গোলান হাইটস ইসরাইলের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে বাশার আল আসাদ পরিবার


ইসরাইল গোলান হাইটস বা গোলান মালভূমি সিরিয়ার কাছ থেকে দখল করেছিল ৫২ বছর আগে ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে। বলতে গেলে সম্পূর্ণ গোলান। সামান্য কিছু অংশ দখল করা বাকি ছিল। এবার এই অংশও জবর দখল হয়ে যাচ্ছে।

এত দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও পাশের সিরিয়া ও জর্ডানসহ আরব দেশগুলো কোনোভাবেই গোলান ফিরিয়ে আনতে পারেনি, বরং গত ২৫ মার্চ ২০১৯ আনুষ্ঠানিকভাবে দখলকৃত গোলান মালভূমিকে ইসরাইলি ভূখণ্ডের স্বীকৃতি দিয়েছে খোদ যুক্তরাষ্ট্র।

এদিন সংশ্লিষ্ট ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিরিয়া কি এখন এই ভূমি উদ্ধার করার বা ইসরাইলকে বাধা দেয়ার কোনো ক্ষমতা রাখে? রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বলছে এর সরকার সিরিয়া এক ব্যর্থ রাষ্ট্র। অন্যের সহায়তা নিয়েই এখনো টিকে আছে।

সিরিয়া এক বিরান ভূমি এখন। জনে-বলে-সম্পদে-ইসলামী ঐতিহ্যে পরিপূর্ণ এই দেশ বর্তমানে ধ্বংসের কিনারায় দাঁড়িয়ে। গত সপ্তাহে ইসরাইল সিরিয়ার শিল্পাঞ্চলে অনেক বোমা ফেলেছে; ইরানি সেনাছাউনি ও অস্ত্রের ডিপোতেও বোমা হামলা চালিয়েছে। উদ্দেশ্য সিরিয়াকে বলবীর্যহীন অক্ষম করে তোলা।

দক্ষিণ পশ্চিম সিরিয়ার একটি পাথুরে মালভূমি হচ্ছে গোলান। মাত্র ৪০ মাইল দূরে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক। দক্ষিণ সিরিয়া দেশটির সেনাবাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার জন্য এটা একটি আদর্শ জায়গা। গোলান মালভূমি থেকে পানি প্রবাহিত হয় জর্ডান নদীতে যা ইসরাইলের পানি সংগ্রহের বড় উৎস।

জায়গাটি উর্বর; এখানে নানা ধরনের ফল এবং বিশেষত আঙুরের চাষ হয়। পশুপালনও করা হয়ে থাকে। ১৯৭৩ সালের যুদ্ধে সিরিয়া এটি পুনর্দখল করার চেষ্টা করেও পারেনি। ১৯৮১ সালে ইসরাইল গোলানকে নিজের অংশ করে সিরিয়ান দ্রুজ সম্প্রদায়ের প্রায় ২০ হাজার লোককে বসতি করে দেয়। মরু অঞ্চলে বাঁচার জন্য পানি ও তেল দরকার। গোলান হাইটস এই দুটিতে ভরপুর।

অক্টোবর, ১৯৭৩ সালের যুদ্ধে গোলান হাইটে সিরিয়া আরব আর্মিদখলদার ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে একটি বুলেটও ব্যবহার করেনি। গোলান হাইটের উঁচু স্থানে ইসরাইলি পতাকা উড়ানো হলেও সিরিয়া সরকার কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।

সিরিয়ার জনসাধারণ যেন কোনো বিক্ষোভ মিছিল করে ইসরাইলি বাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে না পড়ে সে জন্য সিরিয়ার সরকারি বাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণ করছিল! ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে গোলান মালভূমির পতন দুঃখগাথায় ভরা।

আসলে গোলান হাইটস ইসরাইলের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়েছিল। ড. মাহমুদ জামে এই দাবি করেছেন। তিনি মিসরীয় সাবেক প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতের বন্ধু। তিনি আরো দাবি করেন, ইসরাইল হাফিজ আল আসাদ ও তার ভাই রিফাতকে ১০০ মিলিয়ন ডলারের চেক দিয়েছিল। ওই চেক সুইচ ব্যাংকে জমা করা হয়েছিল। ইসরাইল দাবি করে যে, গোলান হাইটস ইহুদিদের প্রমিজড ল্যান্ডের অংশ। তাই গোলান হাইটস থেকে সরে যাওয়া বা ১৯৬৭ সালের আগের সীমায় ফেরত যাওয়ার কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ইসরাইল মানতে পারে না।

এখানে আরো একটি বিষয় জড়িত- হাফিজ আল আসাদ ১৯৭১ সালে ক্যু-এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নুরুদ্দিন আল আত্তাসীকে ক্ষমতাচ্যুত করে প্রেসিডেন্ট হয়েছিল। ক্ষমতার জন্যও ইসরাইল তখন সহায়তা দিয়েছিল। গোলানের বদলে বিত্ত ও ক্ষমতা লাভ করাই ছিল হাফিজের উদ্দেশ্য।তারই ছেলে বাশার আল আসাদ

এক ব্যক্তির নিরঙ্কুশ ক্ষমতার জন্য লাখ লাখ মানুষ আত্মাহুতি দিচ্ছে, হাতছাড়া হচ্ছে গোলান। ওবামা আমল থেকেই বলা হচ্ছিল জানোয়ার আসাদকে ক্ষমতা থেকে চলে যেতে হবে। এই সে দিনও নিক্কি হ্যালি (জাতিসঙ্ঘে সাবেক মার্কিন দূত) বলেছে, ‘যেকোনো মূল্যে আসাদকে যেতে হবে।

আমেরিকানরা কেন এই আরাধ্য কাজ সমাধা না করেই বিদায় নিচ্ছে? এটাও কি গোলানের বিনিময়ে ক্ষমতায় থাকা নয়? মিডিয়া তথ্য ফাঁস করেছে, বাশার আল আসাদের ক্ষমতায় থাকার বিনিময়ে ইসরাইল গোলান দখল করবে, ট্রাম্প গোলানের ওপর ইসরাইলের সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করবে।

জনাব নাজি মোস্তফা, ‘ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্টের মুখপাত্রগত মার্চ মাসের শেষে সপ্তাহে তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সিকে জানান যে, বাশার আল আসাদ গোলান হাইটস ফেরত পাওয়ার জন্য কোনো প্রচেষ্টা চালায়নি।


শেয়ার করুন

লেখকঃ

পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট