হিজরী সন বাদ দিতেই পহেলা বৈশাখ তথা ফসলী সন চালু করা হয়


১৩১৮ ফসলি সনে লেখক আনন্দনাথ তার বারভূঁইয়াগ্রন্থে লিখেছে- আকবর বাদশাহর রাজত্বকালে মুশরিক-বিধর্মী সম্প্রদায় বাদশাহের কাছে জ্ঞাপন করে, আমাদের ধর্মকর্ম সম্পর্কীয় অনুষ্ঠানে হিজরী সন ব্যবহার করতে ইচ্ছা করি না। আপনি আমাদের জন্য পৃথক সন নির্দিষ্ট করে দিন। আকবর মুশরিক-বিধর্মী প্রজার মনোরঞ্জনার্থে হিজরি সন থেকে দশ-এগার বছর কমিয়ে এলাহি সন নামে একটি সনের প্রচলন করেন। যা আমাদের বঙ্গদেশের সন বলে চলে আসছে।

আকবরের সময়কাল থেকেই পহেলা বৈশাখ উদযাপন শুরু হয়। তখন প্রত্যেককে চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে সব খাজনা, মাশুল ও শুল্ক পরিশোধ করতে হতো।

আধুনিক নববর্ষ উদযাপনের খবর প্রথম পাওয়া যায় ১৯১৭ সালে। প্রথম মহাযুদ্ধে ব্রিটিশদের বিজয় কামনা করে সে বছর পহেলা বৈশাখে হোমকীর্ত্তন ও পূজার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর ১৯৩৮ সালেও অনুরূপ কর্মকা-ের উল্লেখ পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে ১৯৬৭ সনের আগে ঘটা করে পহেলা বৈশাখ পালনের রীতি তেমন একটা জনপ্রিয় হয়নি।

আকবরের কাছে যেসব মূর্তি পূজারীরা হিজরী সন বাতিলের আবেদন করেছিল, তারা বাঙালি ছিল না। কারণ আকবরের রাজধানী ছিল দিল্লীতে। অর্থাৎ আনন্দনাথের রায়ের বক্তব্যানুযায়ী মুশরিক-বিধর্মী প্রজাদের মনোরঞ্জনার্থেদিল্লীর মুঘল রাজদরবারে যে ফসলী সন তথা পহেলা বৈশাখ চালু হয়েছিল, তা পালন করলো বড়জোর মুশরিক-বিধর্মী হওয়া যেতে পারে, বাঙালি নয়।

একটু চিন্তা করুন পাঠক, আকবর বাদশাহ বললো আর হিন্দুরা সেটা তাদের ধর্মের অঙ্গ বানিয়ে নিলো।
হোমকীর্ত্তন ও পূজা করে, সর্বপ্রথম ঘটা করে ১৯১৭ সালে (অর্থাৎ মাত্র ১০০ বছর হয়েছে) পহেলা বৈশাখ পালন করা হয়েছিল। তা করা হয়েছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশদের বিজয় কামনা করে, যেহেতু হিন্দুরা ছিল ব্রিটিশদের খাছ গোলাম। অর্থাৎ ঘটা করে পহেলা বৈশাখ পালন করলে বড়জোর ব্রিটিশদের গোলাম হওয়া যেতে পারে, বাঙালি নয়।

১৯১৭ সালের পর লম্বা বিরতি দিয়ে ১৯৬৭ সালে ফের বটতলার পহেলা বৈশাখ পালন শুরু হয়। মূল উদ্দেশ্য পাকিস্তান আমলে এদেশের মুসলমান বাঙালীদেরকে মুশরিক-বিধর্মী বানানো। নাউযুবিল্লাহ!

সুতরাং সামান্য শিক্ষা ও আক্বল-সমঝ যদি থেকে থাকে বলে কেউ দাবি করে, তাহলে সে আবহমান বাংলার সংস্কৃতির দাবিতে বিভ্রান্ত হয়ে এই পহেলা বৈশাখ পালন করবে না। ইতিহাস অনুযায়ী পহেলা বৈশাখ কোনোপ্রকার আবহমান সংস্কৃতি নয়, বরং দ্বীন ইসলাম উনার বিরোধিতা করার জন্য কৃত্রিমভাবে তৈরিকৃত বানোয়াট সংস্কৃতি। ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, যুগে যুগে এই পহেলা বৈশাখ বারবার গজিয়ে উঠেছে বটতলাকে ঘিরেই।


শেয়ার করুন

লেখকঃ

পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট