সুন্নতি জীবনেই আছে একমাত্র কল্যান।


একমাত্র ইসলামী জীবন তথা সুন্নতি সংসার ই আপনাকে যথাযথ পরিচালনা করতে শিখাবে। সুন্নতি জীবনেই আছে একমাত্র কল্যান। আর অবশ্যই আপনাকে জীবন সঙ্গীনি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা থেকে বেঁচে থাকতে হবে। দশটি বিষয়ে লক্ষ্য না রাখলে নিজ ঘরে শান্তি পাবে না। নিজের স্ত্রীর জন্য আপনি এ বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখবেন।

প্রথম বিষয় হলো: 
কখনই সুন্নতের বাইরে স্ত্রীর কাছে কিছু আসা করবে না। সব সময় সুন্নতকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিয়ে মেনে চলবে। স্ত্রীকেও সুন্নত অনুযায়ী চলার গুরুত্ব বুঝাবে। সুন্নতের মধ্যেই প্রকৃত সুখী সংসার।

দ্বিতীয় বিষয় হলো :
স্ত্রীরা প্রেম ও ভালোবাসাপূর্ণ আচরণ পছন্দ করে এবং তারা চায়  ভালোবাসার সুস্পষ্ট উচ্চারণ শুনতে চায়। অতএব আপনার স্ত্রীর সাথে এ ব্যাপারে কার্পণ্য দেখাবেন না। এ ব্যাপারে যদি কার্পণ্য করেন, তবে আপনি তার ও নিজের মধ্যে নির্দয়তার দেয়াল টেনে দিলেন। স্বামী-স্ত্রীর নির্মল ভালোবাসার ব্যকরণে ভুল করলেন।

তৃতীয় বিষয় হলো :
স্ত্রীরা কঠোর ও অনড় স্বভাবের পুরুষদের অপছন্দ করে, আর দুর্বল ও কোমল চিত্তধারী পুরুষদের ব্যবহার করে। অতএব প্রতিটি গুণকে স্বস্থানে রাখবেন। কারণ এটি ভালোবাসা ডেকে আনে এবং প্রশান্তি  ত্বরান্বিত করে।

চতুর্থ বিষয় হলো :
মেয়েরা স্বামীর কাছে তা-ই প্রত্যাশা করে স্বামীরা স্ত্রীর কাছে যা প্রত্যাশা করে।  যেমন : ভদ্রোচিত কথা, সুন্দর চেহারা, পরিচ্ছন্ন বসন ও সুগন্ধি। অতএব আপনার প্রতিটি অবস্থায় এসবের প্রতি লক্ষ্য রাখবেন। স্ত্রীকে নিজের মতো করে কাছে পেতে তার কাছে এমন অবস্থায় ঘেঁষবেন না যখন আপনার শরীর ঘামে জবজবে। আপনার কাপড় ময়লা। কারণ, আপনি তা করলেন যদিও সে  আনুগত্য দেখাবে; কিন্তু তার অন্তরে আপনি এক ধরনের বিতৃষ্ণা তৈরি করে দিলেন। ফলে তার শরীর আপনার ডাকে সাড়া দেবে। তবে অন্তর তার পালিয়ে বেড়াবে আপনার থেকে।

পঞ্চম বিষয় হলো :
ঘর হলো নারীদের রাজত্ব। ঘরের মধ্যে তারা নিজেকে নিজের আসনে সমাসীন ভাবে। নিজেকে সেখানকার নেতা মনে করে। অতএব তার সাজানো এই প্রশান্তির রাজ্যটিকে তছনছ করতে যাবেন না। এ আসন থেকে তাকে নামাবার চেষ্টাও করবেন না।  যদি তা-ই করেন, তবে তাকে যেন তার রাজত্ব থেকে উচ্ছেদ করলেন। আর কোনো রাজার জন্য তার চেয়ে বড় শত্রু আর কেউ হতে পারে না যে কি-না তার রাজত্ব নিয়ে টানাটানি করে। যদিও সে প্রকাশ্যে হয়তো কিছু বলবে না। কিন্তু এতে করে পারস্পরিক বিশ্বাস ও ভালোবাসার পরিবেশ দূষিত হবে।

ষষ্ঠ বিষয় হলো :
নারী যেমন চায় তার স্বামীকে পেতে; তেমনি তার পরিবারকেও সে হারাতে চায় না। অতএব আপনি কিন্তু তার পরিবারের সঙ্গে নিজেকে এক পাল্লায় মাপতে যাবেন না। যদি এমন চান যে সে হয়তো আপনার হবে; নয়তো পরিবারের। তবে সে যদিও আপনাকেই অগ্রাধিকার দেবেন। কিন্তু মনে মনে ঠিকই বিষণ্ন হবেন।

সপ্তম বিষয় হলো :
কোনো ভুল করলে তার ওপর এমন হামলা চালাবেননা যাতে কোনো সহমর্মিতা বা সদয়তা নেই। নমনীয় আচরণ করুন

অষ্টম বিষয় হলো :
যদি যুগযুগ ধরে তাদের কারো প্রতি সহৃদয়তা ও সদাচার দেখান তারপর শুধু একটিবার তার সঙ্গে মন্দ ব্যবহার করেন তবে সে বলবে, তোমার কাছে আমি জীবনে ভালো কিছুই পেলাম না। অতএব তাদের এ বৈশিষ্ট্য যেন আপনায় তাকে অপছন্দ বা ঘৃণায় প্ররোচিত না করে। কারণ, আপনার কাছে তার এ বৈশিষ্ট্যটি খারাপ লাগলেও অনেক গুণ দেখবেন তার ভালো লাগার মতো।

নবম বিষয় হলো :
নানাবিধ শারীরিক দুর্বলতা ও মানসিক ক্লান্তির মাঝ দিয়ে নারী জীবন বয়ে চলে। এ দিকে লক্ষ্য রেখেই আল্লাহ পাক তিনি তাদের জন্য কিছু ফরয পর্যন্ত ক্ষমা করে দিয়েছেন যা এ সময় কর্তব্য ছিল। যেমন রক্তস্রাব  ও সন্তান প্রসবকালে তার জন্য পুরোপুরিভাবে সালাত মাফ করে দিয়েছেন। এ সময়দুটোয় রোজা পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। যতক্ষণ না তার শরীরিক সুস্থতা ফিরে আসে এবং তার মেজাজ স্বাভাবিক হয়ে যায়। অতএব এ সময়গুলোয় আপনি আল্লাহ পাক ও ইবাদতমুখী হয়ে যাবেন। কারণ, তার জন্য আল্লাহ পাক যেমন ফরযকে হালকা করে দিয়েছেন তেমনি তার থেকে আপনার চাহিদা ও নির্দেশও হালকা করে দিয়েছেন।

দশম বিষয় হলো :
মনে রাখবেন স্ত্রী কিন্তু আপনার কাছে একজন বন্দিনীর মতো। অতএব তার বন্দিত্বের প্রতি সদয় থাকবেন এবং তার দুর্বলতাগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। তাহলে সে হবে আপনার জন্য সর্বোত্তম সম্পদ। আপনার সর্বোত্কৃষ্ট সঙ্গী হবে। আল্লাহ পাক আপনার কল্যাণ করুন।

মেয়ে 

প্রথমটি হলো:  কখনই সুন্নতের বাইরে স্বামীর কাছে কিছু আসা করবেন না। সব সময় সুন্নতকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিয়ে মেনে চলবেন। স্বমীকেও সুন্নত অনুযায়ী চলার গুরুত্ব বুঝাবে। সুন্নতের মধ্যেই প্রকৃত সুখী সংসার। আজীবন মনে রাখবেন।

 দ্বিতীয়টি হলো :

স্বামীর সঙ্গে থাকবে অল্পে তুষ্টির সঙ্গে। এবং জীবনযাপন করবে আনুগত্য ও মান্যতার ভেতর দিয়ে।

তৃতীয় হলো:

স্বামীর নজরে পড়ার জায়গাগুলো দেখাশোনা করবে।তার দুই চোখ যেন তোমার কুৎসিত কিছুর প্রতি পতিত না হয়। সুপ্রসিদ্ধ সুন্দরের সর্বোত্তম হলো চোখের সুরমা।

চতুর্থটি হলো :  তোমার স্বামী  উনার নাকে লাগার স্থানগুলো খুঁজে ফিরবে।  আর সুবাস ছাড়া তোমার কাছে যেন কোনো গন্ধ না পায়।  আর পবিত্র সুবাসগুলোর আদি ও সেরা হলো সাবান ও পানি।

পঞ্চমটি হলো:

  স্বামীকে খাওয়াবার সুযোগ তালাশ করবে। কারণ ক্ষুধার তাপ মানুষকে তাতিয়ে দেয়।

 ষষ্ঠটি হলো :

তোমার স্বামীর নিদ্রার সময় নিরব থাকবে। কেননা ঘুম থেকে কেঁপে ওঠা তাকে ক্ষেপিয়ে দেয়।

সপ্তম ও অষ্টম হলো :

স্বামীর বাসা ও সম্পদের যত্ন নেবে। এবং উনার ও উনার পরিবারের প্রতি লক্ষ্য রাখবে। পরিপাটি যেন থাকে সবকিছু।

নবম ও দশম হলো :

স্বামীর কোনো নির্দেশ অমান্য করবে না। এবং তার কোনো দোষ খুঁজে বের করবে না। কারণ, তুমি তার নির্দেশের অবাধ্য হলে অর্থ তার মনটাকে চটিয়ে দিলে। যদি তার কোনো দোষ প্রকাশ করলে তো তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করায় অনিরাপদ হয়ে গেলে। বরং স্বামীর খারাপ কিছু দেখলে সুবিধা সময়ে বুঝিয়ে বলবে। রাগারাগি করবে না।

এরপর আরও মনে রাখবে, উনার বিষণ্নতার সময় আনন্দ প্রকাশ করবে না। আবার উনার আনন্দের সময় বিষণ্নতা প্রকাশ করবে না। কারণ প্রথমটি তার কাছে অবহেলা মনে হবে এবং দ্বিতীয়টি তাকে বিরক্ত করবে। তাকে সবচে মর্যাদা তুমি তখনই দেবে যখন উনাকে সবচে বেশি সম্মান করবে।


আর এ অবস্থায় তুমি ততোখন পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না, যতখন না তোমার পছন্দ বা অপছন্দের বিষয়ে তোমার  স্বামীর সন্তুষ্টিকে তোমার সন্তুষ্টির ওপর এবং উনার চাওয়াকে তোমার চাওয়ার ওপর অগ্রাধিকার না দাও। অবশেষে দুয়া করি, আল্লাহ পাক তোমার সার্বিক কল্যাণ করুন। তোমাদের দাম্পত্য জীবনকে সুখময় করুন। আমীন।


শেয়ার করুন

লেখকঃ

পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট