মুসলিম বিয়েতে হিন্দুয়ানী আগ্রাসন


হিন্দুয়ানী রীতির বিয়ে কি অবৈধ নয় ?ইসলামে বিয়ের সহি দিক নির্দেশনা দেওয়া আছে।
বিবাহ-শাদী মানব জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যা মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদেরকে বিশেষ নেআমত হিসাবে দান করেছেন বাহ্যিক দৃষ্টিতে বিবাহ-শাদী দুনিয়াবী কাজ বা মুবাহ মনে হলেও যথা নিয়মে সুন্নাত তরীকায় যদি তা সম্পাদন করা হয় তাহলে সেটা বরকতপূর্ণ ইবাদত ও অনেকে সওয়াবের কাজ হয় 

এর মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার দাম্পত্য জীবন সুখময় হয় কিন্তু বর্তমান সমাজে বিবাহ-শাদী সুন্নত তরীকায় তো হয়ই না উপরন্তু এটা বিভিন্ন ধরনের কুপ্রথা এবং বড় বড় অনেক গুনাহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ফলে পারিবারিক জীবনে অশান্তির ঝড় বয়ে চলছে

পরিবারের উভয় পক্ষ এবং ছেলেমেয়ের সম্মতিক্রমেই বিয়ের আয়োজন হয়ে থাকে।

বিয়ের নির্দিষ্ট দিনে বরপক্ষ বরকে প্রস্তুত করে কনের বাড়িতে গিয়ে হাজির হন।
তারপর ছেলের সম্মতি নেওয়া হয় , খুতবা পড়া হয় , মোহরানা ঠিক হয় , দোয়া মুনাজাত হয়ে খাওয়া -দাওয়া করে কনে নিয়ে বরের বাড়িতে আসেন ।
এসব এর প্রত্যকে ধাপে শরিয়তসম্মত পদ্ধতি অনুসরন করা হয় ।

কিন্তু বর্তমানে যে সকল বিয়ে হচ্ছে সে সকল বিয়েতে ইসলামের দিকনির্দেশনা মতে, শরিয়তসম্মত পদ্ধতি অনুসরন করা হচ্ছে কি ?
বর্তমানে যদি বিয়ের পদ্ধতির দিকে তাকাই তাহলে দেখা যায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পদে পদে শরিয়তকে অবজ্ঞা করা হচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ ।

যেমন -
১.মেয়ে দেখার সময় ছেলে দেখার কথা থাকলেও বেগানা পুরুষ ও দেখে ,ছেলের ক্ষেত্রেও একই
২. বিয়ের পুর্বে গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে ষ্টেজ সাজিয়ে নাচ-গান করা , ছবি তোলা , ভিডিও করা হয় । ছেলেমেয়ে একাকার হয়ে যায়। এক্ষেত্রে ভারতীয় হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি পুর্নরুপে অনুসরন করা হয় ।
৩. বিয়ের দিন মেয়ের কবুল বলার ( যদিও শর্ত নয়) সময় বেগানা পুরুষ যেয়ে মেয়ের কবুল শুনতে যায়
৪. বিয়ের পরে ছেলেমেয়েকে যখন একসাথ করা হয় তখন হিন্দুয়ানী পদ্ধতিতে ছেলে মেয়েকে আয়নায় দেখানো হয় কাপড়ে ঢেকে।
৫.ওলীমার দিন ছেলে মেয়েকে ষ্টেজে ঊঠিয়ে নাচানো হয় , ভিডিও করা হয় ।
.বিয়ে উৎসবে অথবা অন্য যেকোনো উৎসবে পটকা-আতশবাজি ফুটান, অতিরিক্ত আলোকসজ্জা করা, রংবাজী করা বা রঙ দেয়ার ছড়াছড়ি
৭. বাঁশের কুলায় চন্দন, মেহদি, হলুদ, কিছু ধান-দুর্বা ঘাস কিছু কলা, সিঁদুর ও মাটির চাটি নেয়া হয়। মাটির চাটিতে তেল নিয়ে আগুন জ্বালানো হয়। স্ত্রী ও বরের কপালে তিনবার হলুদ লাগায় এমনকি মূর্তিপূজার ন্যায় কুলাতে রাখা আগুন জ্বালানো চাটি বর-কনের মুখের সামনে ধরা হয় ও আগুনের ধোঁয়া ও কুলা হেলিয়ে-দুলিয়ে বাতাস দেয়া হয়।
৭. বরের আত্মীয়রা কনেকে কোলে তুলে বাসর ঘর পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া অথবা বরের কোলে করে মুরুব্বীদের সামনে স্ত্রীর বাসরঘরে গমনের নীতি একটি বেহায়াপনা, নিরলজ্জতার কাজ।
৮. বরের ভাবী ও অন্য যুবতী মেয়েরা বরকে সমস্ত শরীরে হলুদ মাখিয়ে গোসল করিয়ে দেয়া নির্লজ্জ কাজ
৯. বর ও কনেকে হলুদ বা গোসল করতে নিয়ে যাওয়ার সময় মাথার ওপর বড় চাদর এর চার কোনা চার জনের ধরা হিন্দুয়ানী প্রথা।

আজ মুসলিম বিয়েতে ভারতীয় অপসংস্কৃতি প্রবেশ করেছে ।
ভারতীয় টিভি চ্যানেলে যে রীতিতে বিয়ে হয় আজ মুসলমান সে রীতিতেই বিয়ে করতে উচ্ছাস প্রকাশ করে !!! নাউযুবিল্লাহ
এসকল বিয়ে কবুল হচ্ছে কি ?
যদি হয়েই থাকে -
তাহলে বর্তমানের বিয়ের পর এত পারিবারিক অশান্তি কেন ?
কেন এত পরকীয়া ?
কেন এত সংসার ভাংগন ?
কেন আজকালের ছেলেমেয়েরা পিতামাতার এত অবাধ্য ?

তার মানে যারা হিন্দুয়ানী রীতিতে বিয়ে করছেন তাদের বিয়ে কবুল হচ্ছেনা।
যার কারনে বিয়েতে রহমত না পড়ে লানত নাযিল হয় - নাউযুবিল্লাহ।
হিন্দুয়ানী রীতিতে বিয়ে বর্জন করুন , শরিয়তমতে বিয়ে করুন।


শেয়ার করুন

লেখকঃ

পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট