মসজিদ ভাঙ্গা এবং মানহানী করা ও করার সহযোগীতা করা কাট্টা কুফরী ও হারাম এবং জাহান্নামী হওয়ার কারণ।


সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারী প্রতিষ্ঠানের নির্দেশে রাস্তা নির্মাণের দোহাই দিয়ে, সৌন্দর্য বর্ধনের কথা বলে ইত্যাদি বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে মসজিদ ভাঙ্গা হচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ!
শরীয়তের ফতওয়া হচ্ছে মসজিদসমূহ সার্বিকভাবে হিফাজত করা ও হিফাযত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা ফরয। এর বিপরীত মসজিদ ভাঙ্গা এবং মানহানী করা ও করার সহযোগীতা করা কাট্টা কুফরী ও হারাম এবং জাহান্নামী হওয়ার কারণ।

ক) মসজিদের গুরুত্বঃ
১) আর নিশ্চয়ই সমস্ত মসজিদসমূহ আল্লাহ পাক উনার জন্য। সুবহানাল্লাহ! (সূরা জিন শরীফ : ১৮)
২) হাদীছ শরীফ এর মধ্যে ইরশাদ হয়েছে,“হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, মসজিদ সমূহ হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত ও পবিত্র ঘর ।সুবহানাল্লাহ! (শুয়াবুল ঈমান শরীফ ৪/৩৮০, জামিউল আহাদীছ লিস সুয়ূত্বী ২২/১৫৪, কানজুল উম্মাল ৭/৫৭৯)

খ) মসজিদ ভাংগা যাবেনাঃ
১) হাদীছ শরীফ এর মধ্যে আরো ইরশাদ হয়েছে, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, কতগুলো অভ্যাস বা কাজ রয়েছে সেগুলো মসজিদ উনাদের মধ্যে করা জায়িয নেই। যেমন-মসজিদ (ভেঙ্গে) রাস্তা বানানো জায়েয নেই। বরং উত্তমভাবে তাযীম-তাকরীমের সাথে সংরক্ষণ করার আদেশ করা হয়েছে।” (সুনানে ইবনে মাজাহ শরীফ, আল জামিউছ ছগীর ১/৩৬৬, আল ফাতহুল কাবীর ২/৮২, জামিউল আহাদীছ ১২/২৭৫)
২) হাদীছ শরীফ এর মধ্যে আরো ইরশাদ হয়েছে, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মসজিদকে রাস্তা বানাতে (মসজিদ ভেঙ্গে রাস্তা নির্মাণ করতে) নিষেধ করেছেন। বরং উত্তমভাবে তাযীম-তাকরীমের সাথে সংরক্ষণ করার আদেশ করেছেন।সুবহানাল্লাহ! (শরহু সুনানি ইবনে মাজাহ ১/১২৫০, যাখীরতুল হুফ্ফায ২/৮৮৬)

গ) মসজিদ ভাংগা কিয়ামতের আলামতঃ
১) হাদীছ শরীফইরশাদ হয়েছে, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ  করেন, ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না মসজিদকে (ভেঙ্গে) রাস্তা হিসেবে গ্রহণ করা হবে।অর্থাৎ মসজিদ  উত্তমভাবে তাযীম-তাকরীমের সাথে সংরক্ষণ না করে ভেঙ্গে রাস্তা নির্মাণ করা ক্বিয়ামতের আলামত বা লক্ষণ। নাঊযুবিল্লাহ! (মুস্তাদরকে হাকিম ৪/৪৪৬, মারিফাতুস সুনান ওয়াল আছার লিল বাইহাক্বী ৩/১৬৩)

২) হাদীছ শরীফ মধ্যে আরো ইরশাদ হয়েছে,“ হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, ক্বিয়ামতের আলামত বা লক্ষণসমূহের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মসজিদকে (ভেঙ্গে) রাস্তা বানানো।নাঊযুবিল্লাহ! (আল বাদরুল মুনীর ৯/৫১১)
উপরোক্ত কুরআন শরীফ হাদীছ শরীফ উনাদের থেকে দিবালোকের ন্যায় অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, মসজিদ  মহান আল্লাহ পাক উনার ঘর মুবারক। মসজিদ ভেঙ্গে রাস্তা নির্মাণ করা জায়িয নেই।

ঘ) মসজিদ ভাঙ্গলে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবেঃ
যারা মসজিদ  ভাঙবে,  ভাঙ্গার কাজে  সাহায্য-সহযোগিতা করবে এবং সমর্থন করবে তারা হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক এর শত্রুতারাই সবচেয়ে বড় কাট্টা কাফির, সবচেয়ে বড় কাট্টা মুশরিক, সবচেয়ে বড় কাট্টা যালিম এবং চির মালঊন ও চির জাহান্নামী

এদের প্রসঙ্গেই যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন-ওই ব্যক্তির চেয়ে বড় যালিম আর কে? যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার মসজিদসমূহে উনার যিকির করতে, উনার নাম উচ্চারণ করতে বাধা দেয় এবং সেগুলোকে উজাড় করতে চেষ্টা করে। তাদের জন্য ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় অর্থাৎ খালিছ তওবা-ইস্তিগফার করা ব্যতীত মসজিদসমূহে প্রবেশ করা জায়িয নেই। তাদের জন্য রয়েছে ইহকালে লাঞ্ছনা এবং পরকালে কঠিন শাস্তি।সুবহানাল্লাহ! (সূরা বাক্বারা শরীফ : ১১৪)
এর ব্যাখ্যায় বিশ্বখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ তাফসীরে বায়যাভী শরীফ মধ্যে উল্লেখ রয়েছে, তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়ার যমীনে লাঞ্ছনা। (অর্থাৎ) কতল (হত্যা, মৃত্যুদন্ড), বন্দিত্ব (জেল-হাজত) অথবা জিযিয়া কর প্রদানের লাঞ্ছনা। আর পরকালে তাদের জন্য রয়েছে তাদের কুফরী ও যুলুমের কারণে কঠিন আযাব বা শাস্তি কারণ তারা মসজিদসমূহকে হাক্বীক্বীভাবে তাযীম-তাকরীমের সাথে সংরক্ষণ করেনি।” (তাফসীরে বায়যাভী শরীফ ১/১০১)

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস শরীফ  ফতওয়া  অনুযায়ী- যারা মসজিদ ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগীতা করবে এবং সমর্থন করবে  নিঃসন্দেহে তারা সবচেয়ে বড় কাট্টা কাফির, চির মালঊন ও চির জাহান্নামী হবে। তাদের প্রত্যেককেই অবশ্যই অবশ্যই গ্রেফতার করে জেল-হাজতে প্রবেশ করাতে হবে। অতঃপর তওবা করার জন্য তিন দিন সময় দিতে হবে। যদি তারা তওবা করে ভালো; অন্যথায় তাদের প্রত্যেককেই মৃত্যুদন্ড দিতে হবে।



শেয়ার করুন

লেখকঃ

পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট