বাল্য বিয়ে নিরোধ আইনেই বলা আছে ১৮ এর নীচে বিয়ে করা যাবে


১৭ বছরের কিশোরীকে বিয়ে করলেন দিনাজপুর - ৬ আসনের এমপি সাদিক ।http://archive.is/54Kiw  বিয়ে তিনি করতেই পারেন এবং ১৭ বছরের কিশোরীকে বিয়ে করাও স্বাভাবিক।
কারন ইসলাম বিয়ের কোন বয়স নির্ধারন করে দেয়নি।

সমস্যা হল - একই সময়ে খবর এসেছে একদিনে ৭ বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছেন সিরাজগঞ্জের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান। (https://bit.ly/2WUr21s)। যদিও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান নিজেই বিয়ে করেছেন ১৫ বছরের মেয়েকে।

আনিসুর রহমান যাদের বিয়ে বন্ধ করেছে সে সকল পরিবার অনেক সময় একান্ত বাধ্য হয়ে বিয়ে দেয়। কারন মেয়েকে ভরনপোষন করার সাধ্য তার নেই। তার মানে তারা আর্থিকভাবে সচ্ছল নয়। আবার অনেকে ছেলে মেয়ের চরিত্র ঠিক রাখার স্বার্থেও বিয়ে দেন।

প্রশ্ন হল - সে সকল দরিদ্র পরিবারের বিয়ে দৌড়ায়ে গিয়ে বন্ধ করে ছেলে-মেয়ে উভয়পক্ষের আর্থিক, সামাজিক এবং মানষিক ক্ষতি করতে পারলে ধণী পরিবারের সন্তান এমপি এর বিয়ে বন্ধ করলোনা কেন ?
আইন কি একেকজনের জন্য একেক রকম ?

তাহলে জানার বিষয় এমপি সাদিক কি ১৮ বছরের নীচে ১৭ বছরের মেয়েকে বিয়ে করে আইন ভংগ করেছেন ?
আইন কি বলে ?
বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭'র ধারা-১৯ মূলত একটি বিশেষ বিধান৷ এতে বলা হয়েছে, ‘‘এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বিধি দ্বারা নির্ধারিত কোনো বিশেষ প্রেক্ষাপটে অপ্রাপ্ত বয়স্কের সর্বোত্তম স্বার্থে, আদালতের নির্দেশ এবং পিতা-মাতা বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতিক্রমে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণক্রমে, বিবাহ সম্পাদিত হইলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে না৷ 'http://archive.is/q4LuT

তার মানে আইন অনুসারে ১৪,১৫,১৬,১৭ বছরেও বিয়ে করা যাবে । কেউ বাঁধা দিতে পারবেনা ? যেমন পারেনি এমপি সাদিকের ক্ষেত্রে।
আবার বাংলাদেশে সম্মতির বয়স ( age of consent) ১৪ বছর বয়স। সম্মতির বয়স হল, সর্বনিম্ন বয়স যা কোনও ব্যক্তিকে আইনীভাবে যৌন কার্যকলাপে অংশগ্রহণের জন্য যথেষ্ট বয়সী বলে মনে করা হয়। http://archive.is/u6g1j
বিভিন্ন দেশের Age of consent বিভিন্ন রকম। জানতে দেখুন - http://archive.is/jISBR

তাহলে ১৪ বছর বয়সে যদি যৌন কার্যকলাপে অংশগ্রহণের জন্য যথেষ্ট বয়সী বলে মনে করা হয়, তাহলে ১৬ বছর বয়সে বিয়েতে কেন বাঁধা ?
তার মানে বিশেষ বিধান এবং age of consent মতেই তো অভিভাবক ও অন্যান্যরা বিয়ের আয়োজন করেছে।

তাহলে কোন আইনে অন্যান্য বিয়ে বন্ধ করা হয়েছে ?
বাল্য বিয়ে জোরপুর্বক বন্ধ করে ম্যাজিস্ট্রেট , ইউ এন ও তারা কি আইন ভংগ করছেনা ?
এদের কেন আইন ভংগের দায়ে শাস্তি দেওয়া হচ্ছেনা ?

মূলত যারা বিশেষ বিধানে বাল্য বিয়ে করার অনুমোদন থাকার পরেও  আইন অমান্য করে বিয়ে বন্ধ করছে তারা সিআইএ, কাফির - মুশরিকদের খাছ দালাল।

তাদের লক্ষ্য খাছ সুন্নত বাল্য বিয়ের বিরোধীতা করে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইহানত করা , মুসলিম দেশের জনসংখ্যা কমানো এবং পাপাচার বৃদ্ধি করা।নাউযুবিল্লাহ
এসকল কুলাঙ্গার ম্যাজিষ্ট্রেট, ইউ এন ও সুস্থ্য জীবন যাপন করার স্বার্থে বাল্য বিয়ে বন্ধ করলেও , বাল্য পতিতাবৃত্তিকে বন্ধ করছেনা।

যারা আইনে থাকার পরেও বাল্য বিয়ে বন্ধ করতে যায় তাদের প্রতিরোধ করুন।


শেয়ার করুন

লেখকঃ

পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট