অপারেশনের চেয়ে স্বাভাবিক প্রসবে জন্ম নেওয়া শিশু অনেক বেশি ভালো থাকে

অপারেশনের চেয়ে স্বাভাবিক প্রসবে জন্ম নেওয়া শিশু অনেক বেশি ভালো থাকে

শিশু জন্মের সময় জটিলতা দেখা দিলে অপারেশনের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রসবের বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়। এটাই সিজারিয়ান বা সি-সেকশন। প্রসবের সময় কিছু জটিলতায় মা ও নবজাতকের জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে। তখন সিজারিয়ান অপরিহার্য। কিন্তু এতে মা ও শিশুর কিছু সমস্যাও হয়। তাই একেবারে অপরিহার্য না হলে যেন সিজার না করা হয়, সেদিকে সবারই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান বা অপারেশনের মাধ্যমে শিশু জন্মের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। এর ফলে মা ও শিশু দুজনেই ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। অপ্রয়োজনে অপারেশনের মাধ্যমে শিশু জন্মের হার কমিয়ে আনতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, এই হার মোট শিশুজন্মের ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে থাকা দরকার।

হাসপাতাল এবং ডাক্তারের পাশাপাশি রোগী এবং রোগীর অভিভাবক ও ব্যথা সহ্য করতে না পারার অজুহাত দেখিয়ে অপারেশন করতে চায়।

অনেকেই ভেবে দেখেন না অপারেশনের চেয়ে স্বাভাবিক প্রসবে জন্ম নেওয়া শিশু অনেক বেশি ভালো থাকে।

সম্প্রতি মেলবোর্নে এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাভাবিক প্রসবে জন্ম নেওয়া শিশুরা অনেক বেশি স্মার্ট এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তাদের অনেক বেশি। জন্মের পরপরই ওরা সহজে ও দ্রুত মায়ের বুকের দুধ পায় ও খেতে পারে। জন্মের পরপরই মায়ের ত্বকের স্পর্শে এসে নবজাতক প্রয়োজনীয় উষ্ণতা পায়। এসবই সম্ভব হয় স্বাভাবিক জন্মের কারণে। জন্মনালি অতিক্রমের সময় নবজাতকেরা কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়া পায়। এগুলো তাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়।

স্বাভাবিক জন্মের শিশুরা যে শুধু স্মার্ট হয়, তা-ই নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ওই শিশুরা পরবর্তী জীবনে অনেক বেশি মেধার পরিচয় দেয়। পড়াশোনায় ওরা ভালো করে।

অনেকে মনে করে, স্বাভাবিক প্রসবে মা ও নবজাতকের মৃত্যুর আশঙ্কা বেশি। সেটা কিছু জটিল ক্ষেত্রে খাটে। অনেক সময় সিজার অপরিহার্য হয়ে পড়ে। সেটা তো মানতেই হবে।

কিন্তু দেখা গেছে, অপ্রয়োজনীয় সিজারের সংখ্যাই বেশি এবং এতে হুমকি বাড়ে। অপারেশনের পর মায়ের অনেক ভোগান্তি হয়। শিশুরাও নানা অসুখ-বিসুখে ভোগে।

তবে এটা ঠিক যে প্রয়োজন হলে নিশ্চয়ই অপারেশনে যেতে হবে। শুধু অপ্রয়োজনীয় অপারেশন যেন কমিয়ে আনা যায়, সেটাই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য।

তাই অপ্রয়োজনীয় সিজারকে না বলুন।

আমেরিকাকে টিকে থাকলে হলে যুদ্ধ বাধিয়েই টিকে থাকতে হবে।

আমেরিকাকে টিকে থাকলে হলে যুদ্ধ বাধিয়েই টিকে থাকতে হবে।

বর্তমান বিশ্বের সামনে যেসব সঙ্কট তৈরি হয়েছে, তার একটি হলো অর্থব্যবস্থা তথা অর্থের সংস্থান নিয়ন্ত্রণ। এর শুরুটা হয়েছিল মূলত ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে। শুনে অনেকেই অবাক হতে পারে যে, বর্তমান বিশ্বের অর্থের উৎস নিয়ন্ত্রণ করছেন মাত্র পাঁচ-সাত জন লোক। কোনো দেশ বা কোনো সরকার নয়। আর এটাই মানবসভ্যতার জন্য সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

আমরা এখন আমেরিকান সভ্য সমাজ বলতে যাদেরকে বুঝি, তারা মূলত ইউরোপ থেকে যাওয়া লোকজন। তারা ছিল উদ্যমী মানুষ। বিশাল এই উপমহাদেশে সৌভাগ্যের হাতছানি দেখে তারা ঝাঁকে ঝাঁকে সেখানে গিয়ে হাজির হয়েছে। সপ্তদশ শতকের ঘটনা এটা। ইউরোপীয়রা সেখানে গিয়ে উপনিবেশ স্থাপন করেছিল। তারা সেখানে গিয়ে দেখে, ইচ্ছেমতো যা খুশি তাই করা যাচ্ছে।

ইউরোপ থেকে যারা আমেরিকায় পাড়ি জমায়, তারা হাজার হাজার একর ভূ-সম্পত্তির মালিক হয়ে বসে। কারণ তখন সেখানে জমির কোনো মালিক ছিল না। যে আগে গিয়ে যতখানি জায়গা মার্কিং দিয়ে নিজের বলে দাবি করত, সেটাই তার হয়ে যেত। সবাই এটা মেনেও নিত। কারণ জমির অভাব নেই। কিন্তু হাজার হাজার বিঘা জমি নিয়ে বসে থাকলে তো হবে না, জমি আবাদ করতে হবে। ইউরোপীয়রা এসে দেখে; জমি পড়ে আছে কাজ করার লোক নেই। জঙ্গলে বিশাল বিশাল আকারের টার্কি ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা সেগুলো মেরে খাওয়া শুরু করল। আর সে কারণেই ৪ জুলাই আমেরিকানরা যখন তাদের স্বাধীনতা দিবস পালন করে, সে দিন খাবারের মেন্যুতে টার্কি হচ্ছে প্রধান আইটেম।

কিন্তু টার্কি খেয়ে আর কত দিন চলা যায়? এরপর শুরু করা হলো দাসব্যবস্থা। ইউরোপীয়রা বিশেষ করে, আফ্রিকা থেকে আদিবাসীদের ধরে নিয়ে গিয়ে আমেরিকায় দাস হিসেবে কাজে লাগানো শুরু করেছিল। আমেরিকান সভ্যতার যাত্রা শুরু মূলত এখান থেকেই।

এই ইউরোপীয় ভূস্বামীরা আমেরিকায় চরম স্বাধীনতা ভোগ করতে থাকে। যে যার মতো চলতে থাকে। এদের অনেকে এমন প্রতিপত্তি লাভ করে যে, প্রাইভেট ব্যাংক নাম দিয়ে নিজেই টাকা ছাপানো শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রশাসনও তৈরি হলো। কিন্তু পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেল যে, প্রশাসনকে পর্যন্ত শাসনব্যবস্থা পরিচালনার জন্য ওই সব পুঁজিপতির কাছে হাত পাততে হয়েছে। পরবর্তীকালে আরো অনেক দেশেও এটা ঘটেছে।

এমন সম্পদশালী অনেক পরিবার তৈরি হয়, যারা সরকার চালানোর টাকা দিয়ে থাকে। সৌদি আরবের মতো দেশে আল রাজি পরিবার, আল নাসির পরিবার রয়েছে। বাদশাহ সউদ, বর্তমান সৌদি আরবের ক্ষমতাসীন পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা, তাদের বাড়িতে এসে থাকত। কারণ তখন রাজপ্রাসাদ তৈরি করার মতো অর্থ বাদশাহর ছিল না।

যা হোক, ভূস্বামীরা যখন টাকা ছাপানো শুরু করল, তখন আমেরিকার রাজনীতিবিদদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিলো। এর সুদূরপ্রসারী এবং ক্ষতিকর দিকগুলো চিন্তা করে আতঙ্কিতবোধ করল তারা। বেশির ভাগ আমেরিকান প্রেসিডেন্ট এটা প্রতিরোধ করতে চাইল। কিন্তু তারা তা পারেনি। এই চেষ্টা করতে গিয়ে আমেরিকার তৃতীয় প্রেসিডেন্ট টমাস জেফারসন বলেছিল : “If the American people ever allow private banks to control the issue of their currency, first by inflation, then by deflation, the banks and corporations that will grow up around them will deprive the people of all property until their children wake up homeless on the continent their Fathers conquered... The issuing power should be taken from the banks and restored to the people, to whom it properly belongs.”
(আমেরিকার জনগণ যদি তাদের মুদ্রা ইস্যু করার ক্ষমতা বেসরকারি ব্যাংকগুলোর হাতে ছেড়ে দেয়, তাহলে প্রথমে মুদ্রাস্ফীতি ও পরে মুদ্রাসঙ্কোচনের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো জনগণকে তাদের সম্পত্তি থেকে এমনভাবে বঞ্চিত করতে থাকবে যত দিন না তাদের সন্তানরা এই মহাদেশে গৃহহীন হয়ে পড়ে, যে মহাদেশটিকে তাদের পিতারা জয় করেছিল... মুদ্রা ইস্যু করার ক্ষমতা ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে নিয়ে জনগণের কাছে দিতে হবে, যারা সত্যিকারের অধিকারী)। জেফারসন এই কথা বললেও সে প্রাইভেট ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে মুদ্রা ইস্যু করার ক্ষমতা নিতে পারেনি।

জেফারসনের পর চতুর্থ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেমস ম্যাডিসনও একই কথা বলেছে: “History records that the money changers have used every form of abuse, intrigue, deceit, and violent means possible to maintain their control over governments by controlling money and it's issuance.”
(ইতিহাসে দেখা যায়, মুদ্রা ও এর ইস্যু করা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মুদ্রা ব্যবসায়ীরা সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের অপব্যবহার, চক্রান্ত, শঠতা, প্রতারণা ও হিংসাত্মক উপায় অবলম্বন করেছে)।

অ্যান্ড্রু জ্যাকসন, আমেরিকার সপ্তম প্রেসিডেন্ট, ক্ষমতায় এসে বলল : “If Congress has the right under the Constitution to issue paper money, it was given to be used by themselves, not to be delegated to individuals or corporations”
(সংবিধানের আওতায় কংগ্রেসের কাছে কাগজের টাকা ইস্যু করার যে ক্ষমতা রয়েছে তা শুধু তারই ব্যবহারের জন্য, সেটি কোনো ব্যক্তি বা করপোরেশনের হাতে অর্পণের জন্য নয়)।

আব্রাহাম লিঙ্কনেরও একই কথা ছিল : The Government should create, issue, and circulate all the currency and credits needed to satisfy the spending power of the Government and the buying power of the consumers. By the adoption of these principles, the taxpayers will be save from immense sums of interest. Money will cease to be master and become the servant of humanity”
(সরকারের ব্যয়ের ক্ষমতা ও ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা পরিতুষ্ট করার জন্য সরকার সব ধরনের মুদ্রা ও ক্রেডিট সৃষ্টি, ইস্যু ও বিতরণ করবে। এই নীতিমালা গ্রহণ করা হলে করদাতারা বিপুল অঙ্কের সুদ থেকে রক্ষা পাবেন। অর্থ তখন প্রভু না হয়ে মানবতার সেবকে পরিণত হবে)।

এই উদ্ধৃতিগুলো দিয়েছি মূলত ব্যক্তির হাতে অর্থ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা যে ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে, তা বুঝানোর জন্য। আমেরিকার সেরা প্রেসিডেন্টরা পর্যন্ত এটা জানত। আর আব্রাহাম লিঙ্কন যে কথা বলেছে, তাতে ইসলামের মূল্যবোধের কথাই চলে আসে। লিঙ্কন তো মুসলমান ছিল না। কিন্তু মানবিক বিষয়গুলো সব সভ্যতাতেই এক। ইসলাম মানবসভ্যতা ও মানবজ্ঞানেরই অংশ।

কিন্তু এতসব সতর্কবাণীর পরও ১৯১৩ সালে প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন ফেডারেল রিজার্ভ আইনে স্বাক্ষর করে আমেরিকার মুদ্রাব্যবস্থা কয়েকজন ব্যক্তির নিয়ন্ত্রিত একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেয়, যা আজকে ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ নামে পরিচিত। এটি কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক নয় যে, সরকার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এটা বলতে গেলে, একটি আর্থিক মাফিয়া চক্র পরিচালিত প্রতিষ্ঠান। আর সে কারণে পরে উইলসনই আক্ষেপ করে বলেছে, ‘আমি সবচেয়ে দুঃখী মানুষ। কারণ আমি অনিচ্ছায় আমার দেশকে ধ্বংস করেছি।’

উইলসনের ওই আইনে স্বাক্ষর করার হয়তো কারণ ছিল। হয়তো তাকেও অর্থের জন্য বেসরকারি খাতের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল। আজ এই ফেডারেল রিজার্ভ আমেরিকার সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা শুধু ডলার ছাপিয়ে বাজারে ছাড়ছে আর আমাদের মতো দেশগুলো তার পেছনে ছুটছে।

ডলারের বিপরীতে স্বর্ণ মজুদ করার কথা ছিল। কিন্তু এই নিয়মও বাতিল করা হলো। আমরা ডলার দেখলে পাগল হয়ে যাই। কিন্তু সূক্ষ্ম বিচারে এই ডলারের কোনো মূল্যই নেই। এটা ‘কাগুজে বাঘ’ মাত্র। এটাই বাস্তবতা। যে কেউ এই তথ্যগুলো যাচাই করে দেখতে পারেন। সারা দুনিয়ায় তারা এই কাগুজে বাঘ ছড়িয়ে দিয়েছে। সে কারণেই সৌদি আরবকে তারা কব্জায় রাখতে চায়।

আজ সৌদি আরব যদি বলে, তারা তেলের মূল্য হিসেবে কাগুজে ডলারের পরিবর্তে সমমূল্যের সোনা চান, তাহলে আমেরিকার পতন ঘটবে। যুক্তরাষ্ট্র এটা কোনোভাবেই সহ্য করবে না। কিন্তু আমেরিকানদের যুদ্ধশক্তির কাছে বিশ্ব হয়ে আছে অসহায়। চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যবিরোধের সূচনা এখানেই। চীন এখন উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি। কারণ বাণিজ্যক্ষেত্রে আমেরিকা তার প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছে।

একটি ক্ষেত্রে আমেরিকা সুবিধা ধরে রেখেছে- সেটি হলো উদ্ভাবন। সারা বিশ্ব থেকে নানাভাবে প্রলুব্ধ করে মেধাবী মানুষদের তারা নিয়ে গেছে। আমেরিকা খুবই কসমোপলিটন একটি সোসাইটি। সেখানে যদি ছয় মিলিয়ন মুসলমান থাকে, তাহলে দেখা যাবে দুই মিলিয়নই পিএইচডি ডিগ্রিধারী। ১০ হাজার ইহুদি থাকলে তাদের ১০ হাজারই ডক্টরেট। বিশ্বের আর কোনো দেশে এটা নেই। আমেরিকানরা এখনো উদ্ভাবন ও আবিষ্কারের ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে। এটা এ কারণে নয় যে, সাদা চামড়ার মানুষ মেধাবী, আর অন্যরা মেধাহীন। তারা মেধাপাচার করে নিয়ে যাওয়ার কারণেই এটা হয়েছে। এই উদ্ভাবনের কারণে তারা যুদ্ধশিল্পে সবাইকে ছাড়িয়ে যেতে পেরেছে। তাদের টিকে থাকলে হলে যুদ্ধ বাধিয়েই টিকে থাকতে হবে।

হালাকু খানের মুসলিম নিধন খৃষ্টানদের মুসলিমবিদ্বেষিতার ফল!

হালাকু খানের মুসলিম নিধন খৃষ্টানদের  মুসলিমবিদ্বেষিতার ফল!

হালাকু খান ছিল চেঙ্গিস খানের অপর পৌত্র ও বারকি খানের চাচাতো ভাই। সে ছিল অর্ধস্বায়ত্তশাসিত মোগল অঞ্চল ইলখানেতের শাসক। হালাকু খান তার অনিন্দ্য সুন্দরী খ্রিস্টান স্ত্রী ডোকজ খাতুন দ্বারা প্রচণ্ড রকম প্রভাবিত ছিল।

হালাকু খানের পছন্দ-অপছন্দ ও রাজ্য পরিচালনায় তার বিশেষ নিয়ন্ত্রণ ছিল। হালাকু খান যখন নেস্টোরিয়ান চার্চ পরিদর্শনে যায় তখন ‘অবিশ্বাসী মুসলিমদের’ বিরুদ্ধে খ্রিস্টান নেতারা তাকে খেপিয়ে তোলে। সে তার স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করার জন্য মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে, যে ধ্বংসাত্মক অভিযান কয়েক বছর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

১২৫৬ সালে পারস্যের বিরুদ্ধে অভিযানের মধ্য দিয়ে হালাকু খানের মুসলিমবিরোধী অভিযান শুরু হয় এবং তা শেষ হয় ১২৫৮ সালে বাগদাদ পতনের মধ্য দিয়ে। বাগদাদ দখল করার পর আব্বাসীয় খলিফা আল মুস্তাসিম বিল্লাহ ও তাঁর সন্তানদের হত্যা করে। দামেস্কের আইয়ুবি শাসকরাও হালাকু খানের নির্দয় আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন। এ সময় একটি অপ্রতিরোধ্য শক্তি এবং ‘আমার শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু’ মূলনীতির আলোকে ক্রুসেডার রাষ্ট্রসহ (খ্রিস্টান-মুসলিম যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী) অনেক খ্রিস্টান রাজ্য হালাকু খানকে সমর্থন জানায়।

পশ্চিমাদের হাতের পুতুল কুর্দি জনগোষ্ঠী

পশ্চিমাদের হাতের পুতুল কুর্দি জনগোষ্ঠী

১৯৭২ সালের ৩০ জুন। কুর্দিদের নেতা ইদরিস বারজানি ও মাহমৌদ উসমান এক গোপন সফরে ভার্জিনিয়ায় সিআইয়ের দপ্তরে। সেখানে অপেক্ষা করছিল সিআইয়ের কিংবদন্তির পরিচালক রিচার্ড হেলমস। বারজানি ও উসমানকে এক চমকপ্রদ তথ্য দিল হেলমস। যুক্তরাষ্ট্র কুর্দিদের সহায়তা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ষাটের দশকে কুর্দিরা স্বায়ত্তশাসনের জন্য লড়ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টাতদবির করেও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পায়নি কুর্দিরা।

আপাত সমর্থনের কথা জানালেও হেলমস জানায়নি যে অচিরেই যুক্তরাষ্ট্রের কুর্দি আবারও নীতি বদলে যাবে। ১৯৭৪ সালে ইরাকের মুখে কুর্দিদের ঠেলে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র পিছটান দেয়। ফরেন পলিসি ম্যাগাজিনে চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে যুক্তরাষ্ট্র-কুর্দি সম্পর্কের বিবরণ এভাবেই দিয়েছে হাওয়াই প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ব্রায়ান আর গিবসন।

ইতিহাস বলে বারবারই যুক্তরাষ্ট্র কুর্দিদের নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে। স্বার্থ হাসিল করে বিপদে ফেলে ভেগেছে। তাই সিরিয়ার কুর্দি অঞ্চলে তুরস্কের হেমন্তে শান্তি আনয়নের অভিযানে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারে যারা হাহুতাশ করছে, তাদের জেনে রাখা উচিত নব্বইয়ের উপসাগরীয় যুদ্ধের পরও সাদ্দাম হোসেনের থাবার সামনে তাদের ফেলে রেখে যুক্তরাষ্ট্র বেমালুম চলে গিয়েছিল। অথচ প্রেসিডেন্ট সিনিয়র জর্জ বুশের ডাকে সাড়া দিয়ে কুর্দিরা সাদ্দামের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করে পথে নেমেছিল। গণহত্যার শিকার হয়ে কুর্দিরা এর দায় শোধ করেছিল।

কুর্দিদের সঙ্গে পশ্চিমের প্রতারণা শুরু উসমানীয় সাম্রাজ্যের পতনের পর থেকেই। জনশ্রুতি আছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালে পৃথক রাষ্ট্র গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কুর্দিদের হাত করেছিল ইউরোপীয়রা। এরপর যুদ্ধের অবসান হলে ফ্রান্স ও ব্রিটেন কুর্দি এলাকা দখলে নেয়। পরে তুরস্ক, ইরান, ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যে বণ্টন করে দেয়।

কুর্দিদের বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে পশ্চিমারা ব্যবহার করেছে। কখনো ইরাকের, সিরিয়া বা তুরস্কের বিরুদ্ধে। ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে সম্মুখসমরে কুর্দিরাই ছিল অগ্রভাগে। ১৯৭০ সালে যুক্তরাষ্ট্র হুট করে কুর্দিদের সমর্থন দিল কেন? উত্তর লুকিয়ে আছে ১৯৬৭ ও ১৯৭২এর আরবইসরায়েল যুদ্ধে ইরাকের অংশ নিতে না পারায়। কারণ, ওই সময় ইরাক উত্তরাঞ্চলে কুর্দিদের সামলাতেই ব্যস্ত ছিল। কুর্দিদের অস্ত্র, অর্থ দিয়ে ইরাককে ব্যস্ত রেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ৬৭ ও ৭২এর যুদ্ধের পর সিনাই, গোলানসহ বিভিন্ন এলাকা ইসরায়েলের দখলে গেল। আর কুর্দিদের হাতে সমগ্র অঞ্চল অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কায় ৭৪এ যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়া থেকে আংশিক সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকায় লিখেছে, কুর্দিদের সঙ্গে সবাই প্রতারণা করেছে। সাদ্দামের ইরাকের বিরুদ্ধে কুর্দিদের উসকে দেওয়ার পেছনে ইসরায়েল ও ইরানের হাত ছিল। এখন আবার আহত আইএস যোদ্ধাদের ইসরায়েল নিজ শহরে চিকিৎসা দিয়েছে বলে রবার্ট ফিস্ক বেশ কয়েকবার উল্লেখ করেছে।

ইরান, ইরাক, সিরিয়া ও তুরস্কের কুর্দিঅধ্যুষিত এলাকা নিয়ে স্বাধীন কুর্দিস্তান গঠনের কথা অনেক দিন ধরেই ঘুরে বেড়াচ্ছে। কুর্দিস্তানকে পশ্চিমারা আরেকটি ইসরায়েল বানাতে চেয়েছিল। স্বাধীন কুর্দিস্তান গঠন করা সম্ভব হলে আরবের দেশগুলোকে দুই দিক থেকে চাপে রাখা যাবে। একদিকে ইসরায়েলের চাপ। অপরদিকে কুর্দিস্তানের চাপ। সব মিলিয়ে আরব দেশগুলো দিশেহারা অবস্থায় থাকবে। কিন্তু কুর্দিরা এখনো পশ্চিমাদের পূর্ণ আস্থা অর্জন করতে পারেনি। তাই এই প্রকল্পও আটকে আছে। তুরস্কের সিরিয়া অভিযান এর বড় উদাহরণ।

সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ, আইসিসের বিরুদ্ধে কুর্দিদের সাফল্য, ইরাকে কুর্দিদের জন্য পৃথক অঞ্চল গঠনে অনেকেই মনে করেছিল কুর্দিস্তান এবার স্বাধীন হতে পারে। কিন্তু সিরিয়া যুদ্ধের নানা পক্ষের অংশগ্রহণ সম্ভাব্য কুর্দিস্তানের ভব্যিষৎ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তুরস্কের অপারেশন পিস স্প্রিং সব জল্পনাকে আরও ফিকে করে দিয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কুর্দিরা এখন রাশিয়া ও সিরিয়ার সরকারি পক্ষের সঙ্গে সমঝোতা করতে বাধ্য হয়েছে। কুর্দি বাহিনীর কমান্ডার মজলৌম আবদির মতে, কুর্দিদের জন্য দুটি বিকল্প আছে। গণহত্যার শিকার হওয়া অথবা সমঝোতা করা। শেষ পর্যন্ত কুর্দিদের সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্স তথা বাশার আলআসাদের সঙ্গে সমঝোতাই করতে হলো। এত দিন এসডিএফ পেন্টাগনের অর্থে ও অস্ত্রে বাশারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। মূলত বাশারকে ক্ষমতা থেকে টলিয়ে দিতেই কুর্দিরা সমবেত হয়েছিল ২০১১ সালে আরব বসন্তের ধাক্কায়। সেই কুর্দিরা এখন সেই অস্ত্র ন্যাটোর সদস্য তুরস্কের বিপরীতে ধরবে।

তুরস্ক কখনই কুর্দিদের উত্থানকে মেনে নেবে না। ২০১২ সালের জুলাইয়ে কুর্দিস ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন পার্টি (কেওয়াইডি) সিরিয়ার সীমান্তে একটি ছোট শহর দখল করে নেয়। কেওয়াইডি হচ্ছে তুরস্কের কুর্দি সংগঠন কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পাটির (পিকেকে) সিরীয় অংশ। স্বভাবতই তুরস্ক কুর্দিদের বিষয়ে শুরু থেকেই সতর্ক ছিল।

পিকেকে ১৯৮৪ সাল থেকে আংকারার বিরুদ্ধে গেরিলাযুদ্ধ করছে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে আইএসের বিরুদ্ধে লড়ে কুর্দিরা সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে নিয়ে নেয়। কুর্দিদের সংগঠন সিরিয়ার ডেমোক্রেটিক ফোর্স এই যুদ্ধে নেতৃত্ব দেয় এবং আইএসকে পরাজিত করে। যদিও সিরিয়ার অনেক নাগরিকই মনে করেন, বস্তুত সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর হাতে আইএস পরাজিত হয়েছে। পেছনে ছিল রাশিয়া, ইরান ও হিজবুল্লাহ। শুরুতে তুরস্ক কুর্দিদের নড়াচড়াকে সাময়িকভাবে মেনে নিলেও শর্ত দিয়েছিল কুর্দিরা যেন ফোরাত নদী অতিক্রম করতে না পারে। কিন্তু কুর্দিরা ক্রমশই শক্তি সঞ্চয় করে ফোরাত অতিক্রম করে তুরস্কের সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র কুর্দিদের তুরস্কের হামলার মুখে ফেলে শুধু ভাগেইনি বরং ডোনাল্ড ট্রাম্প কুর্দিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, কুর্দিরা আটক আইএস জঙ্গিদের মুক্ত করে দিচ্ছে।

সিরিয়ার যুদ্ধ খুবই জটিল। একে সাধারণ তত্ত্ব ও তথ্য দিয়ে বিশ্লেষণ করা কঠিন। এখানে কে কার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে বলা মুশকিল। ক্ষণে ক্ষণে এর রং বদলায়। সবাই আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। কিন্তু সবার হামলায় কেবল সাধারণ মানুষ মারা যায়। তবে এই যুদ্ধে কোনো পক্ষই হারেনি। যদি শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষ পরাজিত হয়, তবে তা হবে কুর্দিদের।

জরুরি জন্মনিরোধক পিল শরীরের জন্য ক্ষতিকর

জরুরি জন্মনিরোধক পিল শরীরের জন্য ক্ষতিকর

অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের ঝুঁকি এড়াতে আজকাল জরুরি গর্ভনিরোধক পিল খাওয়ার একটা বেশ চল হয়েছে। অনেকে গর্ভধারণের ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে একই মাসে এ ধরনের জরুরি গর্ভনিরোধক পিল একাধিকবার খেয়েছেন চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই। সাধারণত অরক্ষিত শারীরিক সম্পর্কের ৭২ থেকে ১২০ ঘণ্টার মধ্যে এই পিল খেতে হয়।

এই পিল খাওয়ার পরও গর্ভসঞ্চার হতে পারে। এ পর্যন্ত পাওয়া উপাত্ত অনুযায়ী দেখা গেছে, প্রতি ১০০ জনে ২ জন নারী অরক্ষিত শারীরিক সম্পর্কের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই পিল খাওয়ার পরও গর্ভধারণ করেছেন।

এই পিল খাওয়ার অসুবিধা

১. পিল খাওয়ার পর অরক্ষিত শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই পিল কার্যকর নয়।
২. এই পিল চর্ম ও যৌনরোগের হাত থেকে বাঁচায় না।
৩. পিল খাওয়ার পর বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে।
৪. নারীর স্তনে তীব্র ব্যথা হতে পারে।
৫. মাথাব্যথা হতে পারে।
৬. পরবর্তী মাসিক অনিয়মিত হতে পারে।