী দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা নিরাপদেই চালিয়ে গেছে তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম।

আর গুরু দক্ষিনা হিসেবে পাহাড়ের সন্ত্রাসীদের এসব বিচ্ছিন্নতাবাদীরা দিচ্ছে অঢেল টাকা আর ভারী ভারী আগ্নেয়াস্ত্র। অতি সম্প্রতি রাঙামাটির রাজস্থলী থেকে আটককৃত আরাকান নেতা রেনিন সু ও তার সুরৌম্য প্রাসাদ সেটাই প্রমান করছে। এখানে এসে মাত্র কটি বছরের মধ্যেই একটি স্থানীয় মেয়েকে বিয়ে করে সেকিনা অত্র উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার গৌরবও অর্জন করেছে।

আর রেনিন সোর মতো এসব বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী নেতাদের দেশে বসবাস করার মতো লাইসেন্স (নাগরিক সনদ ও জন্ম সনদ) প্রদান করছে খোদ আমাদের জনপ্রতিনিধিরা। তাদেরই প্রদত্ত সনদ ও সুপারিশে এসব ভীন দেশীয় সন্ত্রাসী কমান্ডাররা বাংলাদেশ হয়ে চলে যাচ্ছে বর্হিবিশ্বে। সেখানে গিয়ে তারা যোগ দিচ্ছে আর্ন্তজাতিক অপরাধ সিন্ডিকেটের সাথে। আর এসব অপরাধী সিন্ডিকেটদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম কে নিরাপদ রুট হিসেবে অত্রাঞ্চল দিয়ে নিয়ে আসছে কোটি কোটি টাকার অবৈধ ভারী ভারী অস্ত্র-সস্ত্র।

পার্বত্য চট্টগ্রামের দূর্গমতার সুযোগ নিয়ে এখানকারই কিছু স্বার্থানেষী উপজাতীয় মহলের কারনে এখানে প্রবেশ করছে কোটি কোটি টাকার মারণাস্ত্র। এসব মারণাস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বত্র। এখানকার আঞ্চলিক দল গুলোর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এসব অস্ত্রের কারনেই এখানে অপহরণ-চাঁদাবাজি-ভাতৃঘাতি সংঘাত থেকে শুরু করে এহেন কোনো অপকর্ম নেই যা তারা করেনা। অস্ত্রের ঝনঝনানিতে পাহাড়ের মানুষের পাশাপাশি এখন নাভিশ্বাস উঠেছে খোদ সরকারের ভেতরেই।

সংশ্লিষ্ট্য একটি সূত্র জানিয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে ধর্ম প্রচারণার আড়ালে চলছে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা। আর এর নেপথ্যে রয়েছে ভারতীয় অস্ত্র ব্যবসায়ীরা। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে টার্গেট করে খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে অস্ত্র ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের স্থানীয় এজেন্টরা। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য ওঠে এসেছে।

বাংলাদেশ-ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন দুর্গম এলাকার বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছ থেকে সংগ্রহ করে এসব অস্ত্র বাংলাদেশের বিভিন্ন পাহাড়ি ও দেশীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছে বিক্রি করা হয়।
এর নেপথ্যে পালিয়ান নামে এক ভারতীয় অস্ত্র ব্যবসায়ির জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। বাহিনী সূত্র জানায়, পালিয়ান ভারতের মিজোরাম এলাকায় থাকে। সে অস্ত্র ব্যবসার জন্য বেছে নিয়েছে মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও ভারত- এই তিন রাষ্ট্রের সীমান্তের সংযোগস্থলটিকে। গহীন জঙ্গল থাকায় ওই এলাকায় কোনো দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষেই কোনো ধরনের অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয় না।

সূত্রটি আরো জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে খ্রিষ্টান ধর্ম প্রচারণার আড়ালে অস্ত্র ব্যবসা চলে আসছে। অস্ত্রগুলো মূলত পার্বত্য তিন জেলার বিভিন্ন বিবদমান গোষ্ঠীর কাছে বিক্রি করা হয়। অস্ত্র ব্যবসায়ীরা তাদের কাজে বিভিন্ন উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর সদস্য ছাড়াও কিছু কিছু বাঙালিকে বেছে নেয়। তবে বাঙালিরা সাধারণত ধর্ম প্রচারের কাজ করে না। ভাষাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে ধর্ম প্রচার করে উপজাতীয়রা। আর এসব ধর্ম প্রচারের অন্তরালে চালিয়ে যায় অস্ত্র ব্যবসা।

ত্রিদেশীয় সীমান্তপথ দিয়ে আসা অস্ত্র দেশের ভেতরে ছড়িয়ে দেয়ার সঙ্গে যারা জড়িত তারা পাহাড়ি। তারা মূলত অস্ত্র কেনাবেচা করে।