বৈশাখে জাতিয়তাবাদের ভিত্তি খোজা জঘন্য মিথ্যাচার

বৈশাখে জাতিয়তাবাদের ভিত্তি খোজা জঘন্য মিথ্যাচার


নানাভাবেই আমাদের জাতীয়তাবাদের শিকড় খোঁজা হচ্ছে। নানা বিভ্রান্তিকরভাবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা হচ্ছে জাতিসত্তার ভিত্তিভূমি।

যেমন বাংলা নববর্ষে খাওয়া হচ্ছে পান্তাভাত দিয়ে ইলিশ মাছ। যা এ দেশের মানুষ কোনো দিন ইতঃপূর্বে খাননি। এ দেশের লোককবি গান বেঁধেছেন : লম্বা লম্বা বিচা কলা, পয়দা করচেন আল্লাহতালা বান্দারা তা পান্তা দিয়া খাইবে।

লোকে পান্তাভাতের সঙ্গে খেয়েছে বিচা কলা; ইলিশ-ভাজা নয়। এই ছিল আমাদের গণসংস্কৃতি। কিন্তু একদল বুদ্ধিজীবী (ভারতপ্রেমী?) আমাদের সব অতীতকে যেন এখন দিতে চাচ্ছে বদলে।

এখন বাদশা আকবরকে এবং মুঘল আমলকে বড় করে তোলার চেষ্টা হচ্ছে। অথচ আসল বাংলার ইতিহাস খোঁজা উচিত সুলতানি আমলের মধ্যে; মুঘল বাদশাহী আমলের মধ্যে নয়।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৩৩৮ সাল থেকে ১৫৭৬ সাল পর্যন্ত সময়কে বলা হয় স্বাধীন সুলতানি আমল। এই আমলে যেসব শিলালিপি পাওয়া গেছে, সেগুলো প্রধানত আরবি ভাষায় লিখিত। যার থেকে অনুমান করা চলে, এই সময় ছিল রাজকার্যে আরবি ভাষার বিশেষ প্রভাব; ফারসি ভাষার নয়।

মুঘল আমলে যেসব শিলালিপি পাওয়া গেছে, তা প্রধানত ফারসি ভাষায় লিখিত। বাংলা ভাষার ইতিহাস রচক দীনেশচন্দ্র সেন তার History of the Bengali Language and Literature বইতে বলেছে যে, বাংলার স্বাধীন সুলতান এবং তাদের গুরুত্বপূর্ণ কর্মচারীরা বাংলা ভাষা সাহিত্য উন্নয়নে জুগিয়েছেন বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতা”।

বইটি প্রকাশিত হয় ১৯১৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদিত হয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরে প্রকাশিত হয় ময়মনসিংহ গীতিকা। যাতে আমরা পাই একাধিক মুসলিম গীতিকারের নাম। এই গীতিকাহিনীগুলো খুবই উন্নতমানের। এগুলোর মধ্যে ফুটে উঠেছে উপন্যাসের রূপ। বাংলাদেশকে বুঝতে হলে নবাবী আমলে রচিত গ্রামবাংলার এসব কাহিনীগুলোকে এখনো পাঠ করতে হয়। পান্তাভাতে ইলিশ খেয়ে যা আদৌ সম্ভব নয়।

ব্রিটিশ শাসনামলে পয়লা বৈশাখে দোকানে দোকানে হালখাতা করা হতো। এর মধ্যেই সীমিত ছিল পয়লা বৈশাখ উদযাপন। কিন্তু এখন পয়লা বৈশাখ উদযাপিত হতে চাচ্ছে বাঙালি জাতীয়তাবাদের অংশ হিসেবে। যা করার কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই।


বাংলা সন পোপ গ্রেগরি XIII-এর ক্যালেন্ডারের অনুসরন

বাংলা সন পোপ গ্রেগরি XIII-এর ক্যালেন্ডারের অনুসরন

জুলিয়াস সিজার প্রথম লিপিয়ার সংযোগে ক্যালেন্ডার প্রস্তুত করে। যা খ্যাত হয়ে আছে জুলিয়ান ক্যালেন্ডার হিসেবে।

পোপ গ্রেগরি XIII জুলিয়াস সিজারকৃত ক্যালেন্ডারের সংস্কার করে। যা হলো বর্তমান খ্রিষ্টাব্দ গণনার ভিত্তি।

সরকারি কাজকর্ম তারই রচিত ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে। যাকে সাধারণ কথায় কলা হয় ইংরেজি সাল, তা আসলে হলো পোপ গ্রেগরি XIII রচিত সন। এতে ইংরেজদের কোনো অবদান নেই।

ইংরেজরা প্রথমে পোপ গ্রেগরি XIII-এর সনকে মানতে চায়নি ধর্মীয় কারণে। কেননা তারা ক্যাথলিক নয়; কিন্তু পরে মেনে নেয়।

বাংলা একাডেমি বাংলা পঞ্জিকার সংস্কার সাধন করেছে। বৈশাখ থেকে ভাদ্র পর্যন্ত মাস ধরা হয় ৩১ দিনে। আশ্বিন থেকে চৈত্র পর্যন্ত প্রত্যেক মাস ধরা হয় ৩০ দিনে।

গ্রেগরি ক্যালেন্ডারে যে বছর লিপিয়ার থাকে, সে মাসে ফাল্গুন মাসকে ধরা হয় ৩১ দিনে।

অর্থাৎ ক্যালেন্ডার সংস্কার করতে গিয়ে বেনামিতে বাংলা একাডেমি গ্রহণ করেছে পোপ গ্রেগরি XIII-এর ক্যালেন্ডারকে।

এ ক্ষেত্রেও বাঙালি জাতীয়তাবাদের অথবা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের বিন্দুমাত্র কোনো স্বাক্ষর নেই।
কেবল মাসগুলোর নামই থাকছে বাংলায়। যে নামগুলো আবার হিন্দির সাথেও অভিন্ন। দক্ষিণ এশিয়ার সারা উত্তর ভাগেই চলে।

বৈশাখ মাসের পূর্ণিমায় চাঁদ অস্ত যাওয়ার সময় বিশাখা নক্ষত্রকে তার কাছে থাকতে দেখা যায়। তাই মাসটাকে বলা হয় বৈশাখ।

চৈত্র মাসের পূর্ণিমাতে চিত্রা নামক নক্ষত্রকে একইভাবে দেখা যায় চাঁদের কাছে। তাই মাসটার নাম হয়েছে চৈত্র। কিন্তু এই নাম রীতি কেবল যে বাংলাদেশের, তা নয়। হিন্দুদের ধর্মকর্ম পালিত হয় চন্দ্র মাস অনুসারে।

বাঙালি জাতীয়তাবাদের সাথে বৈশাখের কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই

বাঙালি জাতীয়তাবাদের সাথে বৈশাখের কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই


পাঞ্জাবে বাংলাদেশের মতোই নানা জায়গায় একসময় বৈশাখী মেলা বসত। ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের অমৃতসর শহরের জালিয়ানওয়ালাবাগে হচ্ছিল বৈশাখী মেলা। এই মেলাতে গণ্ডগোল থামাতে পুলিশকে চালাতে হয় গুলি। যার ফলে মারা যা কয়েক শব্যক্তি।

জালিয়ানওয়ালাবাগের ঘটনা ঘটেছিল এখন থেকে ১০০ বছর আগে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। রবীন্দ্রনাথ জালিয়ানওয়ালাবাগের ঘটনার প্রতিবাদে ছেড়েছিলেন ব্রিটিশ প্রদত্ত তার স্যার খেতাব।

অনেকে বাংলাদেশে প্রমাণ করতে চাচ্ছে, বৈশাখ থেকে বছর গণনা যেন কেবল বাংলাদেশেরই বৈশিষ্ট্য; কিন্তু পাঞ্জাবে একসময় বছর গণনা করা হতো পয়লা বৈশাখ থেকেই।

বিষয়টি উল্লেখ করছি এই জন্য যে, অনেকে এখন পয়লা বৈশাখ উদযাপন করতে গিয়ে টেনে আনতে চাচ্ছে বাঙালি জাতীয়তাবাদের কথা; কিন্তু এর কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই।

পয়লা বৈশাখকে দাবি করতে পারে, যদি চায় তবে পাঞ্জাবিরাও। কেননা, বাংলার মতো পাঞ্জাবও ছিল মুঘল সুবা।

আর সম্রাট আকবরকে নিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদ প্রচার করা যায় না, কেননা সমগ্র মুঘল যুগজুড়ে বাংলাদেশে হয়েছে বারভূঁইয়ার অভ্যুত্থান।

মুঘল যুগে সুবে বাংলা শাসিত হয়েছে প্রধানত বাংলাভাষী রাজ কর্মচারীদের দিয়ে। মুঘল আমলে বড় বড় রাজ কর্মচারী (মসনদদার) হতেন বাংলাদেশের বাইরের লোক। কিন্তু এখন আমরা মুঘল আমলে প্রবর্তিত ফসলি সালকে নিয়ে করতে চাচ্ছি অহঙ্কার।

বাদশা আকবরকে নিয়ে নয়, অতীতে আমরা গৌরব করতে চেয়েছি ঈশা খাঁন, উসমান, তাহের গাজী প্রমুখ বারভূঁইয়াদের নিয়ে।


ফসলি সনকে কেবল মাত্র বাংলার সন বলা হবে, সেটা বোঝা দুষ্কর

ফসলি সনকে কেবল মাত্র বাংলার সন বলা হবে, সেটা বোঝা দুষ্কর

দক্ষিণ এশিয়ার নানা জায়গায় বিভিন্নভাবে পঞ্জিকা রচনার পদ্ধতি ছিল। যার বিবরণ পাওয়া যায় প্রধানত দুটি বই থেকে। একটি বই হলো স্যার আলেকজান্ডার কানিংহ্যামের ‘Indian Calendar' গ্রন্থ। যার প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয় কলকাতা থেকে ১৮৮৩ সালে। এরপর দক্ষিণ এশিয়ার ক্যালেন্ডার সম্পর্কে যে বইটিতে এ সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য পাওয়া যায়, তা হলো R Sewell এবং S B Dikcit লিখিত ‘Indian Calendar' গ্রন্থ। যা লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয় ১৮৯৮ সালে।

আমরা সাধারণত এ উপমহাদেশের ক্যালেন্ডার বা পঞ্জিকা সম্পর্কে যেসব কথা লিখি, তার ভিত্তি হলো এই দুটি গ্রন্থ। গ্রন্থ দুটি এখন দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে। তবে বাংলাদেশের বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতিগ্রন্থাগারে কিছু দিন আগেও বই দুটি পড়া সম্ভব হতো। আমরা এখানে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রচলিত সন তারিখ নিয়ে যা বলতে যাচ্ছি, তার অনেক কিছুই এই দুটি গ্রন্থ থেকে পাওয়া। উত্তর পশ্চিম ভারতে ব্রিটিশ শাসনামলে চলত বিক্রম অথবা সম্বত বর্ষ। ধরা হতো, যার প্রচলন করেন রাজা বিক্রমাদিত্য। সম্বত হলো যাকে বলা হয়, চন্দ্র-সৌর (Lunisolar year)

অর্থাৎ এর মাস গণনা হয় চাঁদের মাসের হিসেবে। আর বছর গণনা হয় সৌর-সাল হিসেবে। আমরা এখন জানি, পৃথিবী বিশেষভাবে সূর্যের দিকে হেলে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। তাই ঘটে দিনের দৈর্ঘ্যরে হ্রাস-বৃদ্ধি। ঘটে ঋতু পরিবর্তন। বিভিন্ন ঋতুতে হয় বিভিন্ন ফসল। ফসল অনুসারে কৃষকের পক্ষে খাজনা দেয়া সহজ। তাই সৌর বছর সহায়তা করে রাজাকে খাজনা দিতো। সম্রাট আকবর তাই সৌর বছর গ্রহণ করেছিলেন খাজনা আদায়ের সুবিধার লক্ষ্যে।

এই সালকে তিনি বলেন ফসলি। আকবরের সাম্রাজ্য ছিল ১৫টি সুবায় বিভক্ত। তাহলো : আগ্রা, দিল্লি, আজমির, মালব, এলাহাবাদ, লাহোর, বাংলা, বেরার, মুলতান, বিহার, খামদেশ, অযোধ্যা, কাবুল, আমেদাবাদ এবং আহমদনগর। অর্থাৎ বাদশা আকবর একপর্যায়ে খাজনা উঠাবার সুবিধার জন্য এই ১৫টি সুবা বা প্রদেশেই প্রবর্তন করেছিলেন ফসলি সন।

কেন এখন ফসলি সনকে কেবল মাত্র বাংলার সন বলা হবে, সেটা বোঝা দুষ্কর। কিন্তু সেটাই এখন করা হচ্ছে।


মুসলমান নয়, অমুসলিমেরাই সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসী

মুসলমান নয়, অমুসলিমেরাই সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসী

সাম্প্রদায়িকতা ও সন্ত্রাসবাদের জন্য মুসলমানদের দায়ী করা হলেও প্রকৃতপক্ষে মুসলমানেরাই এখন এর প্রধান ভিকটিম। অথচ বিশেষ উদ্দেশ্যে এ জন্য মুসলমানদেরই দায়ী করা হয়। শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদ হুমকির মুখে পড়েছে- এমন উদ্ভট ও কল্পিত বিশ্বাস থেকে চালানো সর্বশেষ হামলায় গত ১৫ মার্চ ২০১৯ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে নির্বিচার গুলিবর্ষণে নিহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিমা বিশ্বসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যেসব সন্ত্রাসবাদী ও বর্ণবাদী হামলার ঘটনা ঘটেছে তার প্রায় সবই হয়েছে মুসলমানদের বিরুদ্ধে। ঘটনার আদ্যোপান্ত পর্যালোচনায় এক ভয়াবহ চিত্রই বিশ্ববাসীর সামনে উঠে এসেছে। যা বিশ্বশান্তির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে।

১) ২০১৫ সালের অক্টোবরে সুইডেনের ট্রোলহাটনের স্কুলে হামলায় নিহত হন তিনজন। এ হামলার লক্ষ্যবস্তুও ছিল মুসলমান। নিহতদের মধ্যে ছিল ১৫ বছর বয়সী আহমেদ হাসান। সোমালিয়ায় জন্ম নেয়া এই শিশুটি কয়েক দিন আগেই সুইডেনে এসেছিল।

২) ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে কানাডার কুইবেক অঙ্গরাজ্যের এক মসজিদে সদ্য নামাজ শেষ করা মুসল্লিরা যখন বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখন ২৯ বছর বয়সী বিসোনেত্তে নামের ব্যক্তি তাদের ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। বন্দুক হামলাকে প্রতিহত করতে গিয়ে নিহত হন আজেদাইন সৌফিয়ান নামে এক ব্যক্তি। ওই হামলায় আহত হন আরো ১৯ জন।

৩) ২০১৭ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পোর্টল্যান্ডে ছুরিকাঘাতে নিহত হন দুজন। অভিযুক্ত হত্যাকারী আদালত কক্ষে চিৎকার করে বলেছিল, ‘স্বাধীনভাবে কথা বলতে দাও নইলে মরো। তুমি একে সন্ত্রাসবাদ বলতে পারো, আমি এটাকে দেশপ্রেম বলব।একই বছরের জুনে যুক্তরাজ্যের ফিনসব্যুরি পার্কের বাইরে একটি মসজিদের বাইরে মুসল্লিদের ওপর চালিয়ে দেয়া ভ্যানের চাপায় নিহত হন মুকাররম আলি ও অপর ১২ জন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছিলেন, ড্যারেন অসবর্ন নামের হত্যাকারী ভ্যান হামলার পর চিৎকার করে বলেছিল, ‘আমি সব মুসলমানকে মারতে চাই-অল্প কয়েকজনকে মারলাম।

৪) ২০১৭ সালের জুনে পূর্ব লন্ডনের বেকটনে ব্রিটিশ মুসলিম মডেল রেশাম খান (২১) এবং তার চাচাতো ভাই জামিল মুখতারের (৩৭) ওপর এসিড হামলা হয়। এতে প্রচণ্ডরকমের দগ্ধ হন দুজনই। রেশাম ও জামিলের ওপর এসিড নিক্ষেপকে মুসলিমবিদ্বেষী হামলা হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।

বিশ্বব্যাপী একটি ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে, বেশির ভাগ জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদী হামলার সাথে মুসলমানেরা জড়িত। কিন্তু চুলচেরা বিশ্লেষণে তা অসার বলেই প্রমাণিত। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার গবেষণার ফলাফলেও সে চিত্রই ফুটে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণা সংস্থার জরিপের ফলাফলে দেখা দেছে, গত ১০ বছরে দেশটিতে শতকরা ৭১ ভাগ হামলার ঘটনার সাথে জড়িত শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদীরা।

নিউ ইয়র্কভিত্তিক সংস্থা অ্যান্টি-ডিফেম্যাশন লিগ সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৮ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যতগুলো সহিংস হামলার ঘটনা ঘটেছে সেগুলোর মধ্যে ৭১ শতাংশ চালিয়েছে শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী ও আধিপত্যবাদীরা। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০১৭ সালের তুলনায় গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা বেড়েছে ৩৫ শতাংশ।

এ দিকে দ্য ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস অব অস্ট্রেলিয়া নামের স্বনামধন্য গবেষণা সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে।সিডনিভিত্তিক সংস্থাটির বৈশ্বিক সন্ত্রাসসূচক ২০১৮প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘২০১৩ সাল থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে (সারাবিশ্বে) উগ্র-ডানপন্থী দল ও ব্যক্তিরা ১১৩টি সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। এতে মৃত্যু হয়েছে ৬৬ জনের।

প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়, শুধু ২০১৭ সালেই হামলা হয়েছে ৫৯টি। আর সে বছর মারা গেছেন ১৭ জন। ২০১৭ সালে ১২টি হামলা হয়েছে যুক্তরাজ্যে, ছয়টি সুইডেনে এবং গ্রিস ও ফ্রান্সে দুটি করে হামলা চালানো হয়েছে। একই বছরে যুক্তরাষ্ট্রে হামলা হয়েছে ৩০টি। তাতে নিহত হয়েছেন ১৬ জন। সংস্থাটির হিসাবে সেসব হামলার বেশির ভাগই পরিচালিত হয়েছে মুসলিমবিরোধী ভাবাবেগে আক্রান্ত উগ্র-ডানপন্থী শ্বেতাঙ্গদের দিয়ে।

মূলত ধর্মীয় সন্ত্রাসের ঘটনাগুলো যেভাবে প্রচার হয় উগ্র-ডানপন্থীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সেভাবে প্রচার হয় না। এখন সে দিকটিতে নজর দেয়ার সময় এসেছে। কেননা, সব জায়গাতেই উগ্র-ডানপন্থীদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের দুটি মসজিদে জুমার নামাজ পড়ার সময় শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসীদের হামলায় অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ইসলাম যেকোনো ধরনের সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাসবাদ, বর্ণবাদ ও ধর্মান্ধতার বিরোধী। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘কোনো মানুষকে হত্যা করার কিংবা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কাজ (করার শাস্তি বিধান) ছাড়া (অন্য কোনো কারণে) কেউ যদি কাউকে হত্যা করে, সে যেন গোটা মানবজাতিকেই হত্যা করল; (আবার এমনিভাবে) যদি কেউ একজনের প্রাণ রক্ষা করল তবে সে যেন গোটা মানবজাতিকেই বাঁচিয়ে দিলো।’ (সূরা আল মায়িদা-৩২)

বস্তুত, ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসীরা কখনোই বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি নয় বরং সংখ্যালঘু শ্বেতসন্ত্রাসীরাই এখন বিশ্বশান্তির জন্য প্রধান অন্তরায়। অথচ এসব অপরাধী থাকে নেপথ্যে। এরা কোনো ধর্মেরই প্রতিভূ নয় বরং সভ্যতা ও মানবতারই প্রতিপক্ষ।