ভারতে অশ্লীল সরস্বতী পূজা না হলে মুসলিম দেশে কেন ?


"ধর্ম যার যার উৎসব সবার" এই মূলনীতিকে সামনে রেখে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও অনেক স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঘটা করে পালিত হতে যাচ্ছে সরস্বতী পূজা।
বরাবরের মত এবার ও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা হয়েছে কথিত এই সার্বজনীন উৎসবের !!!
..........................................
একটু আসুন দেখি সরস্বতী পুজো কোত্থেকে আসল ?

সরস্বতী পূজা হিন্দুদের  বিদ্যা ও সঙ্গীতের কথিত দেবী । সরস্বতীর আরাধনাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠেয় একটি অন্যতম প্রধান হিন্দু উৎসব। শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী পূজা আয়োজিত হয়।

সরস্বতী বৈদিক দেবী হলেও সরস্বতী পূজা বর্তমান রূপটি আধুনিক কালে প্রচলিত হয়েছে। তবে প্রাচীন কালে তান্ত্রিক সাধকেরা সরস্বতী-সদৃশ দেবী বাগেশ্বরীর পূজা করত বলে জানা যায়।

ঊনবিংশ শতাব্দীতে পাঠশালায় প্রতি মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে ধোয়া চৌকির উপর তালপাতার তাড়ি ও দোয়াতকলম রেখে পূজা করার প্রথা ছিল।আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পূজার প্রচলন হয় বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে। ( সুত্রঃ যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধি, পূজা-পার্বণ, (পরিচ্ছেদ: "সরস্বতীর প্রতিমা"), বিশ্বভারতী গ্রন্থনবিভাগ, কলকাতা, ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ, পৃ. ৩৮

যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধি, পূজা-পার্বণ, (অধ্যায়: "শ্রীশ্রীসরস্বতী-পূজা"), বিশ্বভারতী গ্রন্থনবিভাগ, কলকাতা, ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ, পৃ. ৩৩)

উল্লেখ্য, হিন্দুরা কথিত স্বরসতীকে বিদ্যার দেবী হিসেবে প্রচার চালালেও তাদের পুরাণ অনুযায়ী কথিত স্বরসতীর অবস্থান পুরোটাই যৌনতা নির্ভর। হিন্দুদের ধর্মীয়গ্রন্থগুলো ঘাটলে দেখা যায়, সরস্বতির পিতা তার সাথে লিভ টুগেদার করতো। এছাড়া চিরকুমারী (!) সরস্বতীকে স্বর্গের দেবতারা কখনও স্ত্রী, কখনও সেবাদাসী, কখনও গণিকা, আবার কখনও অসুরদের রূপে ভুলিয়ে কাত করবার জন্য ব্যবহার করেছে"।

উপরের আলোচনা দ্বারা এটা স্পষ্ট, সরস্বতী পূজা কিশোর-কিশোরী হিন্দুদের অনৈতিকতা সূচনামাত্র। হ্যাঁ ! সেটা হিন্দুরা পালন করে থাকে, সেটা তাদের ব্যাপার, কিন্তু বাংলাদেশের মত মুসলমান দেশে যেখানে জনসংখ্যার প্রায় সবাই মুসলমান, সেখানে কিভাবে এ অনৈতিক বিষয়টি স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশ্যে হতে পারে?

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ পূজা হলে, মুসলমান ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে তার প্রভাব পড়বে এবং তারাও ছোট বয়স থেকে সেই অনৈতিকতায় জড়িয়ে পড়বে। হিন্দুদের পূজা করতে ইচ্ছা হয় মন্দিরে করুক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেন?
এখানে ভুলে গেলে চলবে না, এসব অনৈতিকতার চর্চা করায় ভারত আজ সারা বিশ্বে ধর্ষণের দেশে রূপান্তর হয়েছে। আজ বাংলাদেশ ও সে পথেই এগুচ্ছে !

উল্লেখ্য, ব্রিটিশ আমলে বাঙালী মুসলমানরা স্বরসতী পূজার এ খারাপ প্রভাবগুলো ধরতে পেরেছিলো। যার কারণে ব্রিটিশ আমলে মুসলমানদের স্বাধীকার আন্দোলনের একটি বড় ধাপ ছিলো পূর্ববঙ্গের স্কুলগুলোতে স্বরসতী পূজা পালন বন্ধ করা। (সূত্র: বই: বাঙলা ভাগ হলো: হিন্দু সাম্প্রদায়িকতা ও দেশবিভাগ’, লেখক: জয়া চ্যাটার্জি)।

অথচ বর্তমানে বাংলাদেশের মুসলমানরা তাদের পূর্বপুরুষদের ইতিহাস ভুলে আবার সেই স্বরসতী পূজাকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রবেশ করাচ্ছে।

তাই বাংলাদেশের সকল স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনই হিন্দুদের স্বরসতী পূজা নিষিদ্ধ করা হোক।
উল্লেখ্য ভারত একটি হিন্দু প্রধান রাষ্ট্র, তারপরও হিন্দুরাই তাদের স্কুলগুলোতে স্বরসতী পূজা পছন্দ করছে না। হিন্দুরাই স্কুলগুলোতে স্বরসতী পূজা উদযাপন বন্ধ করতে চাইছে।

ভারতের মত হিন্দু রাষ্ট্রেই যদি স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটিগুলোতে খোদ হিন্দুরাই স্বরসতী পূজা উদযাপনের বিরোধীতা করতে পারে, তবে বাংলাদেশের মত মুসলিম প্রধান রাষ্ট্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মুসলমানদের স্বরসতী পূজা উদযাপন নিষিদ্ধ করতে বাধা কোধায় ?


শেয়ার করুন

লেখকঃ

পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট