প্রধানমন্ত্রীর বর্ননায় শেখ সাহেবের বাল্য বিয়ে


ছেলের বয়স ২১ ও মেয়ের বয়স ১৮ বছরের কম হলে প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী তা বাল্যবিবাহ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে। বিবাহকারী, বিয়ে পরিচালনাকারী ও অভিভাবককে এই শাস্তি দেয়া হবে।
অথচ যে প্রধানমন্ত্রী বাল্য বিয়ে নিরোধ আইন করেছেন ,তার পিতা-মাতা বাল্য বিয়ে করেছিলেন।  

শেখ সাহেবের ৯৫ তম জন্মদিন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর স্বরচিত, “শেখ মুজিব আমার পিতাশীর্ষক নিবন্ধ যা বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে পত্রস্থ হয়েছে, তাতে উল্লেখ করেছেন, “আব্বার (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) যখন দশ বছর বয়স তখন তার বিয়ে হয়। আমার মায়ের বয়স ছিল মাত্র তিন বছর। আমার মা পিতৃহারা হবার পর তার দাদা এই বিয়ে দিয়ে সমস্ত সম্পত্তি মা ও খালার নামে লিখে দেন। আমার খালা মায়ের থেকে তিন বছরের বড়ো। আত্মীয়ের মধ্যেই দুই বোনকে বিয়ে দেন এবং আমার দাদাকে গার্জিয়ান (মুরুব্বি) করে দেন। আমার মার যখন ছয়-সাত বছর বয়স তখন তার মা মারা যান এবং তখন আমার দাদি কোলে তুলে নেন আমার মাকে। আর সেই থেকে একই সঙ্গে সব ছেলেমেয়ের সঙ্গে মানুষ হন।

শেখ মুজিবুর রহমান তার অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে লিখেছেন : একটা ঘটনা লেখা দরকার, নিশ্চয় অনেকে আশ্চর্য হবেন। আমার যখন বিবাহ হয়, তখন আমার বয়স বারো তেরো বছর হতে পারে( প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ১০ বছর) । রেণুর বাবা মারা যাবার পরে ওর দাদা আমার আব্বাকে ডেকে বললেন, তোমার বড় ছেলের সাথে আমার এক নাতনীর বিবাহ দিতে হবে। কারণ, আমি সমস্ত সম্পত্তি ওদের দুই বোনকে লিখে দিয়ে যাব। রেণুর দাদা আমার আব্বার চাচা। মুরব্বির হুকুম মানার জন্যই রেণুর সাথে আমার বিবাহ রেজিস্ট্রি করে ফেলা হল। আমি শুনলাম, আমার বিবাহ হয়েছে। তখন কিছুই বুঝতাম না, রেণুর বয়স তখন বোধহয় তিন বছর হবে। রেণুর যখন পাঁচ বছর, তখন তার মা মারা যান। (অসমাপ্ত আত্মজীবনী। পৃষ্ঠা ৭-৮, দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড, ঢাকা ২০১২)।
তার মানে বাল্য বিয়ের সুফলেই তিনি আজকের প্রধানমন্ত্রী হতে পেরেছেন।

কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ অনুযায়ী ছেলে ও মেয়েকে বিয়ে করার ও বিয়ে দেয়ার জন্য কোনো বয়স নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়নি। অর্থাৎ ৫, ১০, ১৫ ইত্যাদি বছরের কমে অথবা ৪০, ৬০, ৮০ ইত্যাদি বছরের চেয়ে বেশি বয়সে বিয়ে করা যাবে বা যাবে না- এমন কোনো শর্ত-শারায়িত ইসলামী শরীয়ত মধ্যে বর্ণনা করা হয়নি।

কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ ফতওয়া মুতাবিক বাল্যবিবাহ খাছ সুন্নত । সুবহানাল্লাহ!
তাহলে  কি করে মুসলমানদের দেশে ব্রিটিশ খ্রিস্টানদের দ্বারা প্রণীত বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন জারি থাকতে পারে? নাউযুবিল্লাহ! যা খ্রিস্টানদের দেশেও জারি নেই।

এদেশের ৯৫ ভাগ মুসলমানদের একথা কেউ বলে না যে, বাল্যবিবাহ খাছ সুন্নতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। কোনো ওয়াজে, কোনো জুমুয়ার বয়ানে বাল্যবিবাহের ফাযায়িল-ফযীলত বর্ণনা করে না।

কুচক্রী ইহুদী খ্রিস্টানরা খাছ সুন্নত বাল্যবিবাহকে ইহানত করার লক্ষ্যে যে সমস্ত খোঁড়া যুক্তি বা কারণ দেখায় তা সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা, বানোয়াট এবং অগ্রহণযোগ্য।

ইসলামী শরীয়ত ফতওয়া মুতাবিক বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে বলা, বাল্যবিবাহকে কটাক্ষ করা এবং বাল্যবিবাহ রোধে আইন করা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।
তাই অবিলম্বে এ কুফরী আইন বাতিল করতে হবে।


শেয়ার করুন

লেখকঃ

পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট