বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনে যাকাত দেওয়া যাবেনা

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনে যাকাত দেওয়া যাবেনা


বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন নামক চটকদার ১ টাকায় আহারের প্রচারনাকারীরা তাদের প্রতিষ্ঠানে যাকাত দেওয়ার প্রচার করছে।

এই এনজিওটি আসলে দুই হিন্দু ব্যক্তির। একজনের নাম কিশোর কুমার দাস, অন্যজন শিপ্রা দাস। তারা মুসলিম বাচ্চাদের কথা বলে মুসলমানদের কাছ থেকে যাকাত সংগ্রহ করছে।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠাতা কিশোর কুমার দাস আর শিপ্রা দাস নামক দুই ভাই বোন। নিরাভিষভোজি বৈষ্ণব হিন্দু, মন্দিরে মন্দিরে কীর্তনও শুনে নিয়মিত।

তারা মুসলমানের দেওয়া টাকাতেই হিন্দুদের দূর্গা পূজা উপলক্ষে মন্দিরের দর্শণার্থীদের জিলাপি-নিমকি বিতরন করেছে ।

তার পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যানন্দ তাদের পেজে অসাম্প্রদায়িকতার দোহাই দিতে যেয়ে নির্লজ্জভাবে হিন্দুদের পুজায় সাহায্যের পক্ষে সাফাই গায়।

এমনকি হিন্দুদের পুজোয় সাহায্য দেওয়াকে জায়েয করার জন্য মুসলমান নামধারী ২-১ জনের কথাও উল্লেখ করে।

ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান কিশোর কুমার দাশ। ডিসেম্বর ২২,২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠা করে বিদ্যানন্দ ।তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। কিন্তু বেড়ে উঠেছে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার কালুরঘাট খেজুরতলা এলাকায়। বর্তমানে গুগল ক্লাউড ওয়্যার ৩৬০-এর কমার্শিয়াল ডিরেক্টর।

পেরুতে একটি হোটেলও রয়েছে তার। বিদ্যানন্দের সঙ্গে লাইটার ইয়ুথ ফাউন্ডেশন নামের আরেক প্রতিষ্ঠানও এক হয়ে কাজ করছে।
অর্থ আসে কোথা থেকে?
১. দাতাদের অর্থায়ন।
২. স্বেচ্ছায় সহায়তা।
৩. বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের ফেসবুকের মাধ্যমে টাকা আদায় করছে ।

ইতিমধ্যে এতিমখানা বানানোর জন্য কক্সবাজারের রামুতে ১৮ শতক যায়গা পেয়েছে। যদিও বলা হচ্ছে এতিমখানা, কিন্তু বাস্তবে সেটা উপজাতি গোষ্ঠীর অনাথালয়। কিছুদিন আগে একটা ক্যাডেট কলেজ থেকে ২ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা এসেছে। চাটার্ড একাউন্টেন্টদের সংগঠন থেকে দেয়া হয়েছে ৩ লক্ষ টাকা।

অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে ১ টাকায় আহার আর গরিবদের সাহায্যের নাম দিয়ে তারা মুসলমানদের অনুভুতিকে কাজে লাগিয়ে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। শুধু মাত্র নিজের খরছে এসকল দেওয়া কিছুতেই সম্ভব নয়। তার মানে এই অল্প খরচের চমক দেখিয়ে মিডিয়ায় হাইলাইট হয়ে ফান্ড ফুলে ফেঁপে উঠানোই তাদের মুল লক্ষ্য। ইহুদিরা এমন পলিসি করেই নামে বেনামে হাজার হাজার কোটি টাকা মুসলমানদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে।

মুসলমানদের এ সকল ষড়যন্ত্র অনুধাবন করতে হবে।
যতই মুসলিম বাচ্চাদের নাম প্রকাশ করুক অথবা কমিটি করুক, যেহেতু সংগঠনটি দুই হিন্দুর, সুতরাং শরীয়ত অনুযায়ী হিন্দুর তত্ত্বাবধানে যাকাত দিলে কিছুতেই যাকাত আদায় হবে না।

রোজাবস্থায় যেভাবে পুরন পানির চাহিদা

রোজাবস্থায় যেভাবে পুরন পানির চাহিদা

নাস্তিকেরা রোজা রাখা নিয়ে অপপ্রচার করে যে দীর্ঘ সময় নাকি পানি গ্রহন না করার কারনে রোজাদার ব্যক্তির নাকি ক্ষতি হয়! নাউযুবিল্লাহ । ধারনাটা বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল ।

একজন প্রাপ্ত বয়স্ক শরীরে পানি আছে প্রায় ৬০%। উদাহারনস্বরুপ একজন ৭০ কেজি ওজনের ব্যক্তির পানি থাকে ৪২ লিটার , তার মধ্যে ১৪ লিটার Extra cellular Fluid ( ECF ) থাকে ( ১১ লিটার interistitial fluid যা সেল গুলোর ফাকে ফাকে থাকে, আর ৩ লিটার প্লাজমা) ।

রোজা রেখে  শরীরের ফ্লুইড লস কতটুকু হয়? সাধারন অবস্থায় মাত্র- চামড়া: ৩৫০ , ফুসফুস : ৩৫০, ঘাম : ১০০ , মল : ১০০, পেশাব : ১৪০০ মিলি ওয়াটার লস হয় ( গরমে –ঘামে বাড়তে পারে)। যার মধ্যে মেটাবলিজম থেকে ২০০-৩০০ মিলি পাওয়া যাচ্ছে ।

আর রোজা রাখলে কিডনি নিজেই Obligatory Urine Volume 500 ml এ নামিয়ে নিয়ে আসে। তাতে করে শরীরের ফ্লুইড টার্নওভার হয় মাত্র ১০০০ মিলি । আর যদি ঘাম না আসে তাহলে সেই পরিমাপ কমে আসে ৮০০ মিলিতে ।

এই ৮০০ মিলি শরীরের প্লাজমা থেকে বের হয়ে যায় । আর ইন্টারস্টিশিয়াল ফ্লুইড ১১ লিটার থেকে সেই ৮০০ মিলি পানি পূরণ হয়ে যায় । যার ফলে ফ্লুইডের ন্যাচারাল ব্যালেন্স হয়ে যায় ।

আর রোজা রেখে যদি শরীরে পানি কিছু অভাব হয়েই যায় সেটার জন্য - Renal-body fluid feedback mechanism, Renin-angiotensin mechanism, Sympathetic nervous system তো পড়েই আছে , যা  ঘাটতি পূরণ করে নিবে , শুধু বাদ থাকল Thirst mechanism , সেটা তো ইফতারে খেয়েই পুরন হয়ে যাচ্ছে

ফিলিস্তিনের ধ্বংসে আরব শাসকদের ভূমিকা

ফিলিস্তিনের ধ্বংসে আরব শাসকদের ভূমিকা


গাজায় প্রতিবারই ইসরায়েলের হামলার পর এক তামাশা শুরু হয়। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। গাজায় ইসরায়েলের হামলার পরপরই মিসর অসম্ভব রকম দ্রুততায় যুদ্ধবিরতির কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করে। যেন মিসর গাজা বা ফিলিস্তিনের অভিভাবক। শুধু মিসরই না, আরবের অনেক দেশই নিজেদের ফিলিস্তিনের বন্ধু, জনদরদি প্রমাণের জন্য ফিলিস্তিন কার্ড ব্যবহার করে। বরাবরই আরবদেশগুলো যুদ্ধ শুরু করার জন্য হামাসকে দায়ী করে ইসরালেয়কে কাতর অনুরোধ করে যুদ্ধবিরতির জন্য।

কিন্তু নিকট অতীতে মিসরসহ অন্য আরবদেশগুলো ইসরায়েলকে সন্ত্রাসী হামলার জন্য দায়ী করেছে বলে দেখা যায়নি। ইসরায়েল নির্বিচারে ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখল করে বসতি স্থাপন করছে। অবলীলায় শিশু, অন্তঃসত্ত্বাসহ যুবকদের হত্যা করছে। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তারা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ করেনি। ইসরায়েল যদি যুদ্ধাপরাধী না হয়, তবে যুদ্ধাপরাধের সংজ্ঞাই বদলে যাওয়ার কথা।

সমগ্র আরব শাসকদের এতটাই অধঃপতন হয়েছে যে সবাই দল বেঁধে এখন ইসরায়েলকেই অনুরোধ করে ফিলিস্তিনিদের রক্ষার জন্য। মধ্যপ্রাচ্যে এরাই ইসরায়েল ও মার্কিনদের বিশ্বস্ত বন্ধু। ইসরায়েলের এই হত্যাযজ্ঞ, দখলদারির বিরুদ্ধে টুঁ শব্দ করে না। অবশ্য করার কোনো নৈতিক ভিত্তিও তাদের নেই। আরবের বেশির ভাগ শাসকই গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নয়। এদের সবাই কমবেশি ক্ষমতা জবরদখল করে আছে। পশ্চিমারা নিজেদের স্বার্থ বজায় রাখতে এসব ক্ষমতা জবরদখলকারীকে সব সময়ই সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

আরবের আঞ্চলিক রাজনীতিতে প্রকৃতপক্ষে ক্ষমতা জবরদখলকারীদের শাসকদের সঙ্গে ভূমি জবরদখলকারীদের ইসরায়েলের একধরনের আঁতাত রয়েছে। তাই মিসরে আবদেল ফাত্তাহ সিসি ক্ষমতা দখল করেই গাজার রাফা সীমান্ত বন্ধ করে দেয়। এখানে গাজাবাসীর অবরুদ্ধ মানবেতর জীবনের চেয়ে ইসরায়েলের নিরাপত্তা সিসির কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইসরায়েলকে খুশি রাখতে পারলে সিসির ক্ষমতায় থাকা নিয়ে কোনো সংশয় থাকবে না। বাস্তবেও তাই হয়েছে। ইউরোপসহ পশ্চিমারা ইরান বা তুরস্কের নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গণতন্ত্র নিয়ে যতটা উচ্চকিত, মিসরের বেলায় ততটাই বিস্ময়কর রকম নীরব।

ফিলিস্তিনকে মুক্ত করার দায়িত্ব কে নেবে? আছে পশ্চিমাদের প্রতিনিধি লৌহমানবেরা, যাঁদের আচারআচরণে গণতন্ত্রের লেশমাত্র নেই।

এসব লৌহ শাসক নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য ফিলিস্তিনকে বিকিয়ে দিচ্ছে পশ্চিমাদের কাছে। এখানে দুই পক্ষই একে অপরকে ফ্রি রাইড দিয়েছে। আরবের জনসাধারণকে দমিয়ে রাখার জন্য এই ক্ষমতা জবরদখলকারীদের পশ্চিমের সুনজর প্রয়োজন। আবার ইসরায়েলকে টিকিয়ে রাখার জন্য এই অবৈধ শাসকদের পশ্চিমাদের প্রয়োজন।

অন্যথায় জনসাধারণ ফুঁসে উঠলে ইসরায়েল রাষ্ট্রের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে যাবে। উভয়ের উভয়কে প্রয়োজন স্বার্থগত কারণে। এখানে মূল খেলা হচ্ছে আরবের স্বৈরশাসক ও পশ্চিমাদের মধ্যে। মাঝ থেকে ফিলিস্তিনের নিরীহ জনসাধারণ নির্মম একপক্ষীয় যুদ্ধের শিকার হচ্ছে।

অবশ্য দখলদারেরা কখনো শান্তিতে থাকে না। ইসরায়েলও খুব শান্তিতে নেই। যাদের ভূমি কেড়ে নেওয়া হলো, বসতি থেকে উচ্ছেদ করা হলো, তারা বিনা প্রতিবাদে সব মেনে নেবেএটা নির্বোধেরাই ভেবে থাকে। এ জন্যই ফিলিস্তিনিরা জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়ার মহামিছিল অব্যাহত রাখে। পাথর নিয়েই এগিয়ে যায় মাতৃভূমি মুক্ত করতে। বরং ইসরায়েল প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে থাকে।

এখন প্রশ্ন উঠছে, ইসরায়েল রাষ্ট্রের নিরাপত্তাব্যবস্থা কি আর কাজ করছে না? মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে তৈরি আয়রন ডোম ডিফেন্স সিস্টেম কি হামাসের মিসাইল রকেট থেকে ইসরায়েলের নাগরিকদের রক্ষা করতে পারছে না। অন্তত জেরুজালেম পোস্টের মার্চের শেষের দিকে এক সংবাদে এমনটিই বলা হয়েছে। ইসরায়েলের নির্বাচনের ঠিক এক সপ্তাহ আগেই হামাস তেল আবিব, শ্যারন ও এমেক হেফার শহরকে লক্ষ্য করে রকেট নিক্ষেপ করে।

শ্যারন ও এমেকের দখলদার অধিবাসীরা শেষ রাতের ঘুম থেকে তড়িঘড়ি করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়। ওই ঘটনায় ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিয়ে বেশ তোলপাড় হয়ে যায়ে। এমনকি ইসরায়েলের নিরাপত্তা বিভাগের মুখপাত্রকে এ নিয়ে কথা বলতে হয়েছে। ইসরায়েলে নাগরিকদের আশ্বস্ত করতে হয়েছে যে আয়রন ডোম ডিসেন্স সিস্টেমের কোনো হেরফের হয়নি বা ত্রুটিও নেই। কিন্তু এরপরও কি দখলদার ইসরায়েলের নাগরিকেরা স্বস্তি নিয়ে ঘুমাতে পারছে। এ মাসের শুরুতেই হামাস ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরকে লক্ষ্য করে কমপক্ষে ৪০০ মিসাইল রকেট নিক্ষেপ করেছে। এ ঘটনায় ইসরায়েলের ছয়জন নাগরিক নিহত হয়েছে।

এরপরই শুরু হয় ইসরায়েলের গাজাকে গুঁড়িয়ে দেওয়া পালা। গাজাবাসীর শবমিছিল দিন দিন বাড়ছেই। ইসরায়েলের হামলার বড় শিকার হচ্ছে শিশুরা। প্রতিদিনই শিশুদের এপিটাফের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেখানে লেখা থাকছে, বিশ ও একুশ শতকে তথাকথিত মানবতাবাদী, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতন্ত্রপন্থীদের সরাসরি সহায়তায় ও মদদে ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনের নিষ্পাপ শিশুরা এসব সমাধিক্ষেত্রে চিরশয্যা নিয়েছিল।

অথচ কেউই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনেনি। এহুদ বারাক, অ্যারিয়েল শ্যারন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে কোনো ন্যুরেনবার্গ ট্রায়ালের আয়োজন করা হয়নি। আন্তর্জাতিক বিচারালয় এসব ঘটনা একেবারেই না দেখার ভান করে নিশ্চুপ ছিল।

ড. মারুফ মল্লিক, ভিজিটিং রিসার্চ ফেলো, ইনস্টিটিউট অব ওরিয়েন্ট অ্যান্ড এশিয়ান স্টাডিজ, ইউনিভার্সিটি অব বন

পানির যুদ্ধ, ফসলের যুদ্ধ - গত কয়েক দশকে ক্যান্সার সহ দুরারোগ্য ব্যাধি হবার কারণ কি? -১

পানির যুদ্ধ, ফসলের যুদ্ধ - গত কয়েক দশকে ক্যান্সার সহ দুরারোগ্য ব্যাধি হবার কারণ কি? -১


পর্তুগীজদের জাহাজ যখন প্রথম এই সাবকন্টিনেন্টে এসে নোঙ্গর ফেলে তখন জাহাজের সামনে কামান সাজানো ছিল। কিন্তু পোর্টের অনেকেই এই কামান চিনতে পারেনি। কারণ সাধারণ জনগণ তখন কামানকি জিনিস এটা জানতো না। বাংলাদেশেও আমরা অনেকেই বর্তমানে পানি ও ফসলের দখলদারিত্বের বিষয়টা বুঝতে পারছি না। পর্তুগীজ সহ ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি শুরু করেছিল ব্যবসা দিয়ে শেষ করেছিল মসনদে বসে। এদেশে কিছু বহুজাতিক কোম্পানি শুরু করেছে ব্যবসা দিয়ে, শেষ করবে অন্যকিছু দিয়ে।

কয়েকদিন আগে ভারতে কৃষকদের বিরুদ্ধে বহুজাতিক কোম্পানি পেপসিকো কয়েক কোটি টাকার মামলা ঠুকে দেয়। কৃষকদের অপরাধ হল তারা পেপসিকোর পেটেন্ট করা আলু চাষ করেছিল। পরে প্রতিরোধের মুখে তারা এই মামলা তুলে নিতে বাধ্য হয়। http://bit.ly/2PRqBii http://bit.ly/2vM5EvU

এই বিষয়ে বাংলাদেশে এনজিওর একজনের সাথে কথা বললাম। জানতে পারলাম, বাংলাদেশের গ্রামে গঞ্জে সিনজেনটা নামক একটি কোম্পানি এই রকম পেটেন্ট ভিত্তিক বীজ সরবরাহ করছে। যেটা আসলে এক ফসলি বীজ। অর্থাৎ এই বীজ সাধারণ প্রচলিত বীজের মত কয়েকবার ব্যবহার করা যাবে না। মাত্র একবার ব্যবহার করা যাবে। ফলে কৃষকরা বীজ এর ক্ষেত্রে পেটেন্ট ভিত্তিক কোম্পানির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। তখন দাম বৃদ্ধি থেকে শুরু করে কৃষিখাতের নিয়ন্ত্রণ পুরোটাই ঐ সকল কর্পোরেটদের হাতে চলে যাবে।

ভারতের অপরাধ রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী দেশটিতে ১৯৯৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট তিন লাখের বেশি কৃষক আত্মহত্যা করেছে। এই সকল দখলদার কোম্পানিকে বাংলাদেশে একচেটিয়া ব্যবসা করতে দিলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কৃষকরাও আত্মহত্যা করবে, এটা নিশ্চিত। http://bit.ly/2vxu2S4

অনেক সময় ভাল বিষয় ও খারাপ বিষয় বাইরে থেকে দেখতে একই রকম মনে হয়। যেমন, ভাল শরবত ও বিষ মেশানো শরবত দেখতে একই রকম হতে পারে কিন্তু একটা ভাল অন্যটাতে মৃত্যু ঘটতে পারে।

ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম খাটে। বাইরে থেকে দেখলে অনেক ব্যবসা-বিনিয়োগ ভাল মনে হয়, কিন্তু এগুলোর সবটাই আমাদের জন্যে ভাল এমন নয়।

মনসান্টোর একটি কীটনাশক ব্যবহারের কারণে এক ব্যক্তি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে তার আইনজীবী মামলা দায়ের করেছিল। সেই মামলার রায়ে আমেরিকার একটি আদালত প্রতিষ্ঠানটিকে ২৮৯ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করে। এই সকল কোম্পানির পণ্য ব্যবহারের ফলে আমাদের দেশেও ক্যান্সার, টিউমার সহ অন্যান্য ব্যাধির প্রকোপ যে একেবারেই হচ্ছে না তার নিশ্চয়তা কি? অনেকে হয়তো বলবেন যে, ক্যান্সার হয় এটা এখনও প্রমাণিত নয়। তাহলে ২৮৯ মিলিয়ন ডলার জরিমানা হল কেন? শুধু তথ্য গোপন করার জন্য? কি তথ্য? আরও একটু খতিয়ে দেখুন। পরের পর্বে এ বিষয়ে আরও আলোচনা করা হবে। http://bit.ly/2DFiIrm https://reut.rs/2H9H9zy

এই সকল কোম্পানির কীটনাশকগুলো যেহেতু মাটি ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়, এরা মানুষের শরীরে নানা প্রকার রোগ ব্যাধি যেমন ক্যান্সার, নিউরো-লজিক ও হরমোনাল ডিসঅর্ডার, জন্মগত সমস্যা ইত্যাদি সমস্যা তৈরি করতে পারে। এই সকল কোম্পানির কীটনাশকের কারণে খোদ আমেরিকাতেই ৬ থেকে ১২ বছরের শিশুদের মাঝে অতি উচ্চ মাত্রায় ক্লোরপাইরিফস ও মিথাইল প্যারাথিয়ান পাওয়া গেছে যেগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। [মার্চ এগেইন্সট সিনজেনটাঃ মনসান্টো'স সুইস টুইন আনমাস্কড]

শুধু তাই নয়, এইসকল কোম্পানির কীটনাশকগুলি নদী ও সমুদ্রের জন্যেও ক্ষতিকর। ২০০৭ সালে ন্যাশনাল ওশান ও এটমোস্ফেরিক এডমিনিস্ট্রেশন এর গবেষণায় দেখা যায় যে এই কীটনাশকগুলি সামুদ্রিক ফাইটোপ্লাঙ্কটনের জন্যে ক্ষতিকর। আর সামুদ্রিক অনেক প্রাণী ও মাছের খাদ্য এই ফাইটোপ্লাঙ্কটন। মোদ্দা-কথা, সিনজেনটা ও মনসান্টো কোম্পানির ফলে শুধু যে মানুষের ক্ষতি হচ্ছে তাই নয়, সামুদ্রিক জীব বৈচিত্র্যও ক্ষতির সম্মুখীন। [মার্চ এগেইন্সট সিনজেনটাঃ মনসান্টো'স সুইস টুইন আনমাস্কড]

সিনজেনটা কোম্পানিটি মূলত মনসান্টোর মতই সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক আরেকটি সাম্রাজ্যবাদী কোম্পানি। খোদ সুইজারল্যান্ডেই এই কোম্পানির বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়। এই কোম্পানি বিক্রি হয়ে যায় কেমচায়নার কাছে (আমেরিকার মনসান্টোকে কিনে নেয় জার্মান কোম্পানি বেয়ার)। এর পর আমেরিকায় এই সিনজেনটা কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা হয়। সিনজেনটা ১.৫১ বিলিয়ন ডলার প্রদানে রাজি হলে মামলার নিষ্পত্তি হয়। http://bit.ly/2VkzzdT http://bit.ly/2PQIOMY

এই সকল কৃষিখাত দখলদার কোম্পানির বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী বিদ্রোহ হয়েছে। পৃথিবীর প্রায় ৫২ টা দেশের ২ মিলিয়ন মানুষ এদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে। https://archive.is/Za9T8

ক্ষতিকর হবার পরেও কৃষকরা কেন তাদের কাছ থেকে বীজ কেনে? এর একটা কারণ হল সরকারী বীজ অপ্রতুল। অথচ কৃষি-প্রধান বাংলাদেশে সবার আগে কৃষকদের বীজ নিশ্চিত করার দরকার ছিল।

অনেকেই গোল্ডেন রাইসের পক্ষে আবার কেউ বিপক্ষে। কিন্তু সবচাইতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ নিজের স্বাস্থ্য ও দেশের কৃষকের পক্ষে যেটা যাবে সেটা।

যারা গোল্ডেন রাইসের পক্ষে কথা বলে তাদের অনেকেই বিটি বেগুনের পক্ষে ছিল। কিন্তু বিটি বেগুনের বাস্তবতা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াল?

বিটি বেগুন চাষের জন্যে যাদের ২০১৪-১৫ সাল থেকে সম্পৃক্ত করা হয়েছিল তাদের মধ্যে মাত্র ১৩ জন পরের বছর (২০১৫-১৬) তে চারা নিয়েছিলেন, ৫ জন ২০১৬-১৭ তে নিয়েছিলেন এবং মাত্র ৩ জন ২০১৭-১৮ তে নিয়েছেন। ক্রমে কৃষক আগ্রহ হারিয়েছেন। সব মিলিয়ে ৭৩% কৃষক আর বিটি বেগুন চাষ করার কোন আগ্রহ প্রকাশ করেন নি।” [নয়া কৃষি আন্দোলন]

বাংলাদেশের জন্যে বেগুন ও আলুতে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিঙয়ের ফলে কোন অর্থনৈতিক লাভ নেই। এই দুটি সবজিকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং করার ফলে আন্তর্জাতিক বাজার বাড়বে না বরং সংকুচিত হয়ে যাবার সম্ভাবনাই বেশী, কারণ বাংলাদেশের মতো দেশ থেকে যারা সবজি আমদানি করে তারা জিএমও নয় এমন খাদ্যের জন্যেই কেনে।” [উপরোক্ত]

এএফপি-এর খবরে বলা হয়েছে যে ২৮টি ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন-ভুক্ত দেশের মধ্যে ১৯টি দেশ তাদের দেশে জিএমও ফসল উৎপাদন করবে না বলে ২০১৫ সালের অক্টোবরের ৩ তারিখে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে অস্ট্রিয়া, নেদারন্যাল্ড, পোল্যান্ড, ইতালী, হাঙ্গেরি, গ্রীস, বুলগেরিয়া সহ ১৯টি দেশ রয়েছে। ডেনমার্ক, লুক্সেমবার্গ, স্লোাভেনিয়া ও মাল্টা পরে আবেদন করেছে যে তারাও জিএমও ফসল উৎপাদন থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। বেলজিয়ামও তার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এদিকে বৃটেনে ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডও নিষেধাজ্ঞা জারী করছে।” [উপরোক্ত] https://uk.news.yahoo.com/most-eu-nations-seek-bar-gm-crops…

ব্রাজিলে জিএমও ফসলে ব্যবহার করা এগ্রোকেমিকেলের ৫০টি উপাদানের মধ্যে ২২টি অন্যান্য দেশে নিষিদ্ধ রয়েছে। তারা বলছে এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।” [উপরোক্ত] http://news.agropages.com/News/NewsDetail---14870.htm

আমাদের দেশের প্রচুর শাক সবজি রয়েছে যা ভিটামিন এ সমৃদ্ধ, বিশেষ করে হলুদ রংয়ের সবজি ও ফল যেমন মিষ্টি কুমড়া, গাজর, পাকা পেঁপে, বাঙ্গী, কাঁঠাল, আম, কলা। অনেক ধরণের শাক যেমন কাঁটানটে, সজনে-পাতা, কলমি, পুঁইশাকসহ আবাদি ও অনাবাদী শাক রয়েছে। চালের মধ্যে ভিটামিন এ আলাদা করে ঢোকাবার দরকার নেই, ... ” [উপরোক্ত]

এদিকে আর্পাড পুস্টেই পরীক্ষাগারে ইঁদুরের দেহে জিএমও আলু প্রয়োগ করে দেখে যে এতে খারাপ ফল পাওয়া যাচ্ছে। এই খবর প্রকাশিত হলে কোন এক বিচিত্র কারণে তার সংস্থা স্কটল্যান্ডের রোয়েট ইন্সটিটিউট তাকে সাসপেন্ড করে এবং তাঁর সেই ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এই কুকর্মে মিডিয়া হাত মেলায়। কিন্তু এটা জানতে পেরে ইউরোপ ও আমেরিকার ২১ জন বিজ্ঞানী ১৯৯৯ সালে তাঁর সমর্থনে এগিয়ে আসেন। http://bit.ly/2GZE2bQ

আর বাংলাদেশে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার হাজারো কৃষক সিনজেনটার হাইব্রিড টমেটো বীজ কিনে নিঃস্ব, প্রতারিত ও রক্তাক্ত হয়েছিল। https://archive.is/8676l

দেশের কৃষিখাত যদি এই রকম গুটিকয় বহুজাতিক কোম্পানির হাতে চলে যায় তাহলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও কৃষকরা আত্মহত্যা করা শুরু করবে, এটা নিশ্চিত। পরিশেষে একটা কথাই বলতে চাই, আমরা ঢালাও ভাবে জেনেটিক্যালি মডিফাইড ফুডের বিপক্ষে নই। আমাদের দেখতে হবে কোনটা আমাদের জন্য ক্ষতিকর। কোনটা আমাদের দেশের জন্য এবং দেশের কৃষকের জন্য ক্ষতিকর। ঐ সকল পণ্য ও কোম্পানি আমাদের বর্জন করতে হবে। নীতিমালা এমনভাবে করতে হবে যেন দেশের ও দেশের মানুষের ক্ষতি না হয়।

গরু কুরবানী নিষিদ্ধ করেছিলো রবিন্দ্র

গরু কুরবানী নিষিদ্ধ করেছিলো রবিন্দ্র

সন্ত্রাসী শিবাজি যখন সম্পদ সংগ্রহ করতো তখন ভারতীয় দস্যু ও লুটেরার মতো নির্মম ও পৈশাচিক রূপ ধারণ করতো। কিন্তু ব্রাহ্মণদের প্রচুর পারিতোষিক প্রদানের ফলে এক গরু রক্ষা করার দরুন এই দস্যুই শেষ পর্যন্ত দেবতা হয়ে গেল।

গো-ব্রাহ্মণ প্রতিপালকশিবাজি একটি গরুর জন্য কয়েকশত মুসলমানকে হত্যা করতো। মুসলমানদের জন্য ত্রাস ছিল এই শিবাজি। অবিভক্ত বাংলায় মুসলমান নিধনের জন্য শিবাজি উৎসব প্রবর্তিত হয়।

রবীন্দ্র ঠগ এই মারাঠী সন্ত্রাসী শিবাজি বন্দনায় মেতে উঠেছিল। শুধু তাই নয়, ‘গো-ব্রাহ্মণ প্রতিপালকশিবাজির প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রমাণের উদ্দেশ্যে রবি ঠগের জমিদারীতে গরু কুরবানী নিষিদ্ধ করেছিলো।

একটি ভারতীয় দৈনিকের ২৮ মে ১৯৯০ সংখ্যায় প্রকাশিত উপসম্পাদকীয় উদ্ধৃতি: কিন্তু শিলাইদহ জমিদারী এলাকায় যেখানে প্রায় সকল রায়তই ছিলেন মুসলমান, সেখানে গরু কুরবানী নিষিদ্ধ করা কিংবা একতরফাভাবে খাজনা বাড়িয়ে মুসলিম প্রজাদের প্রতিরোধের মুখে আদায় করতে ব্যর্থ হয়ে তাদের শায়েস্তা করার জন্য তাদের গ্রামে হিন্দু (নমশূদ্র) প্রজাপত্তন করার ঘটনা নিশ্চয়ই কোনো উদার অসাম্প্রদায়িকতার প্রমাণ বহন করে না।

বাংলা একাডেমীর ত্রৈমাসিক উত্তরাধিকারপত্রিকায় (বৈশাখ-আষাঢ় ১৩৯৩) প্রকাশিত রবিন্দ্রোত্তর তৃতীয় প্রজন্মে রবীন্দ্র মূল্যায়ননামে একটি প্রবন্ধে বামপন্থী ডক্টর আহমদ শরীফ দালিলিক প্রমাণসহ এইরূপ আরো অনেক ঘটনার বিবরণ দিয়েছে। (তথ্য সূত্র: ওবায়দুল হক সরকার, মাসিক সফর, ঈদুল আজহা সংখ্যা, ১৯৯৪)

রবীন্দ্র ঠগ গরু কুরবানী নিষিদ্ধ করেছিল অথচ দেবী কাত্যায়নীর পূজা উপলক্ষে পনের দিনব্যাপী লাঠি খেলা ও যাত্রাভিনয়ের ব্যবস্থা করেছিল। এই পূজার ব্যয়ভার হিন্দু মুসলমান সব প্রজাকে বহন করতে হতো। পনের দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে যে বাড়তি খরচ হতো, সে জন্য সে একতরফাভাবে খাজনা বাড়িয়ে দিয়েছিল। ( ইতিহাসের নিরিখে রবিন্দ্র নজরুল চরিত , সরকার সাহাবুদ্দিন আহমদ , পৃ ৩০৩ )

রবীন্দ্র ঠগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে মুসলিমবিদ্বেষ ও হিন্দু সাম্প্রদায়িক শক্তিকে চাঙ্গা করার জন্য অনেক গল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস, কবিতা রচনা করেছে। রবীন্দ্র ঠগের লেখনি তার সমকালীন হিন্দুদেরকে চরম মুসলিমবিদ্বেষী হতে উৎসাহিত করেছিল।

সাম্প্রদায়িক রবিন্দ্র ঠগ কতৃক মুসলমানদের অন্যতম ইবাদত গরু কুরবানীকে নিষিদ্ধ করার পরেও মুসলমান এই মালউনের নাম উচ্চারন ,লিখনী পড়ে কি করে ?

যে রবীন্দ্র ঠগ তার জমীদারিতে মুসলমানদের গরু কুরবানী নিষিদ্ধ করেছিলো , সে রবীন্দ্র ঠগকে মুসলিম এই দেশে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হোক ।