ইসলামের কথা বলতে সরকার বাঁধা দেওয়ার কে ?


ওয়াজ-মাহফিলের বক্তাদের বয়ানের বিভিন্ন বিষয় আমলে নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। হয়। এতে মাহফিলের ১৫ বক্তার নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এই বক্তারা সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মবিদ্বেষ, নারীবিদ্বেষ, জঙ্গিবাদ, গণতন্ত্রবিরোধী ও দেশীয় সংস্কৃতিবিরোধী বয়ান দেন। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবে ছয়টি সুপারিশও করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নাউযুবিল্লাহ

সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মবিদ্বেষ, নারীবিদ্বেষ, জঙ্গিবাদ, গণতন্ত্রবিরোধী ও দেশীয় সংস্কৃতিবিরোধী বলে তারা আসলে কি বুঝাতে চায় ?
একজন মুসলমান তার দ্বীন ইসলামে যা আছে তাই বলবে এটাই স্বাভাবিক। কারণ তা আল্লাহ পাক এবং হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আদেশ মুবারক।
কোরআন -হাদিসের আলোকে কথা বলতে যেয়ে যদি কারো কিংবা কোন বিষয়ের বিরুদ্ধে যায় তা-ই বলা ইসলামের আদেশ।
ক) কালামুল্লাহ শরীফ আল্লাহ পাক কি বলেছেন ?
১) আল্লাহ পাক বলেন, ‘কথায় তার চেয়ে উত্তম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর পথে ডাকে, সত্কাজ করে এবং ঘোষণা করে আমি আত্মসমর্পণকারী মুসলমান।’ (সূরা হা-মীম সাজদাহ, ৪১:৩৩)।
২) হে নবী! প্রজ্ঞা ও উপদেশের মাধ্যমে আপনার রবের পথে মানুষকে ডাকুন। (সূরা নাহল, ১৬:১২৫)।
৩) "আর তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল থাকা উচিত, যারা সৎকাজের প্রতি আহ্বান করবে, নির্দেশ করবে ভাল কাজের এবং বারণ করবে অন্যায় কাজ থেকে। আর তারাই হল সফলকাম। (সূরা আলে ইমরান:১০৪)
৪)  ‘‘তোমরা পূণ্য ও তাকওয়ার কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা কর এবং গুনাহ ও সীমালঙ্ঘণের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো না।”[  সূরা আল মায়িদাহ:২।]
৫) -‘‘তিনি (হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সৎকাজের আদেশ করেন এবং অসৎকাজ হতে নিষেধ করেন। মানবজাতির জন্য সকল উত্তম ও পবিত্র জিনিসগুলো বৈধ করেন এবং খারাপ বিষয়গুলো হারাম করেন।’’[ সূরা আল আরাফ: ১৫৭]
খ) হাদীস শরিফে কি বলা আছে?
১) হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:  ‘‘তোমাদের মধ্যে যে কেউ একটি অসৎকাজ (হতে) দেখবে, সে যেন তাকে তার হাত দ্বারা প্রতিহত করে। তবে যদি সে ঐরূপ করতে অক্ষম হয়, তাহলে কথা দ্বারা যেন তাকে প্রতিহত করে, যদি এরপরও করতে অক্ষম হয়, তাহলে যেন অন্তর দিয়ে তাকে ঘৃণা করে। আর সেটা হবে সবচাইতে দুর্বল ঈমান।’’ (বুখারী)
২) আবু সায়ীদ আল খুদরী রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যালেম শাসকের সামনে ইনসাফের কথা বলা উত্তম জিহাদ। (বর্ণনায়: আবু দাউদ ও তিরমিজী,)
৩) হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: সেই সত্ত্বার কসম, যার হাতে আমার জীবন, তোমরা অবশ্যই সৎ কাজের আদেশ করবে আর মন্দ কাজ থেকে বারণ করবে। যদি না কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদের উপর শাস্তি পাঠাবেন। অত:পর তোমরা তাকে ডাকবে আর তোমাদের ডাকের সাড়া দেয়া হবে না। (বর্ণনায়: তিরমিজী  
উপরের কোরআন - হাদীসের বর্ননা অনুযায়ী মুসলমান অবশ্যই সৎ কাজ অর্থাৎ হালালের পক্ষে এবং অসৎ কাজ ( হারামের ) বিপক্ষে বলবেন। কার বিরুদ্ধে যায় , না যায় তা দেখার বিষয় নয়।
আলেমরা যদি কোরআন হাদিসের বিধানের কথা বলে আর তা সরকার কিংবা কারো কিংবা কোন হারাম কাজের বিরুদ্ধে যায় তাতে বক্তার অপরাধ কোথায়?
বেপর্দা, বৈশাখ, মঙ্গল শোভাযাত্রা, ছবি টাঙানো, ভাস্কর্য তৈরি, ঘুষ, সুদ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, অন্যায়ভাবে গুম ও খুন করা, নাস্তিকতা ও কাদিয়ানীবাদ ইসলামের বিধানমতে হারাম। সমস্থ হারামের বিরুদ্ধে বলা আলেমদের জন্য ফরজ। আইন দিয়ে কেউ এসব রোধ করতে পারেনা।  

ওয়াজ মাহফিল ও বক্তাদের নিয়ন্ত্রণের সরকারি চেষ্টা দেশের সংবিধান, মুসলিম মেজরিটির ধর্মীয় চেতনা এবং মূল্যবোধবিরোধী।
ইসলামের প্রচারার্থে ওয়াজ মাহফিলে বাধা প্রদান বা শরিয়তসম্মত কোনো বক্তব্যকে হেয় করা বা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা প্রকারান্তরে ইসলামেরই বিরোধিতা করার শামিল। এটা সরাসরি ইসলামের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। যা এই দেশের মুসলমান কিছুতেই মেনে নিবেন না ।  


শেয়ার করুন

লেখকঃ

পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট