ঢাবিতে রবীন্দ্রকে সংবর্ধনা দেওয়ার কি কারণ ?


উগ্র হিন্দুত্ববাদের অনুসারী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার বিরোধীতাকারী কাট্টা মুসলিমবিদ্বেষি রবীন্দ্র যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধীতা করেছিল তা রবীন্দ্র পুজারী, কথিত চুষিল এবং ইসলামবিদ্বেষীরা গায়ের জোরে মানতে চায়না। তারা অন্যত্ম যুক্তি দেখায় যে ' যদি রবিন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধীতাই করত তাহলে সে বিশ্ববিদ্যালয়েই সংবর্ধিত এবং সম্মানসুচক ডিগ্রী পায় কি করে ?"

এই অজ্ঞতাসুচক প্রশ্নের উত্তরে যাওয়ার আগে আমরা  জানি রবিন্দ্র কেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার বিরোধীতা করেছিল ?
১) " হিন্দু নেতারা সারা বাংলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিবাদে ব্যাপক সভা-সমাবেশের আয়োজন করে। ১৯১২ সালের ২৮ মার্চ কলিকাতা গড়ের মাঠে কবি রবীন্দ্রর সভাপতিত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিবাদে এক বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়। এখানে বলা প্রয়োজন যে, রবীন্দ্রর মত ব্যক্তিত্বও সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধীতা করেছিল। কারণ হিসেবে বলা যেতে পারে যে, রবীন্দ্রনাথ তখন ছিল হিন্দু সমাজ তথা হিন্দু মনমানসিকতা ও হিন্দু চিন্তা-চেতনা ও হিন্দু ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ একজন হিন্দু-স্বভাব কবি। তাই সেও সেদিন ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণাকে সহজভাবে মেনে নিয়ে সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতার উর্ধে অবস্থান গ্রহণ করতে পারেনি। তদুপরি রবীন্দ্রসহ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন পরিচালকমন্ডলীর অনেকেই ছিল হিন্দু জমিদার যারা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থ সাহায্য করেছিল এবং যাদের জমিদারীর ক্ষেত্র পূর্ববাংলায় প্রসারিত ছিল, তারা মনে করেছিল যে পূর্ববাংলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্ব কমে যাবে এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দুদের যে প্রভাব ও প্রতিপত্তি তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকবে না। "(সুত্রঃ মেজর জেনারেল এম এ মতিন লিখিত " আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ধারাবাহিকতা এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা" পৃ -২০) 

২) ১৯১২ সালের ২৮ মার্চ কলকাতার গড়ের মাঠে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে হিন্দুরা প্রতিবাদ সভা ডাকে। প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ। কারণ সে ছিল জমিদার। সে মুসলমান প্রজাদের মনে করত গৃহপালিত পশু। (নীরদ চন্দ্র চৌধুরী, দি অটোবায়োগ্রাফী অব আননোন ইন্ডিয়া)

তাহলে প্রশ্ন জাগে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিল রবীন্দ্র সে বিশ্ববিদ্যালয়ে সে সংবর্ধনা এবং সম্মানসুচক ডিগ্রী দেওয়ার কি কারণ ?

"এখানে বলা প্রয়োজন যে, মুসলমানদের দাবির প্রেক্ষিতে এ দেশের মুসলমানদের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলেও, প্রতিষ্ঠার পর বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্বে মুসলমানরা নিয়োজিত ছিল না, হিন্দুদেরই প্রাধান্য ছিল সর্বক্ষেত্রে। যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন মক্কা বিশ্ববিদ্যালয় বলে ব্যঙ্গ করতে কুণ্ঠাবোধ করেনি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার কাজে যোগ দেয়ার জন্য কিন্তু তাদের মাঝে কোন প্রকার সংকোচ বা কার্পণ্য মোটেই দেখা যায়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর জনৈক ইংরেজ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর পদে অধিষ্ঠিত হয় এবং বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে হিন্দু পন্ডিতগণ পরিচালকের আসনে সমাসীন হয়। তারা তাদের রুচি ও মন-মানসিকতা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রশাসন কার্য পরিচালনা করতে থাকে। ফলে দেখা যায়, যে রবীন্দ্রনাথ ঢাকা  বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধীতা করেছিল, ঢাকার বুকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত ( হওয়ার মাত্র পাঁচ বছর পর সে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণেই সে বিপুলভাবে সংবর্ধিত হয় এবং তার দশ বছর পর সে সেখান থেকেই সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রীপ্রাপ্ত হয়"।
(সুত্রঃ মেজর জেনারেল এম এ মতিন লিখিত " আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ধারাবাহিকতা এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা" পৃ -২২)  

তার মানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধীতাকারী রবীন্দ্রকে মুসলমান সংবর্ধনা কিংবা ডিগ্রী দেয়নি। বর্নহিন্দুরাই তাকে ঢেকে এনে এহেন অপকর্ম করে তার দোষকে ঢাকার অপচেষ্টা করেছে। রবীন্দ্রপুজারীরা যতই এর মাধ্যমে তার মুসলিমবিদ্বেষীতাকে ঢাকার অপচেষ্টা করুক না কেন সত্য প্রকাশিত হবেই।
আর প্রকাশিত সত্য হলো রবিন্দ্র ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাট্টা বিরোধীতাকারী।

আফসোস আজ সেই বর্নহিন্দুদের উত্তরসুরীরা একই কায়দায় রবিন্দ্রের অপকর্মকে ঢেকে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার লেখা পড়াচ্ছে  , তার জন্য অনুষ্ঠান করছে। যা কিছুতেই মানা যায়না।

অবিলম্বে কাট্টা মুসলিমবিদ্বেষী, উগ্র হিন্দু , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার বিরোধীতকারী রবিন্দ্রের সকল লেখনী এবং অনুষ্ঠান নিষীদ্ধ ঘোষনা করা হোক।   


শেয়ার করুন

লেখকঃ

পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট