প্রসঙ্গ রথযাত্রাঃ বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার উৎসব এ দেশে অছাম্প্রদায়িকতার হাতিয়ার!


গত কয়েকবছর ধরেই লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, এদেশে হিন্দুরা পূজার চেয়েও কথিত রথযাত্রাকে যেন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এর মূল কারণ, বিজেপি দলটির উত্থানই হয়েছে এই এক রথের মিছিলকে কেন্দ্র করে। সবচেয়ে বড় কথা, এই রথের মিছিলকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট হিন্দুত্ববাদী উত্তেজনার কারণেই ভাঙা হয়েছিল বাবরি মসজিদ। ভারতে কীভাবে হিন্দু জাতীয়তাবাদের উত্থান ঘটেছিলশিরোনামের বিবিসি রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে-

ভারতের রাজনীতিতে এক প্রধান শক্তি হিসেবে উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি-র অবস্থান সুসংহত হয়েছিল 'রথ যাত্রা' নামে এক কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে। এটি ছিল যাকে বলা হয় এক পরিকল্পিত 'রাজনৈতিক নাটক' - যার লক্ষ্য ছিল ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু জনগণের মনে বিজেপির রাজনীতির প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি করা।

এই রথযাত্রার পরিকল্পনা করা হয়েছিল উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির এক প্রচারমূলক মিছিল হিসেবে। এর সংগঠক ছিল বিজেপির নেতা লাল কৃষ্ণ আদভানি। সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, এটা চলবে কয়েক সপ্তাহ জুড়ে এবং ভারতের বিভিন্ন জায়গা হয়ে মোট ৮ হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে উত্তর প্রদেশ রাজ্যের শহর অযোধ্যা পর্যন্ত যাবে।

এই রথ যাত্রার মূল দাবি ছিল অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের পক্ষে জনমত সংগঠিত করা।

"যতই দিন যাচ্ছিল, রথযাত্রা ততই জনপ্রিয়তা পাচ্ছিল এবং জনসমাগমও ক্রমাগত বাড়ছিল। এতে বোঝা যাচ্ছিল যে বিজেপির জনপ্রিয়তা বাড়ছে, এবং এই যাত্রার মধ্যে দিয়ে মি. আদভানি তার পার্টির পক্ষে জনসমর্থনকে সংহত করতে পেরেছে। "

এই রথযাত্রার ফলে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৯২ সালে উগ্র হিন্দু করসেবকরা বাবরি মসজিদ ভেঙে দেয়। ধর্মীয় সহিংসতার কারণে ভারতে এক বিস্ফোরক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় প্রায় ২ হাজার লোক নিহত হয়।

"এটা ছিল এক কর্মসূচি যা আগেকার সব রাজনৈতিক হিসেবনিকেশ পাল্টে দেয়, এবং বিজেপির পক্ষে নিজেদের দলকে গড়ে তোলা সম্ভব হয়।"

"আজ বিজেপি যে ভারতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে তার মূলে রয়েছে সেই রথযাত্রা। এর ফলেই তারা পরিণত হয়েছিল প্রথমে প্রধান বিরোধীদলে, এবং তার পর ক্ষমতাসীন দলে। নিশ্চয়ই এ দলটিকে গড়ে তোলার কৃতিত্ব মি. আদভানির এবং কেউ তা অস্বীকার করতে পারবে না।" (https://bbc.in/3295lKA)

উল্লেখ্য, আমাদের দেশে যে সাম্প্রতিককালে রথের মিছিলকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে, এর মূল কারণ এদেশের হিন্দুরাও দাঙ্গা করতে চায়, মসজিদ ভাঙতে চায়। বিবিসির একটি সংবাদে এসেছে, "প্রায় তিন দশক আগে লালকৃষ্ণ আদভানির রথযাত্রাও কিন্তু এই রাস্তা দিয়েই যাচ্ছিল তখনও কিন্তু আমাদের মসজিদের ওপর ইটপাটকেল ছোঁড়া হয়েছিল, ইমামসাহেবকে আঘাত করা হয়েছিল ত্রিশূল দিয়ে। তবে আমরা ওই ঘটনায় তেমন কোনও ব্যবস্থা না নিয়ে আপোস করেছিলাম - কোনও মামলা হয়নি, কেউ গ্রেপ্তারও হয়নি।" (https://bbc.in/2NG3zgK)

স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে যে, হিন্দুরা মুসলমানদের পান থেকে চুন খসলেই মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করতে পারছে, বিপরীতে মুসলমানদের রক্তাক্ত করলেও তারা সব হিন্দু খারাপ নয়এই মন্ত্রে বশীভূত হয়ে নিশ্চুপ থেকেছে। সম্প্রতি জায়রা ওয়াসিম সিনেমা ছাড়ায় অনেক হিন্দু কটূক্তি করেছে, যে জায়রা নাকি সন্ত্রাসী হয়ে গিয়েছে। রথের মিছিলের সন্ত্রাস নিয়ে মুসলমানরা পাল্টা জবাব দিতে পারত, কিন্তু তারা অতিরিক্ত অছাম্প্রদায়িকতার দরুন কিছুই বলতে পারছে না।

যেসব হিন্দুরা রথ নিয়ে বের হয়েছে, তারা মসজিদ না ভেঙে, মুসলমান না মেরে ঘরে ফিরে যেতে বের হয়নি। সুতরাং যদি কথিত অছাম্প্রদায়িকতাবশতঃ রথকে মেনে নিতে প্রস্তুত হও, সেক্ষেত্রে মসজিদগুলোকে ধ্বংসপ্রাপ্ত ও অপবিত্র দেখতে প্রস্তুত হও। ভারতে প্রকাশ্যে জুমার নামাজ নিষিদ্ধ করার পরও যেহেতু অছাম্প্রদায়িকতাবশতঃ রথযাত্রাকে প্রতিহত করতে পারবে না, সেহেতু ত্রিশূলের আঘাতে রক্তাক্ত হতে এবং নিজ মা-বোনের ক্ষতবিক্ষত লাশ চোখের সামনে দেখতে বাঙালি মুসলমানরা এখনই প্রস্তুত হও।


শেয়ার করুন

লেখকঃ

পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট