জাতীয় সংগীত স্থায়ী কোন বিষয় নয়, পরিবর্তনশীল।


জাতীয় সংগীত অপরিবর্তনীয় বলে কোনো আইন নেই।
রবিন্দ্র লিখিত শিরকী ' আমার সোনার বাংলা' লেখা নিয়ে বিতর্ক বহু পুরনো। বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে লেখা এ গান দ্বীন ইসলাম উনার তাহযীব-তমাদ্দুন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনা বিরোধী। রবিন্দ্র দেশকে তার কথিত মা কালী, দুর্গার প্রতিরুপ বিবেচনা করে দেবীবন্দনা করে লিখেছে। বাংলাদেশে রবিন্দ্র লিখিত আমার সোনার বাংলার ২৫ লাইনের প্রথম ১০ লাইন পাঠ করানো হয়।
এ গান আগাগোড়াই শিরকী ভরপুর। অথচ আজকে মুসলিম এই দেশে মুসলমান সে শিরকি লেখা পাঠ করে থাকে। এমনকি মাদরাসায় পাঠ করতে বাধ্য করানো হচ্ছে! নাউযুবিল্লাহ। 
যার কারনে ৯৮ ভাগ মুসলিম এই দেশে শিরকী ' আমার সোনার বাংলা' নামক জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তনের জোর দাবী উঠেছে। কিন্তু প্রশাসন জনগনের মতকে তোয়াক্কা না করে জাতীয় সঙ্গীত নামক শিরকী লেখা বহাল রেখেছে।
যদিও বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংগীতবদলে ফেলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলরাজনৈতিকভাবেই প্রস্তাব আনা হয়েছিল 'আমার সোনার বাংলা' লেখাকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো গানকে জাতীয় সংগীত হিসেবে চালু করার।
জাতীয় সংগীত প্রথম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয় খন্দকার মোশতাক আহমেদের সরকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. দ্বীন মুহম্মদকে ওই কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়। কমিটিকে বলা হয় এক মাসের মধ্যে নতুন কোনো সংগীতকে জাতীয় সংগীতহিসেবে প্রস্তাব করতে।
রাজনীতি বিশ্লেষক ও ঐতিহাসিকরা বলছেন, দ্বীন মুহম্মদ কমিটি এ বিষয়ে তিনটি বৈঠক করে। সে কমিটি দুটো গানের একটিকে জাতীয় সংগীত করার প্রস্তাব করে প্রতিবেদন জমা দেয়। গান দুটো হলো, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের চল চল চলএবং ফররুখ আহমেদের পাঞ্জেরীকবিতা।
জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের দ্বিতীয় উদ্যোগ নেয়া হয় ১৯৭৯ সালের ৩০ এপ্রিলে। সে সময় ক্ষমতায় ছিলেন জিয়াউর রহমান।
ওই সময়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান এক গোপন চিঠিতে লেখেন, ‘রবীন্দ্রর লেখা একটি গান ভারতীয় জাতীয় সংগীত। সে বাংলাদেশের নাগরিক নয়আমার সোনার বাংলা গানটি আমাদের সংস্কৃতির চেতনার পরিপন্থী বিধায় জাতীয় সংগীত পরিবর্তন আবশ্যক।
ওই চিঠিতে আমার সোনার বাংলার পরিবর্তে প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশকে জাতীয় সংগীত করার প্রস্তাব করেন শাহ আজিজুর রহমান।কিন্তু ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের নিহত হলে সেই উদ্যোগ থেমে যায়। পাথরে চাপা পড়ে সেই নিদের্শনা।
জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের তৃতীয় দফার উদ্যোগ নেয়া হয় ২০০১-২০০৬ সালে ২০০২ সালের ১৯ মার্চ জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের লক্ষ্যে একটি যৌথ সুপারিশপত্র প্রধামন্ত্রীর কাছে জমা দেয়
স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, 'সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে আমাদের দ্বীন ইসলাম উনার মূল্যবোধ ও চেতনার আলোকে জাতীয় সংগীত সংশোধিত হওয়া প্রয়োজন'তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এই অনুরোধপত্রটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে পাঠান।কিন্তু সেই সরকারের আমলেই প্রস্তাবটি গৃহীত হয়নি। এরপর এ সম্পর্কে আর কোনো তৎপরতা নথিতে পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, জাতীয় সংগীত অপরিবর্তনীয় বলে কোনো আইন নেই। বিভিন্ন দেশে জাতীয় সংগীত বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে পরিবর্তিত হওয়ার উদাহরণও রয়েছে। যেমন-
ইরাক : সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর ২০০৪ সালে নতুন একটি সংগীতকে ইরাকের জাতীয় সংগীত হিসেবে সাময়িকভাবে নির্বাচিত করা হয়। তারা এখনও নতুন জাতীয় সংগীত খুঁজছে।
আফগানিস্থান : আফগান জাতীয় সংগীত এখন পর্যন্ত কয়েকবার পরিবর্তিত হয়েছে।
জার্মানি: দেশটির সমতা বিষয়ক কমিশনার ক্রিস্টিন রোজে-ম্যোরিং জাতীয় সংগীতে আরও বেশি লিঙ্গ সমতা আনার প্রস্তাব করেছে৷ সে গানের যে অংশে ফাটারলান্ডঅর্থাৎ পিতৃভূমিবলা হচ্ছে, সেখানে হাইমাটঅর্থাৎ জন্মভূমিলেখার প্রস্তাব দিয়েছে৷
অস্ট্রিয়া: ২০১২ সালে অস্ট্রিয়ার জাতীয় সংগীতে ছেলেরা’-র জায়গায় মেয়েরা এবং ছেলেরালেখা হয়৷
ক্যানাডা: উত্তর অ্যামেরিকার এই দেশটিও সম্প্রতি তাদের জাতীয় সংগীতকে আরও নিরপেক্ষ করেছে৷
নেপাল: ২০০৮ সালে নেপালে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হয়৷ তার আগের বছর নেপালে নতুন একটি গানকে জাতীয় সংগীতের স্বীকৃতি দেয়।
রুয়ান্ডা: গণহত্যা পরবর্তী রুয়ান্ডার ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে দেশটি ২০০১ সালে একটি নতুন জাতীয় সংগীত বেছে নেয়৷
দক্ষিণ আফ্রিকা: দেশটি ১৯৯৭ সালে আগের দুটি জাতীয় সংগীত থেকে কিছু অংশ নিয়ে নতুন একটি জাতীয় সংগীত তৈরি করে৷ আফ্রিকান্স ও ইংরেজি ভাষায় গানটি রচিত৷ তবে আফ্রিকান্স ভাষার অংশটি বর্ণবাদ আমলে ব্যবহৃত জাতীয় সংগীতের অংশ হওয়ায় এর সমালোচনা করে অনেকে৷ নেলসন ম্যান্ডেলা সেটি রিকনসিলিয়েটরি ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণবাদ-পরবর্তী দক্ষিণ আফ্রিকার সংগীত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছিল৷
রাশিয়া: ভ্লাদিমির পুটিন ২০০০ সালে রুশ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর ১৯৯০ সালের আগে ব্যবহৃত জাতীয় সংগীত ফিরিয়ে আনে৷ তবে গানের কথায় কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়৷ ১৯৯০ সালে যে জাতীয় সংগীত গ্রহণ করা হয়েছিল তাতে কোনো কথা না থাকায় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া অ্যাথলিটরা এর সমালোচনা করেছিল৷ তাদের বক্তব্য ছিল, কথাবিহীন গান তাদের নাকি উদ্বুদ্ধ করতে পারেনি৷
তার মানে চাইলেই জনগণের মতামতকে মুল্যায়ন করে জাতীয় সংগীত পরিবর্তন করা যায়। যেহেতু মুসলমান উনারা চাচ্ছেন ইসলামবিদ্বেষী রবিন্দ্র লিখিত শিরকী 'আমার সোনার বাংলা' পরিবর্তন করে দ্বীন ইসলামভিত্তিক লেখা জাতীয় পাঠ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে, সেহেতু সরকারকে অবশ্যই শিরকী, দেবী বন্দনায় ভরপুর 'আমার সোনার বাংলা' গান বাতিল ঘোষনা করে  দ্বীন ইসলামভিত্তিক লেখা জাতীয় পাঠ হিসেবে ঘোষনা করতে হবে।


শেয়ার করুন

লেখকঃ

পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট